আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জ্বালাও পোড়াও বিএনপির স্ট্র্যাটেজি ॥ অচলাবস্থা সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী পরিকল্প

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আন্দোলনে জনসমর্থনের ধারাবাহিক ঘাটতিতে সহিংসতার পথে নিয়ে গেছে দলটিকে

রশিদ মামুন ॥ দেশের অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। তারই অংশ হিসেবে দলটি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। নির্বিঘেœ কর্মসূচী পালনের সুযোগও নিতে চাচ্ছে না দলটি। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচী জনসম্পৃক্ত করে তুলতে না পারা এবং আন্দোলনের জন্য নতুন ইস্যু সৃষ্টির ব্যর্থতায় সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে দলটি। এখন দলের কর্মসূচীও আসে অজ্ঞাত স্থান থেকে। মাঠেও দেখা যায় না দলীয় কোন নেতাকর্মীকে। গত দুই বছরের রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৬ মার্চ ২০১৩ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা পরপর ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এর প্রতিবাদে ৭ মার্চ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে দলটি। পরে পুলিশ ওই ককটেল নিক্ষেপকারীদের গ্রেফতার করে। তদন্তে দেখা যায় হরতালের ইস্যু সৃষ্টির জন্যই ওই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপরও দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ১৮ ও ১৯ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালন করে ১৮ দলীয় জোট। ঠিক ওই বছর ফেব্রুয়ারির দিকে তাকালে দেখা যায় মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল ২৮ তারিখ ফাঁসি দিলে ওইদিন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে জামায়াত। সারাদেশে সহিংসতা চালায় জামায়াত-শিবির। একই সঙ্গে এই রায়ের বিরুদ্ধে ৩ ও ৪ মার্চ ২০১৩ দেশে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকে দলটি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এর ঠিক পরের দিন ৫ মার্চ মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন। বিএনপির ডাকা হরতালে সমর্থন দেয় জামায়াত। এভাবে ২০১৩ সালেই ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২১৫ দিন হরতালে কেটেছে। এর কোনটা দেশব্যাপী, কোনটা নির্দিষ্ট অঞ্চলজুড়ে। এরপরের বছর ২০১৪ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। গত বছর ১৬ দিনের হরতালের মধ্যে জোটবদ্ধভাবে বিএনপি ৬ দিনের হরতাল করেছে। বাকি ১০ দিন হরতাল করেছে জামায়াত। তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বিভিন্ন মামলার রায়ের পর এই হরতাল আহ্বান করে দলটি। এমনকি গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ জনসভায় বেগম জিয়া ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু একেবারে বছরের শেষ দিকে এসেও আন্দোলন কর্মসূচী জমিয়ে তুলতে না পারায় টানা অবরোধের ডাক দেয় দলটি। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন সুযোগ না পেয়ে এই কৌশল থেকে সরে আসছে না দলটি।

রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে কেবল জোট প্রধানের জনসভা ছাড়া আর কোন কর্মসূচীতে মানুষের সাড়া পাওয়া যায়নি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের কোথাও ঘোষিত কর্মসূচীতে নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের নির্দেশ মাঠে নেমে আসেনি। হরতাল-অবরোধ তো দূরের কথা এখন দলটি বিক্ষোভ কর্মসূচী ডেকে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। একের পর এক সহিংস পরিস্থিতির জন্য ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক সংগঠনটি। নাশকতার জন্য জনমত যাকে দেশের সুষ্ঠু রাজনৈতিক বিকাশে হুমকি বলে মনে করছে। সরকারের তরফ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে বাধা না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ের বাইরে বের হচ্ছেন না। দলীয় শীর্ষ নেতারাও অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচী ঘোষণা করছেন।

আন্দোলনের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যাকে বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশও ভাল চোখে দেখছে না। ইতোমধ্যে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, উইরোপীয় উইনিয়ন, বিট্রিশ রাষ্ট্রদূত এবং ভারত। সম্প্রতি দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতির মূল্যায়নেও বিএনপির জনসমর্থন কমার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের আরেকটি মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়েছে, টানা অবরোধ ও পেট্রোলবোমা হামলায় বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দল বিএনপির পেছনে যথেষ্ট জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও গত এক মাসের টানা অবরোধ বা পেট্রোলবোমা-হামলার জেরে সেই জনপ্রিয়তায় ধীরে ধীরে ভাটা পড়েছে। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ক্লান্ত, বিরক্ত হয়ে পড়েছেন বলেই তাদের ধারণা।

উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী জোর করে কাউকে হরতাল পালনে বাধ্য করা বা হরতালে বাধা সৃষ্টি করা, ভাংচুর করা, মারামারি করা ইত্যাদি প্রচলিত আইনেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য রয়েছে। দ-বিধিসহ অন্যান্য আইনে ওইসব অপরাধের শাস্তির সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। এমন কাজকে নতুনভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নতুনভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশের প্রয়োজন নেই। ২৮ বিএলডি (আপীল বিভাগ) ২০০৮, পাতা ৫৪-৬০ এ রায়টি সন্নিবেশিত আছে। হরতালের বৈধতা বিষয়ে আপীল বিভাগের ওই রায়ের ৩৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়, বলপ্রয়োগে পালিত যে হরতাল সহিংসতা ছড়ায়, মৃত্যু ঘটায় এবং নাগরিকের জানমালের ক্ষতিসাধন করে, সে হরতাল কেবল অবৈধই নয়, তা ঘৃণিত এবং প্রচলিত আইনে দ-যোগ্য। ৪৫ অনুচ্ছেদে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের ভয় কিংবা সহিংসতা বা সহিংসতার ভয় দেখিয়ে কার্যকর হরতাল কেবল অবৈধ নয়, দ-বিধিসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য ফৌজদারি আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে বিএনপি হরতাল ডেকে মাঠে থাকুক বা না থাকুক। আড়াল থেকে জামায়াতের হরতালকে সফল করার জন্য চেষ্টা করেছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকার পতন ঘটাতে পারলেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার বানচাল করা সম্ভব বলে মনে করছে দলটি। এখন পর্যন্ত সহিংসতা সৃষ্টি করতে গিয়ে গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগই জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী। প্রকাশ্যে বিভিন্ন পন্থায় পেট্রোলবোমা তৈরি, বোমা তেরি করার এবং নাশকতার জন্য বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করছে জামায়ত শিবিরের কর্মীরা।

বিগত ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের হরতাল অবরোধের কারণগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে বিএনপি আন্দোলনের জন্য নতুন নতুন ইস্যু সৃষ্টি করতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা দলীয় নেতাকর্মীরাও কোন আন্দোলন কর্মসূচীতে যোগ দিতে আগ্রহ দেখায়নি। ধারাবাহিক আন্দোলনে সহিংসতা ছাড়া নতুন কিছু না থাকায় জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচী ঘোষণা করেও দলের কোন নেতাকর্মী মাঠে নামছেন না। সারাদেশে বিএনপির তৃণমূলের কোন নেতাকর্মী কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায় যে লোক এসেছিলেন তার ছিটেফোটাও দলীয় কোন কর্মসূচীতে আসছে না। বিএনপি তাদের সাংগঠনিক দৃঢ়তার পরিচয় বলে উল্লেখ করেছিল ওই লোকসমাগমকে। কিন্তু শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচী ডেকে ধাক্কা খেয়েছে দলটি। বিক্ষোভ ঘোষণার আগে বিএনপির তরফ থেকে বলা হয় বাধা দিলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে। পুলিশ বিক্ষোভে বাধা দিচ্ছে কি না তা না দেখেই ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে আবারও হরতাল আহ্বান করে দলটি।

দেখা যায়, ২০১৪ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ বড় জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। বছরজুড়ে এসব সমাবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। বিএনপি বলছে, বছরের ২ মার্চ রাজবাড়ী, ১৪ মে নারায়ণগঞ্জ, ২৮ মে মুন্সীগঞ্জ, ২২ জুন জয়পুরহাট, ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৮ সেপ্টেম্বর জামালপুর, ২৪ অক্টোবর নীলফামারী, ২ নবেম্বর নাটোর, ১৩ নবেম্বর কিশোরগঞ্জ, ২৯ নবেম্বর কুমিল্লা, ১৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জনসভায় ভাষণ দেন বেগম জিয়া। এরপর বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডনে দেয়া বক্তব্যে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যায়। বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার বলায় ছাত্রলীগ ঘোষণা দেয় তারেক রহমান ক্ষমা না চাইলে বিএনপিকে টঙ্গীতে জনসভা করতে দেয়া হবে না। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব যে কোন মূল্যে টঙ্গীর জনসভায় ভাষণ দেবেন বলে জানান। কিন্তু বিএনপি জনসভা করার বিন্দুমাত্রও চেষ্টা করেনি। ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ ছাত্রলীগ বিএনপির ব্যানার ফেস্টুন নামিয়ে ফেললেও কোন নেতাকর্মী তা পুনরায় টানাতে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। মূলত গাজীপুরের বিএনপির রাজনীতিতে মেয়র এম এ মান্নান গ্রুপ এবং হাসান উদ্দিন সরকার গ্রুপের কেউ জনসভা আয়োজনের দায়িত্ব না নেয়াতে বিএনপি চেয়ারপার্সন টঙ্গী যেতে পারেননি। এদের দুজনের নেতৃত্বে বিএনপির দুটি ধারা গাজীপুরে সক্রিয়। অন্তঃকোন্দল সামাল দিয়ে বিএনপির কেন্দ্র থেকেও ২৯ ডিসেম্বর টঙ্গীতে সমাবেশ করতে যাওয়ার সাহস দেখানো হয়নি। নিজেদের কোন্দল সামাল দিতে না পারার মাশুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিএনপি ওইদিন হরতাল ডাক দেয়। শুরু হয় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেনি বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়া এবং খালেদা জিয়া নিজে গুলশানের বাসায় আটকে পড়ায় রাজধানীর রাজপথে কোন নেতাই নামেননি। এরপর এক বছর স্বাভাবিক আন্দোলন করলেও ৫ জানুয়ারিতে ঘিরে দলটি আবার নাশকতার সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এ লক্ষ্য নিয়ে ৩ জানুয়ারি রাতে বাসা থেকে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, ৪ জানুয়ারি রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের জাতীয় প্রেসক্লাবে রাতে চলে আসার খবর ছিল তাদের কাছে। প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছে বিএনপিপন্থী সাংবাদিক নেতারা বেগম জিয়ার থাকার জন্য একটি কক্ষ ঠিক করেছিলেন। ঢাকার মধ্যভাগে অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা ছিল তাদের। পরবর্তীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রেসক্লাবে অবস্থান নেন। সাংবাদিক নেতাদের চাপে তিনি প্রেসক্লাব ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু ৫ জানুয়ারি বের হতে না পারার পর বিএনপির তরফ থেকে দলীয় চেয়ারপার্সনের অফিসের সামনে থেকে বাধা সরিয়ে নেয়ার দাবি জানানো হয়।

নেতাকর্মীরা মাঠে না নামায় অবরোধ কর্মসূচী সফল না হওয়ায় এক পর্যায়ে অবরোধের মধ্যেই হরতাল পালন করতে থাকে বিএনপি। সেই সঙ্গে অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমাসহ নাশকতামূলক কর্মকা-ও বাড়তে থাকে। এর ফলে সারাদেশে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে থাকে। কিন্তু বিশ্ব এজতেমায়ও আন্দোলন কর্মসূচী স্থগিত না করায় জনমনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয় ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনে টানা হরতাল দিয়ে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়ায় বিএনপি সম্পর্কে জনমনে ঘৃণার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ধারাবাহিক কঠোর সমালোচনার পরও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া পরীক্ষার সময় হরতাল স্থগিত না করায় এক পর্যায়ে তার গুলশান কার্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতিদিন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। কিন্তু তারপরও আন্দোলন কর্মসূচী স্থগিত করছে না বিএনপি।

এদিকে নেতাকর্মীরা মাঠে না নামায় এবং জনগণ বাস্তবতার তাগিদে আন্দোলনকে উপেক্ষা করায় বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ক্রমেই অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যানবাহন চলাচলসহ মানুষের জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তারপরও বিএনপির পক্ষ থেকে দফায় দফায় বিবৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে সরকার তাদের দাবি মেনে না নিলে আরও হরতালসহ আইন অমান্য ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু করবে। এ কথা শুনে জনমনে আবারও নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: