কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ক্যাম্পাস সংবাদ

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • শেকৃবিতে পিঠা উৎসব

হরেক রকমের পিঠা। ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা, চুঙ্গা পিঠা, তালের পিঠা, দুধ চিতই কত কী বিচিত্র সব পিঠার নাম! গ্রামীণ সমাজ-সংস্কৃতিতে প্রচলিত লোকখাদ্যের এ স্বাদ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও নগরের বাসিন্দারাও পেলেন। গ্রামবাংলার কিছু ঐতিহ্যবাহী পিঠা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাংস্কৃতিক সংগঠন গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করেছিল এ পিঠা উৎসব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লিচু তলায় উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা পিঠা উৎসব-২০১৫-এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপাচার্যের পতœী, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী প্রফেসর আবু নোমান ফারুক আহমেদ, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বশিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কসের পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন এবং সদস্য সচিব মো. কাওসার আলম নাদিম।

উদ্বোধনের পর পরই পড়ে যায় পিঠা খাওয়ার ধুম। এবারের পিঠা উৎসবে ৬টি স্টলে প্রায় এক শ’ প্রকারের পিঠার সম্ভার ঘটান আয়োজকরা। এ ছাড়াও নানা রঙে নানা ঢঙে এবং পুতুলের ছাঁচে তৈরি করা হয় স্টলগুলোর পিঠার সমাহার। দামও খুব চড়া ছিল না। প্রতিটি পিঠা ১০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। একদিকে পিঠা খাওয়ার ধুম অন্যদিকে বাঙালী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশীয় সংগীত, কৌতুক ও নাটক পরিবেশন করা হয়। আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, বাঙালীর এ ঐতিহ্যকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এ আয়োজন।

বিইউপিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ উদ্বোধন

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) এ ডিজাস্টার অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (সম্মান)- ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গতকাল বিইউপির বিজয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ফ্যাকাল্টি অব সিকিউরিটি এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ডিন কমোডর জোবায়ের আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফ্যাকাল্টি অব আর্টস এ্যান্ড সোশাল সাইন্সের ডিন এয়ার কমোডর ড. এসএমজি ইয়াজদানী স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর বিইউপি রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মির্জা বাকের সারোয়ার আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা একটা জাতির আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। শিক্ষা আমাদের চিন্তা ও উপলব্ধির বিস্তার ঘটায়; আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে করে উদার ও গণতান্ত্রিক। জাতির দক্ষতা, প্রবৃদ্ধি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্রায়ন, দারিদ্র্যবিমোচন সবকিছুই শিক্ষার ওপর নির্ভর করে। এই জন্যেই বাংলাদেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে মানব সম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তিমনস্ক ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রয়াসে বিইউপি নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিইউপির বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

সন্ত্রাসের শিকার শিক্ষার্থীরা

চলমান হরতাল-অবরোধে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে বাদ যায়নি এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও। এসএসসি পরীক্ষার সময়ও দেয়া হয়েছে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচী। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সর্ম্পকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন -

জাকির হোসেন তমাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী লিটন নন্দী বলছিলেন, দেশের যে অস্থিরতা তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নয়। এই অস্থিরতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা যেমন পেছানো হচ্ছে তেমনি স্থবির হয়ে পড়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকা-। হরতাল-অবরোধের মধ্যে শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা নিলেও শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইনু ইসলাম বলেন, হরতাল-অবরোধে শুধু শুক্র ও শনিবার ক্লাস পরীক্ষা নেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা যারা ক্যাম্পাসের হলে থাকি তাদের হয়ত কোন সমস্যা হচ্ছে না। যারা হলে থাকছেন না তাঁদের ক্লাসে আসা সমস্যাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রতিবারের মতো এবারো আমাদের ক্যাম্পাসে চলমান সকল পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি থেকে আমাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পেছানো হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম বলেন, শীতকালীন ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়নি। দেশের এই অবস্থায় বাবা-মা বাড়ি থেকে যেতে দিচ্ছে না। ক্যাম্পাসে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া হচ্ছে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম মাহি ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান, দেশের হরতাল-অবরোধে আমাদের ক্যাম্পাসে প্রথম সপ্তাহ ক্লাস-পরীক্ষা পুরোটাই বন্ধ ছিল। পরে ধীরে ধীরে সেই অচলাবস্থা কাটতে থাকে। হরতাল-অবরোধ থাকলেও এখন ক্যাম্পাসের সকল বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা প্রায় অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে যেসব শিক্ষক ক্যাম্পাসের বাইরে অর্থাৎ ঢাকায় থাকছেন তাঁরা না আসায় ক্লাস পরীক্ষার কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তন্ময় ধর বলছিলেন, হরতাল-অবরোধে ক্লাস পরীক্ষা বিঘিœত হচ্ছে।

যদিও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় কখনও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রভাব পড়ে না, কিন্তু এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বন্ধ থাকায় অনেক বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাশিদুল সামির বলেন, মাসব্যাপী চলা দেশের হরতাল-অবরোধের মধ্যে ক্যাম্পাসে যে অচলাবস্থা চলছিল তা অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত শনিবার অনেক বিভাগেই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ঢাকা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট রাজনীতির নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে. যার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: