মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজধানীর ১২ এলাকায় গ্যাসে প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি চালু হচ্ছে

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ রাজধানীর ১২টি এলাকায় চালু হচ্ছে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার। এসব এলাকার দুই লাখ গৃহস্থালি এই মিটার সিস্টেমের আওতায় আসছে। ফলে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় গৃহস্থালি পর্যায়ে ব্যবহৃত গ্যাসের অপচয় রোধের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমে আসবে। সেই সঙ্গে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৩৬ কোটি ৭৪ লাখ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ সহায়তা থেকে ৪৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য এস এম গোলাম ফারুক পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেছেন, বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ইন্সটলেশন অব প্রি-পেইড গ্যাস মিটার ফর টিজিটিডিসিএল শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ১৭ নবেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের এ প্রকল্পটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাই এ প্রকল্প প্রস্তাবটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। রাজধানীর যেসব এলাকা প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসছে সেগুলো হলো ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাড্ডা, গুলশান, তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তর খান, দক্ষিণ খান, উত্তরা, পূর্বাচল এবং ঝিলমিল এলাকা। বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) আওতাভুক্ত এলাকায় আবাসিক সংযোগে উন্নতর ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করার মাধ্যমে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য এ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে টিজিটিডিসিএল। সম্ভাব্যতা যাচাই বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই জাইকা একটি প্রিপারেটরি সার্ভে করেছে। সেই সার্ভের ফলাফল ও সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় দুই লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং ওয়েব সিস্টেম স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থবছরভিত্তিক প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দের চাহিদা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে ১১ কোটি ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০ কোটি ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪২ কোটি ৬৯ লাখ ৭ হাজার টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২৬ কোটি ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২৯ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ২২ হাজার টাকা।

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: