মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পাঁচ বছরে এক কোটি ৩২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ লক্ষ্য ধরা হচ্ছে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ আগামী পাঁচ বছরে নতুন ১ কোটি ৩২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করছে সরকার। দেশী ও বিদেশী মিলে এ পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে বলে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত) এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে গত ৫ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্বে নিয়োজিত সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, অর্থনৈতিক সূচকগুলো এখন ভাল। দেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে অগ্রসরমান যা অতীতের যে কোন প্রবৃদ্ধি প্রবণতা থেকে অনেক বেশি গতিময় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি অতীতের সমস্ত অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিবছর দেশে ও বিদেশে মিলে গড়ে ২০ দশমিক ০১ লাখ নাগরিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এই ধারাবাহিতা অব্যাহত থাকলে এবং রাজনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে আগামী বছরগুলোতে কর্মসংস্থান আরও বাড়বে। এজন্য সবকিছু বিবেচনা করে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১ কোটি ৩২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ৫ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের মাইলফল ছুয়েছে সরকার, যা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে।

তৈরি হতে যাওয়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়, পাঁচ বছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৮ শতাংশ। অর্থবছর ভিত্তিক ২০১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, ২০১৭ অর্থবছরে ছয় দশমিক আট শতাংশ, ২০১৮ অর্থবছরে সাত দশমিক দুই শতাংশ, ২০১৯ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় শতাংশ এবং পরিকল্পনা বছর শেষে ২০২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে আট শতাংশে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে দেশের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য মাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় দশমিক দুই শতাংশ। অর্থবছর ভিত্তিক এ লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৬ অর্থবছরে ছয় শতাংশ, ২০১৭ অর্থবছরে ছয় শতাংশ, ২০১৮ অর্থবছরে ছয় শতাংশ, ২০১৯ অর্থবছরে ছয় দশমিক দুই এবং ২০২০ অর্থবছরে ছয় দশমিক দুই শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি ২০১৫ সালের জুনে শেষ হতে যাওয়া ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন বেশি হবে। এক্ষেত্রে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে সরকার। দেশ ও বিদেশে মিলে এ পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে বলে এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। সংস্থাটির এ হিসাবে চলমান ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অতিক্রম করেবে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৮৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে, এর মধ্যে বিদেশে প্রায় ২৬ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের এ পূর্বাভাস সঠিক হলে তা চলমান ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যের চেয়ে বেশি হবে। এক্ষেত্রে পরিকল্পনায় ধরা হয়েছে ২০১৫ সালের মধ্যে ৯২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। এর আগের এক প্রতিবেদনে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ বলেছিল যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেকারত্বের হার কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তার গতি পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় ধীর। নারীদের ক্ষেত্রে চিত্র ছিল বিপরীত। ২০০৫-০৬ সালের লেবার ফোর্স সার্ভেতে নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল সাত শতাংশ, যা ২০১০ সালের একই সার্ভেতে নেমে এসে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক আট শতাংশে।

মোট বেকারত্বের হার ২০০৬ সালের তুলনায় সামান্যই বেড়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে সামগ্রিক বিবেচনায় দেশের অর্থনীতি যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে সমৃদ্ধ, বিস্তৃত, স্থিতিশীল এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সেসময় মোট কর্মসংস্থান হয়েছিল এক দশমিক ৯৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশী এক দশমিক ৬৬ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছিল শূন্য দশমিক ২৯ মিলিয়ন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সেসময় মোট কর্মসংস্থান হয়েছিল দুই দশমিক নয় মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশীয় এক দশমিক ৪৪ মিলিয়ন এবং বৈদেশিক শূন্য দশমিক ৬৫ মিলিয়ন। ২০০৯-১০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সেসময় মোট কর্মসংস্থান হয়েছিল এক দশমিক ৯৪ মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশীয় এক দশমিক ৫২ এবং বৈদেশিক শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন। ২০১০-১১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। সে সময় মোট কর্মসংস্থান হয়েছিল দুই দশমিক ১২ মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশীয় এক দশমিক ৬৮ এবং বৈদেশিক শূন্য দশমিক ৪৪ মিলিয়ন। ২০১১-১২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। সে সময় মোট কর্মসংস্থান হয়েছিল দই দশমিক ২৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশীয় এক দশমিক ৫৬ এবং বৈদেশিক শূন্য দশমিক ৬৯ মিলিয়ন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এ সময় মোট কর্মসংস্থান হয় এক দশমিক ৯৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশীয় এক দশমিক ৫১ মিলিয়ন এবং বৈদেশিক শূন্য দশমিক ৪৪ মিলিয়ন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: