কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাদারীপুরে আর্সেনিক ॥ আক্রান্ত ১২ শতাধিক

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আঠারো জনের মৃত্যু

সুবল বিশ্বাস, মাদারীপুর ॥ জেলায় একে একে বাড়তে শুরু করেছে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারীভাবে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। বর্তমানে জেলায় ১২ শতাধিক রোগী আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ১৮ জন। এরা হলেন, সদর উপজেলার দত্তেরহাট গ্রামের শেফালী বেগম শিমু, জাহানারা বেগম, একলাচ বেপারী, রাবেয়া বেগম রেবা, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন, কবির মাস্টার ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম, সায়েম ফরাজী, আপাসী গ্রামের মুকুল বেপারী, খোয়াজপুরের খালেদা বেগম, আব্দুল হাই উকিল, নাজির আহম্মেদ উকিল, রিনা আক্তার, হেনা বেগম, বড় বাহাদুরপুর গ্রামের কেশব হাজরা, রাজৈর উপজেলার হৃদয়নন্দী আদর্শগ্রামের রাশেদা বেগম। মাদারীপুর জেলায় ৮৭% নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত করে আর্সেনিক মিটিকেশন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, বেসরকারী সংস্থা আরএসডিসি, জিসিডিপি, গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা, কেয়ার বাংলাদেশ। অথচ আর্সেনিকের এ ভবায়তা শর্তেও সিভিল সার্জন কিছুই জানেন না। তবে সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের দত্তেরহাট, গাজিরচর, দত্তকেন্দুয়া, খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবাজার, রাজারচর, জমাদারকান্দি ও রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের হৃদয়নন্দী আদর্শগ্রামে সবচেয়ে এ রোগের ভয়াবহতা বেশি। এছাড়া কালকিনি উপজেলার সিডিখান, সাহেবরামপুর, রমজানপুর, ঠেঙ্গামারা এবং শিবচর উপজেলার বহেরাতলা, দত্তপাড়া, উমেদপুর, শিরুয়াইল, নিলখী, মাদবরেরচর, সন্ন্যাসিরচরেও বেশ কিছু রোগী রয়েছেন। গত কয়েক বছরে বেসরকারী কয়েকটি সংস্থা এ রোগ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলেও এ রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে দিন দিন আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। অগভীর নলকূপের পানি পান করার কারণে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বেসরকারী কয়েকটি সংস্থা হিসাব অনুযায়ী পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ১২ শতাধিক রোগী চিহ্নিত হয়েছে। অথচও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এর কোন তথ্যই নেই। আর্সেনিকোসিস রোগ নিয়ন্ত্রণে মাদারীপুরের বেসরকারী সংস্থা গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা প্রথম থেকে কাজ করে। এরপর অংকুর পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্র গভীর নলকূপ স্থাপনসহ বিনামূল্যে রোগীদের ওষুধ বিতরণ করে। এছাড়াও মানব শক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র গত কয়েক বছর যাবত আর্সেনিকোসিস রোগ নিয়ন্ত্রণে ৬ সহস্রাধিক পানি শোধক সনোফিল্টার বিনামূল্যে বিতরণ করে। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, মাদারীপুরের সদর, কালকিনি, রাজৈর ও শিবচর উপজেলায় বর্তমানে আর্সেনিক আক্রান্ত ১২শ’রও বেশি রোগী রয়েছে। প্রথম থেকে এলাকার অনেক রোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮ জন। এর মধ্যে গত ৪ বছরে মারা গেছেন অন্তত ৬ জন।

সদর উপজেলার দত্তেরহাট এলাকার আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত রোগী রুনা বেগম জানান, তিনি গত ১২ বছর যাবত আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হলেও পাননি সরকারী কোন সহায়তা। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তার পরিবারের ২ সদস্য ইতোমধ্যে মারাও গেছে। বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তার।

দত্তেরহাট গ্রামের রাজ্জাক বেপারী জানান, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছরে তার এক চাচি মারা গেছে। তার আগে মারা গেছেন তার চাচা। তার পরিবারের কয়েকজন এখন গুরুতরভাবে এ রোগে আক্রান্ত।

রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের হৃদয়নন্দী আদর্শগ্রামের চেয়াররুন নেছা জানান, ‘এ গ্রামের আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত ৩ শতাধিক রোগী রয়েছে। কিছুদিন আগে গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা বৃষ্টির পানি শোধন কূপ স্থাপন করেছিল। তা এখন অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।

বেসরকারী সংস্থা অংকুর পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক আইয়ুব আলী তালুকদার বলেন, ‘২০০২ সালে জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ দেখতে পাই। যে সব রোগী বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসে তাদের ব্যবস্থাপত্র দেখে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেছি।’

বেসরকারী সংস্থা মানব শক্তি উন্নয়ন কেন্দ্রের ম্যানেজার মইদুল ইসলাম বলেন, সংস্থার বাজেট অনুযায়ী বিনামূল্যে এ পর্যন্ত ৬ হাজারেরও বেশি পানি শোধন সনোফিল্টার বিতরণ করা হয়েছে।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বর্তমানে আর্সেনিকে আক্রান্ত কোন রোগী মাদারীপুর জেলার কোথাও নেই। তবে কোন বেসরকারী সংস্থা যদি সন্দেহ করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করে নিতে হবে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ জানালেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। কোন অবস্থাতেই এ রোগ আর বাড়তে দেয়া হবে না।

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: