মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মোস্তফা জব্বার

॥ শেষ কিস্তি ॥

কৌশল ৩ : ডিজিটাল জীবনধারা ও জন্মের ঠিকানায় বাংলাদেশ : ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে ডিজিটাল জীবনধারা গড়ে তোলা। দেশের সকল নাগরিককে ডিজিটাল যন্ত্র-প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারার সক্ষমতা দিয়ে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে এবং তার চারপাশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যাতে তার জীবনধারাটি ডিজিটাল হয়ে যায়। শিক্ষার যে পরিবর্তনের কথা আমরা বলেছি তার সঙ্গে সরকারের যে রূপটির বিবরণ আমি দিলাম তেমনটি বাস্তবায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারী ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা ও সেবাকে ডিজিটাল করা হলে দেশের মানুষের জীবনধারা ডিজিটাল হয়ে যাবে। এর মাঝে দেশের ব্যাঙ্কিংব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও নাগরিকদের পরস্পরের যোগাযোগসহ গণমাধ্যম ডিজিটাল হলে ডিজিটাল জীবনধারা গড়ার জন্য সহায়ক পরিবেশটি তৈরি হয়ে যেতে পারে। দেশের সকল মানুষকে ডিজিটাল সভ্যতা, তার বিকাশ ও অনিবার্যতা সম্পর্কে দেশের সকল মানুষকে সচেতন করতে হবে। ডিজিটাল সভ্যতার জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক মান গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে একটি কৃষিভিত্তিক সমাজের সাংস্কৃতিক মানকে ডিজিটাল যুগের স্তরে উন্নীত করা একটি কঠিনতম কাজ। এর জন্য শিক্ষা-প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণমাধ্যম, রাজনীতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমি এই কৌশলের জন্যও ছয়টি কর্ম পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করছি।

ক. দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম প্রতিটি নাগরিকের জন্য কমপক্ষে ১ এমবিপিএস (ব্রডব্যান্ড) ব্যান্ডউইথ সুলভ হতে হবে। দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে এই গতি নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতে পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা-উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারী অফিস-আদালত, শহরের প্রধান প্রধান পাবলিক প্লেস, বড় বড় হাট-বাজার ইত্যাদি স্থানে ওয়াইফাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। অন্যদিকে রেডিও-টিভিসহ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- সকল ব্যবস্থা ইন্টারনেটে-মোবাইলে প্রাপ্য হতে হবে। প্রচলিত পদ্ধতির অফিস-আদালত-শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বলা যেতে পারে এটি হবে ইন্টারনেট সভ্যতা।

খ. ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা, আইন-আদালত, সালিশ, সরকারী সেবা, হাট-বাজার, জলমহাল, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ জীবনের সামগ্রিক কর্মকা- ডিজিটাল করতে হবে।

গ. মেধাশিল্প ও সেবা খাতকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্পনীতি তৈরি করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি। সেজন্য শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিবিষয়ক নীতি ও কর্মপন্থাকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযোগী করতে হবে।

ঘ. দেশের সকল আইনকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযোগী করতে হবে। মেধা সংরক্ষণ ও এর পরিচর্যার পাশাপাশি সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ঙ. ডিজিটাল বৈষম্যসহ সমাজে বিরাজমান সকল বৈষম্য দূর করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চ. বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে তার জন্মের অঙ্গীকারে স্থাপন করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার পাশাপাশি দেশকে জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধতা, সন্ত্রাস ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং একাত্তরের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের নীতি ও আদর্শকে গড়ে তুলতে হবে।

আমি আমার আলোচনায় সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে বাধ্যতামূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শেখার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের যে বিষয়গুলোর কথা বলেছি তার সঙ্গে যদি সরকারের বাইরের অংশ বেসরকারী অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল হয়ে যায় তবে বাংলাদেশ তার স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে সহজে।

দেশটা ডিজিটাল হলো কিনা তার প্যারামিটার কিন্তু ডিজিটাল জীবনধারা দিয়েই দেখতে হবে। ফলে এই কৌশলটির দিকে তাকিয়েই আমরা অনুভব করব কতটা পথ হেঁটেছি।

সার্বিক বিবেচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ কেবলমাত্র প্রযুক্তির প্রয়োগ নয়, এটি বস্তুত একটি রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ। ধর্মভিত্তিক জঙ্গীরাষ্ট্র গড়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়া যায় না। বরং ডিজিটাল বাংলাদেশ আন্দোলনটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রবাহমান ধারারই অংশ। এই ধারার দুই প্রান্তে যে দুই ধারার মানুষেরা অবস্থান করছে তার একটি সমীকরণ করা প্রয়োজন। খুব স্পষ্ট করে এটি বলা দরকার যে, এই রেখার একদিকে রয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং অন্যদিকে রয়েছে একাত্তরের বিজয়ীরা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে লড়াইয়ের এই মাত্রাটি জনগণের মাঝে তেমনভাবে স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি।

বস্তুত ২০১৮ সালের মাঝেই আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হবে। বিগত ছয় বছরের অভিজ্ঞতায় আমি নিশ্চিতভাবেই এটি বলতে পারব যে, সেটি আমাদের পক্ষে করাও সম্ভব। যদিও পুরো কাজটির জন্য আমাদের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়েছে তথাপি, যে জাতি নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে সেই জাতি সামনের পাঁচ বছরের মাঝেই ডিজিটাল বাংলাদেশও গড়তে পারবে। তবে ২০১৮ সালে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমরা হয়ত দেখতে পাব যে, কিছু কিছু কাজের শেষাংশ বাকি রয়েছে। আমাদের ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা আছে বলে ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১ হবে আমাদের অবশিষ্ট ছোট কাজগুলো সম্পন্ন করার সময়। ২০২০ সালে যখন এই জাতি তার পিতার শততম জন্মবার্ষিকী পালন করবে তখন একবার হিসাব মেলাবে এবং মূল্যায়ন করবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আর কতটা বাকি এবং তার পরের বছর যখন এই জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে তখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জয়ন্তীও উদযাপন করবে।

জরুরী করণীয় : বিগত ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে সরকারের এই মুহূর্তে জরুরী কিছু করণীয় রয়েছে। আমরা সবাই জানি নতুন সরকারের প্রথম করণীয় হচ্ছেÑ দেশের সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই মাঝে এই পথে সরকার যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্কট দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দেশের পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য সকল খাতের মতোই এই খাতেও সহায়তা প্রদান করতে হবে।

আমি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কয়েকটি কাজ অতি জরুরীভাবে করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি।

১. দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব তৈরির স্থগিত কাজ আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে ডিজিটাল ক্লাসরুম এবং প্রকল্প নিতে হবে ডিজিটাল কনটেন্টস তৈরির। ২. ডিজিটাল সরকার প্রকল্প বস্তুত নেই। ওয়েবসাইট তৈরি আর নেটওয়ার্ক প্রকল্প দিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে বলে আমরা শুনছি। বস্তুত এখনও জোড়াতালির পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ চলছে। একটি পরিকল্পিত পথ ধরে ডিজিটাল সরকারের কাজ করতে হবে। ভূমি ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা ও সচিবালয় ডিজিটাল করার মতো কাজগুলোতে সরকারের ঢিলেমি দৃষ্টিকটু পর্যায়ে রয়েছে-সেগুলোকে সচল করতে হবে। এটি বোঝা দরকার যে, ডিজিটাল সরকার ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না। ৩. জনতা টাওয়ার, মহাখালী, কালিয়াকৈরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে যেসব হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে সেগুলোকে বাস্তবায়নের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে এসব হাইটেক পার্কের ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। ৪. ইন্টারনেটের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মাঝে আনতে হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. চলমান প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭. মেধাসম্পদ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ওয়ানস্টপ আইপি অফিস স্থাপন করাসহ আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীসমূহ করতে হবে। শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে এবং বাণিজ্যসহ সকল খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক শিল্প-বাণিজ্য গড়ে তোলার পথে পা বাড়াতে হবে।

সার্বিকভাবে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার যে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাটি বস্তুত সভ্যতার বিবর্তন ও যুগ পরিবর্তন। এটি খুব সহজসাধ্য কাজ নয়। ডিজিটাল রূপান্তর হচ্ছেÑ তেমন একটি সমাজ গড়ে তোলার প্রধান সিঁড়ি। কিন্তু জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও অন্যান্য সামাজিক-রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সম্পর্ক আছে। এখন থেকেই সেসব বিষয় নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।

পুরো আলোচনাটির শেষ প্রান্তে এসে আমাদের নিবন্ধের শুরুর প্রসঙ্গে যেতে হবে। শেখ হাসিনার সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের প্রসঙ্গ কথা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় তার নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে। আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছি, আমরা যে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা বলছি সেটির নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমরা শেখ হাসিনাকে কেন সঠিক মানুষ হিসেবে বিবেচনা করছি তার উপসংহারটি আমাদের টানা দরকার। এই কথাটি সত্য যে ডিজিটাল বাংলাদেশ, তার রূপরেখা বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও তার পূর্ণাঙ্গ অবয়ব শেখ হাসিনা তাঁর কোন নিবন্ধে বর্ণনা করেননি। আমরা যখন মার্কসবাদের কথা বলি তখন মার্কসের লেখাটি প্রযোগ করার কথা বলি। এখানে আমি আমার মতো করে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজের রূপরেখাটি তুলে ধরেছি। এই নিবন্ধে যদিও বলা নেই যে কেন ডিজিটাল রূপান্তরটি অনিবার্য এবং কেন দুনিয়ায় এই রূপান্তর হবেই, তবুও আমরা শেখ হাসিনার মুখেই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির কথা শুনেছি। তাই এই মহাযজ্ঞটি তাঁর নেতৃত্বেই আয়োজিত হয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরটি অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমরা তাঁর সরকারের অগ্রগতির যে চিত্রটি পেয়েছি সেটি খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারি।

শেখ হাসিনার সরকারের ৬ বছরে মাথাপিছু আয় ৫২০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৯০ ডলার। জিডিপি বেড়েছে ৪৬৭৪/৯৭ থেকে ৭৭৪৫/৩৯, বাজেটের আকার ৬১,০৫৭ থেকে হয়েছে ২,৫০,৫০৬, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫.০৮ থেকে বেড়েছে ১৪.২৩। প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৪.৫ থেকে ৭০ হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সব সূচকেই উন্নতি হয়েছে। উন্নতি হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার। ব্যাপকভাবে বেড়েছে বিদ্যুত উৎপাদন। ৪৫৮৩ মেগাওয়াট থেকে সেটি ১৩,২৮৩ মেগাওয়াট হয়েছে। এ রকম প্রচুর বিষয় রয়েছে অগ্রগতির খাতায়।

অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশটা হয়েছে ব্যাপকভাবে। মোবাইলের ব্যবহারকারী দ্বিগুণ হওয়া, ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী ১২ লাখ থেকে সোয়া চার কোটি হওয়াসহ সকল খাতেই আমাদের পা সামনে।

আমরা শেখ হাসিনাকে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে এখন অবধি দেশের নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। তাঁর এই সময়কালের কাজের মূল্যায়ন করলে খুব সহজেই আমরা এটি বলতে পারি যে, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের মাঝে আর কেউ ডিজিটাল রূপান্তর বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে তত্ত্বীয় বা প্রায়োগিক কোন কাজ করেননি। শেখ হাসিনার সময়টিতে আমরা যে কেবল রূপান্তরের পথে হেঁটেছি তাই নয়, তিনি অন্তত সামনের সেই সময়টাকে চেনেন যে সময়টায় আমরা পৌঁছাতে চাই। আমি মনে করি, সকল দেশেই কোন এক মহান নেতা সেই দেশের অগ্রগতিকে সামনে নিয়ে যান। শেখ হাসিনা আমাদের সেই নেত্রী। আমরা তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব।

যিনি যেভাবেই ব্যাখ্যা করেন না কেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে দেশটির স্বাধীনতার রূপকার তেমনি ‘আধুনিক’ ‘ডিজিটাল’ ‘জ্ঞানভিত্তিক’ বাংলাদেশটা শেখ হাসিনার হাতেই গড়ে উঠছে। আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, দেশটাতে যে সারা দুনিয়ার মতোই একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ভাবনা তার ভিতটি এখন শেখ হাসিনাই তৈরি করছেন। তাঁর প্রশাসনের বহু বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারলেও এই বিষয়টিতে সম্ভবত কোন বিতর্ক নেই।

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: