মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ক্রিকেটারদের ছেলেবেলা

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

আজকে যারা বিশ্বসেরা ক্রিকেটার, কেমন ছিল তাঁরা ছোটবেলায়? তোমাদের নিশ্চয়ই তা জানতে ইচ্ছে করে? জানো বন্ধুরা, তাঁদের মধ্যে কেউ হতে চেয়েছিলেন বোলার,হয়েছেন ব্যাটসম্যান। কেউ আবার ছোটবেলায় বল করতেন নারকেল দিয়ে; এখন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। কেউবা ছিলেন ফুটবলের গোলরক্ষক; এখন তিনি বিশ্বসেরা উইকেট কিপার। আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। তার আগে চলো, বিশ্ব মাতানো ক্রিকেটারদের ছেলেবেলা সম্পর্কে জেনে নিই।

লিখেছেন- ইব্রাহিম নোমান

মাশরাফি

ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত টাইগার সেনাপতি মাশরাফি। কারও বিপদ দেখলে হাজির হতেন সবার আগে। শৈশব কেটেছে চিত্রাপাড়ে। নড়াইলের ছেলে মাশরাফি বেড়ে উঠেছেন নানির কাছে।

মাশরাফির পুরো নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা কৌশিক। ‘কৌশিক’ ডাক নামটা নানিই রেখেছে। ছেলেবেলা থেকেই ‘ইনজুরি’ পিছু নিয়েছে ওর। ১০ বছর বয়সে নানাবাড়ির তিনতলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন মাশরাফি! তবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।

সাকিব

সাকিবের কিন্তু ক্রিকেটার হওয়ার কথাই ছিল না! বাবা চেয়েছিলেন ছেলে বিখ্যাত ফুটবলার হোক। ছোটবেলায় ছিলেন খুব শান্ত। চাপা স্বভাবের সাকিব করতেন না দুষ্টুমি, থাকতেন না কোন দস্যিপনায়।

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। বাবা মাশরুর রেজা নিজেও একসময় ফুটবল খেলতেন। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় সাকিব ভাড়ায় খেলতে যেতেন। ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন খেপে গিয়ে বাবা দা-বঁটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন ছেলের ব্যাট-বল। আর সেই সাকিবই এখন ক্রিকেট বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার।

তামিম

খেলার প্রতি টানটা শুরু পারিবারিকভাবেই। মারকুটে ওপেনার তামিম ছেলেবেলায় ছিলেন খুব চঞ্চল। ১৮৮৯ সালের ২০ মার্চ চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্ব ক্রিকেটের এই মারকুটে ওপেনার। তামিমের পুরো নাম তামিম ইকবাল খান।

যে কোন উৎসব উপলক্ষে পরিবারের সবাই একসঙ্গে হলেই বাবা-চাচা, ভাই-বন্ধুরা দুই ভাগ হয়ে ক্রিকেট খেলতেন। আর পারিবারিক সেই ম্যাচও হতো অনেক আয়োজন করে। তামিম ও তাঁর ভাই নাফিস ইকবালের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এই ম্যাচেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

মুশফিক

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব ভাল মুশফিক। লাজুক হলেও ভীষণ জেদি। ক্রিকেটে হাতেখড়ি মূলত বগুড়ার মাটিডালি ক্রীড়াচক্রে। তবে সেখানে তেমন কোচ বা ভাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। এরপর পরীক্ষা দিয়ে টিকে গেলেন বিকেএসপিতে। ১৯৮৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুশফিক। পুরো নাম মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম।

ছোটবেলায় একবার নানার বাড়িতে গিয়েছেন মুশফিক। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বায়না ধরলেন, ‘ব্যাডমিন্টন খেলব।’ উপায় না দেখে ওই রাতেই খেলার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল।

তাসকিন

ছোটবেলায় ব্যাটিং করতেই বেশি পছন্দ করতেন তাসকিন। ইচ্ছে ছিল মারকুটে ব্যাটসম্যান হওয়ার। আর সেই তাসকিনই এখন টাইগার দলের দ্রুতগতির বোলার। তাসকিনের বোলার হওয়ার পেছনে রয়েছে চমৎকার ঘটনা।

তাসকিন ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে ওঠা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। আর ক্রিকেটের শুরু নানুর বাসার সামনের গলিতে। পাড়ার ক্রিকেটে সবাই তাঁকে নিতেন ‘দুধভাত’ হিসেবে। ফিল্ডিং আর সবার শেষে ‘সুযোগ পেলে’ ব্যাটিং। কখনও তাও দিতেন না বড় ভাইয়েরা। একদিন তাসকিন বললেন, ‘আমি না হয় শুধু বোলিংটাই করি?’ সেই থেকে বোলার হয়ে গেলেন তাসকিন।

শচীন

শচীন রমেশ টেন্ডুলকর। ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল নির্মল নার্সিং হোমে জন্ম নেন বিশ্বে ক্রিকেটের এ বিস্ময় বালক। তোমাদের জানা আছে নিশ্চয়ই, টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি ও রানের মালিক শচীন। অথচ শুরুতে ছিলেন বলবয়।

শচীনের বাবা রমেশ টেন্ডুলকর ছিলেন মারাঠি ঔপন্যাসিক। আর শচীনের মা রজনী কাজ করতেন বীমা কোম্পানিতে। রমেশ বিখ্যাত ভারতীয় সুরকার শচীন দেববর্মণের নামানুসারে তাঁর নাম রাখেন শচীন।

ছোটবেলায় শচীন জন ম্যাকেনরোকে আদর্শ করে টেনিস খেলার প্রতি আকৃষ্ট হলেও, তাঁর দাদা অজিত ১৯৮৪ সালে তাঁকে দাদরের শিবাজী পার্ক অঞ্চলে বিখ্যাত ক্রিকেট কোচ রমাকান্ত আচরেকরের কাছে নিয়ে যান। আচরেকরের নির্দেশে শচীনকে শারদাশ্রম বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় এবং আচরেকর তাঁকে ক্রিকেটে শিক্ষাদান শুরু করেন।

১৯৮৭ সালে চৌদ্দ বছর বয়সে মাদ্রাজে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে ফার্স্ট বোলিং করার প্রশিক্ষণ নিতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি বোলার ডেনিস লিলি তাঁকে ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ করতে বলেন। ১৯৮৭ সালে ২০ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এক প্রদর্শনী ম্যাচে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী ক্রিকেট দলের হয়ে শচীন পরবর্তী খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।

ধোনি

ছোটবেলায় অস্ত্র, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধ নিয়ে প্রচুর বই পড়তেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ছোটবেলায় সেনাবাহিনী নিয়েও খুব আগ্রহ ছিল ওর। তবে আজকের এই মারদাঙ্গা ক্রিকেটার প্রথমে খেলতেন ফুটবল। তাও আবার গোলরক্ষক হিসেবে।

মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্ম বিহারের রাঁচিতে (অধুনা ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত)। তাঁর বাবা পান সিং ও মায়ের নাম দেবকী দেবী। ধোনিদের পৈত্রিক নিবাস উত্তরাখণ্ড রাজ্যের আলমোড়া জেলার লামগাড়ার ব্লকের লাওলি গ্রামে। পান সিং যখন রাঁচির মেকন লিমিটেডে জুনিয়র ম্যানেজারের পদে চাকরি করতেন, তখনই তার পরিবার উত্তরাখণ্ড থেকে রাঁচিতে চলে আসে। ধোনির এক ভাই নরেন্দ্র ও এক বোন জয়ন্তী। কিশোর বয়সে ধোনি চুল রাখতেন লম্বা। আর বাইকের প্রতি ভালবাসা ছিল ছোট বয়সেই।

বর্তমানে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন। ধোনি এ্যাডাম গিলক্রিস্ট, তাঁর আশৈশব প্রিয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকর, বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের একনিষ্ঠ ভক্ত।

ধোনি ডিএভি জহর বিদ্যা মন্দির, শ্যামলী (বর্তমান জেভিএম, শ্যামলী, রাঁচি)-তে পড়াশোনা করেছেন। সেখানেই তিনি ব্যাডমিন্টন এবং ফুটবলে অংশ নেন এবং জেলা ও ক্লাব পর্যায়ের খেলাগুলোয় মনোনীত হন। ফুটবল খেলায় ধোনি গোলরক্ষক হিসেবে অংশ নেন ও পরবর্তীতে তার ফুটবল কোচ স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাবে ক্রিকেট খেলার জন্য প্রেরণ করেন। ক্রিকেটে ভাল না করলেও, উইকেট রক্ষায় তার অসামান্য দক্ষতার দরুন কমান্ডো ক্রিকেট ক্লাবে (১৯৯৫-৯৮) পর্যন্ত নিয়মিতভাবে উইকেট-রক্ষকের পালন করেন। তবে ১০ম শ্রেণীর পরপরই ধোনি ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেন।

ডি ভিলিয়ার্স

সম্প্রতি মাত্র ৩১ বলে সেঞ্চুরি করে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন ডি ভিলিয়ার্স। শৈশবে ওর খেলার সাথী কে ছিল জানো? দুই ভাই জান এবং ওয়েসেলস। তবে বন্ধু মার্টিন ভ্যান জারসভেল্ড সবসময় সঙ্গে থাকত ভিলিয়র্সের। মার্টিনও বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন।

ভিলিয়ার্সের পুরো নাম আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স। ১৯৮৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সংক্ষেপে তিনি ‘এবি’ নামে দলীয় খেলোয়াড়দের কাছে পরিচিত।

ওর মা মিলি রিয্যাল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। আর বাবা আব্রাহাম পিডি ভিলিয়ার্স একজন ডাক্তার। ডি ভিলিয়ার্স আফ্রিকান্স হোয়ের সিয়ানস্কুল বা বালকদের জন্য আফ্রিকানস হাইস্কুল যেটি আফিস নামে পরিচিত, প্রিটোরিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় সরকারী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। জ্যাকুয়েস রুডল্ফ, হিনো কান এবং ফ্রাঙ্কোইজ ডু প্লেসিস তার সহপাঠী ছিল, যারা পরবর্তীতে টাইটান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে।

মালিঙ্গা

বিশ্ব ক্রিকেটের ভয়ঙ্কর বোলার। শ্রীলঙ্কার রথগামা এলাকায় শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। সেখানে সর্বদাই ক্রিকেট খেলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। প্রায়ই তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নদী তীরবর্তী এলাকায় খেলতেন। ছোটবেলায় বলের পরিবর্তে বন্ধুদের সঙ্গে নারকেল দিয়েও খেলতেন তিনি।

মালিঙ্গার পুরো নাম সিপারামাদু লাসিথ মালিঙ্গা। ১৯৮৩ সালের ২৮ আগস্ট গালে এলাকায় জন্ম নেয় এ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। তিনি তার বিশেষ ধরনের বোলিংয়ের জন্য পরিচিত। বোলিং কিছুটা নিক্ষেপ ধরনের বিধায় তিনি সিøঙ্গা মালিঙ্গা নামে পরিচিত।

রথগামা এলাকার দেবপাথিরাজা কলেজে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে গলেতে অবস্থিত বিদ্যালোকা কলেজে চলে যান। এরপর গলের মাহিন্দ কলেজে স্থানান্তরিত হন। কলেজে অধ্যয়নকালীন তৎকালীন শ্রীলঙ্কান পেসার চম্পকা রামানায়েকের নজর কাড়েন। চম্পকার আমন্ত্রণে তিনি গালে ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন।

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: