আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মেলা আমাগো রক্তে নাচন ধরায়

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

রুমন রেজা, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ পুতুল নাচের মঞ্চের পেছনের পর্দা ছেঁড়া। দু’পাশের পর্দাও মলিন হয়ে গেছে। কোন কোন জায়গায় কুঁচকে গেছে। কোথাও লেগেছে ময়লার কালো ছোপ। সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে আয়োজিত লোককার মেলা ও লোকজ উৎসবে নিউ সোনারগাঁ হাসিখুশি পুতুল নাচের দলের মঞ্চ এটি। এই মঞ্চের দিকে তাকালেই ফুটে ওঠে পুতুল নাচ শিল্পের বিবর্ণ ও মলিন চেহারা। অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র ভেসে ওঠে পর্দার ছেঁড়া ও কুঁচকে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। আর কিছু লোভী মালিক যে পুতুল নাচের সঙ্গে তরুণী নাচের আয়োজন করে এই শিল্পের কপালে লেপে দিচ্ছে কলঙ্কের কালো তিলÑ পর্দার ময়লা ছাপ তারই সাক্ষ্য দেয়। এ দৈন্যদশার কথা অকপটে স্বীকার করলেন নিউ সোনারগাঁ হাসিখুশি পুতুল নাচের দলের মালিক মিলন মিয়া। নিজেকে মালিক নয়, শিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য তাঁর। তাঁর দাবিÑ এ শিল্পে যাঁরা কাজ করেন সবাই শিল্পী। সোনারগাঁ উপজেলার হাতকোপা গ্রামের বাসিন্দা মিলন মিয়া দেড় দশক ধরে চালাচ্ছেন পুতুল নাচের এ দলটি। নিজে কাহিনী বানান, সংলাপ তৈরি করেন, গানও করেন। তাঁর দলে রয়েছে একজন পুতুল মাস্টার আর দু’জন বাদ্যযন্ত্র শিল্পী। পুতুল নাচে আগের মতো আয় নেই। কমে গেছে দর্শক। গ্রামেগঞ্জে মেলাও আগের মতো হয় না। হলেও যাত্রার মতোই কিছু লোভী মালিক পুতুল নাচ শিল্পকে কলুষিত করছে।

মিলন মিয়ার ভাষায়, ‘হেরা কিছুক্ষণ পুতুল নাচ চালায়া মাইয়া নাচায়। হেগো লিগা আমাগো মাইনসে খারাপ কয়। পরিবেশ নষ্ট হইতাছে।’

মিলন মিয়ার দাবি, পুতুল নাচের দল চালাতে গিয়ে ক্রমাগত লোকসান দিতে হচ্ছে তাঁকে। সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর প্রাঙ্গণে আচারের পৈত্রিক দোকান রয়েছে তাঁর। এই দোকানের লাভ থেকেই গচ্চা দিচ্ছেন পুতুল নাচের দলে। গচ্চা দিয়ে কেন দল চালাচ্ছেনÑ প্রশ্ন করা হলে হাসলেন মিলন মিয়া। তিনি বললেন, ‘ভালবাসার বাঁধনে জড়ায়া গেছি। এই বাঁধন তো ছিঁড়বার পারি না। পুতুল নাচের দল আছিল আমার শ্বশুরের। হের লগে দল চালাইছি কিছুদিন। হের দল বন্ধ হইলে নিজেই দল বানাইলাম। তা-ও ১৫ বছর হইয়া গেল। এই কাম বাদ দিতে পারি না। রক্তের ভিতরে ঢুইক্কা গেছে। মেলা আমাগো রক্তে নাচন ধরায়। বাড়িত থাকবার পারি না।’ একই কথা বললেন, হাসিখুশি পুতুল নাচের দলের পুতুল মাস্টার আবদুল লতিফ। তিনি ৪৫ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। পুতুল নাচের ভালবাসার বৃত্তে আটকে গেছেন তিনিও। তাঁর বক্তব্য, ‘মইরা গেলেও অন্য কাম পারতাম না।’

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: