মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কুষ্টিয়ায় ছিল আনারকলি আর চাম্পাকলি দল

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

এমএ রকিব, কুষ্টিয়া থেকে ॥ এক সময় নারী ও শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ক্ষেত্রে শুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে গ্রামীণ জনপদের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়ার পুতুল নাচ। শিল্পটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পীদের এখন আর কদর নেই। তেমন ডাকও পড়ে না। অভাব আর অনটনে দিন কাটে তাদের। অথচ এই উপমহাদেশে পুতুল নাচের ঐতিহ্য হাজার বছরের। বাংলা লোকনাটকের অন্যতম ধারকবাহক পুতুল নাচ এক সময় এদেশে রমরমা সময় পার করলেও পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং ভিনদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনসহ নানা সমস্যার জাঁতাকলে পড়ে শিল্পটি বর্তমানে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। সে সময় শুধু বর্ষাকাল বাদে বছরের বাকি সময়গুলোতে গ্রামীণ মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণই ছিল পুতুল নাচ। অদৃশ্য সুতোর টানে নাচতো পুতুল। হ্যাজাক-লাইটের চোখ ধাঁধানো আলোয় ঝলমলে পোশাকে পুতুলগুলোর স্বপ্নময় পরিবেশনা গভীর রাত পর্যন্ত মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে গ্রামীণ-জনপদের মানুষগুলোকে। গ্রামগঞ্জে সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।

অনুসন্ধানে কুষ্টিয়ায় দুটি পুতুল নাচ দলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর একটি জেলার মিরপুর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের সুরুজ আলীর ‘চাম্পাকলি পুতুল নাচ’। এই দলটি এক সময় গ্রামগঞ্জে দাপটের সঙ্গে পুতুল নাচ করে বেড়িয়েছে। অপর দলটি একই উপজেলার তাতিবন্দ গ্রামের ‘আনারকলি পুতুল নাচ’। এ দলটির বর্তমান মালিক মোঃ জাবের আলী ম-ল। ‘চাম্পাকলি পুতুল নাচ’ এর এখন আর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে, তবে ‘আনারকলি পুতুল নাচ’ বর্তমানে ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পালা করে কুষ্টিয়ার ‘আনারকলি পুতুল নাচ’ ১৯৭৮ সালের দিকে খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে ১নং লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়। সে সময় বর্বর পাক হানাদারদের অত্যাচার-নির্যাতন, প্লেন থেকে বোমাবর্ষণ, নারী নির্যাতন, লাইন ধরে শরণার্থীদের যাওয়াÑ এ সব কাহিনী পুতুলের অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কিন্তু বর্তমানে এই পালা করতে খরচ পড়ে যায় অনেক বেশি। তাছাড়া এই পালা এখন আর কেউ দেখতেও চায় না। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তাতিবন্দ গ্রামে কথা হয় ‘আনারকলি পুতুল নাচ’ দলের মালিক মোঃ জাবের আলী ম-লের সঙ্গে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তখন ১৯৭৭-৭৮ সাল হবে। সে সময় দেশের গ্রামগঞ্জে পুতুল নাচের খুব কদর ছিল। তখন আয়োজকরা পুতুল নাচ মালিকদের হাতে আগাম টাকার বায়না দিয়ে যেতেন।

পুতুল নাচ দলের দম ফেলারও সুযোগ ছিল না। শীতকাল তাদের মৌসুম হলেও শুধুমাত্র বর্ষাকাল বাদে বছরের সব সময়ই ডাক পড়ত তাদের। তখন পুতুল নাচ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা ছিলেন আর্থিকভাবে সচ্ছল। কিন্তু এখন আর তাদের সেই সুদিন নেই।

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: