কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিপিন পালই প্রথম এ শিল্প চালু করেন

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

রিয়াজউদ্দিন জামি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ॥ সুস্থ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম পুতুল নাচ এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। এক সময় মেলা-বান্নি পুতুল নাচ মাতিয়ে রেখেছে সে অবস্থা এখন নেই। বর্তমানে বাণিজ্যিক কাজেও পুতুল নাচ চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুল নাচ এখনও সারাদেশে পরিচিত। বিশেষ করে বৈশাখী উৎসবে এখন পুতুল নাচের চাহিদা বেড়ে যায়। পুতুল নাচের জনপ্রিয়তা আগের মতো নেই, এমন কথাই বল্লেন সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীরা। ‘চন্দ্রিমা পুতুল নাচ’ এর পরিচালক শরীফুল ইসলাম মালদার বলেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণেই পুতুল নাচ হুমকিতে আছে। উপমহাদেশে প্রথম পুতুল নাচ সৃষ্টি করেন নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণসাগর গ্রামের বিপিন পাল। তিনি হিন্দু বা পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে নিজস্ব দৃষ্টি ভঙ্গিতে পুতুল নাচ করতেন। তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়িক পুতুল নাচের স্রষ্টা বলা হয়। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচে নতুনত্ব আনেন শহরের মেড্ডার প্রয়াত ধন মিয়া। তিনি কৃষ্ণনগর গ্রামের গিরিশ আচার্যের পুতুল নাচের দলে পুতুল নাচের তালে তালে গান করতেন। শেষ পর্যন্ত ধন মিয়া নিজেই পুতুল নাচের প্রদর্শনী করতেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত পুতুল নাচের দল ‘রয়েল বীনা অপেরা।’ ধন মিয়া পুতুল নাচের যে কাহিনীগুলো প্রদর্শন করেছিল তা হলো ‘বর্শি বাওয়া’ ‘বাঘের কাঠুরিয়াকে ধরে নেয়া’ এবং ‘বৈরাগী বৈরাগীনির ঝগড়া। ধন মিয়া শুধু দেশে নয় বিদেশেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৮০ সালে তিনি পুতুল নাচ দেখাতে সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। ভারতের ব্যাঙালোর, রাশিয়ার মস্কো, তাসখন্দ, সমরকন্দ শহরে অবস্থান করে পুতুল নাচ দেখিয়ে খ্যাতি অর্জন এবং প্রথম পুরস্কার পান। তৈরি করেন আধুনিক মডেলের পুতুল। পুতুল নাচের ইতিহাস সম্বন্ধে অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার কৃষ্ণনগরের বিপিন পাল প্রথম পুতুল নাচ প্রবর্তন করেন। তখন সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে পুতুল নাচ হয়েছে। এ গ্রামেরই আরেক পুতুল নাচিয়ে গিরিশ আচার্য। বিপিন পালের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও কয়েকটি পুতুল নাচ দল তখন তৈরি হয়। মোঃ তারু মিয়া পুতল নাচের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ ব্যক্তি ছিলেন। তেমনই গিরিশ আচার্যের দলে কাজ করতেন শহরের মেড্ডার ধন মিয়া। তারু মিয়ার পর কালু মিয়া, মৃত খুরশিদ মিয়া ও মোঃ রাজ হোসেন পুতুল নৃত্যকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনপ্রিয় করে তোলেন। এদের চেষ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুল নাচ দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করে। সম্প্রতি ‘সুমী বীণা পুতুল নাচ’ দল ও ঝুমুর পুতুল নাচ দল কাজ করছে। প্রখ্যাত পুতুল নাচ শিল্পী তারা মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া পিতার ‘ঝুমুর পুতুল নাচ’কে পুনরুজ্জীবিত করেন।

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: