আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

একাকী শরৎ

শাহীন রেজা

অসভ্য বাতাস ওড়ে নিরালম্ব আঁখি

তমসা শরাব ঢালে জলঙ্গার সাকী

অদৃশ্য নেকাবে ঢাকা প্রণয়ের রঙ

নগর নটিতে জাগে ছিনালের ঢঙ

বেহাগ চিনি না আমি দাদরাও নয়

সুরের অসুর ঘরে রজনীর ভয়

তবুও আমাকে খোঁজে কোজাগরী রাত

একাকী শরৎ আঁকে কাশফুল হাত

কবির কবিতা জুড়ে কুয়াশার চোখ

আমার আমিতে জাগে শ্রাবণের শোক।

কবিতায় ডুবে ডুবে

শামীম আহমেদ

একদিন, কোন এক এমন ঝলসানো জ্যোৎস্না রাতে

কবিতায় ডুবে মারা যেতে চাই।

সে রাতে মৃত্যুর আগে স্পর্শ করবে জ্যোৎস্না সারা শরীর।

ঢেউয়ের চাইতেও শীতল এবং গভীর,

তবু উদাসীন চাঁদের মতোই একা।

ধীরে ধীরে চেতনা লোপ পাবে

ফুসফুসে ঢুকবে একেকটি কবিতার লাইন

আর শব্দগুলো আঁকড়ে ধরবে ঘামতে থাকা

হৃৎপি-ের প্রকোষ্ঠসমূহকে।

তারপর অমন এক জ্যোৎস্না রাতে

প্রিয় সব কবিদের কবিতার পঙক্তিমালায়,

হারানো প্রেমিকার মুখশ্রী জেগে উঠবে একেক করে।

আর যেমনটি চেয়েছিলাম তেমনই

আমি মরে যাব ঠিক ঠিক,

অদ্ভুত সুখে থাকা কিছু।

রক্তচক্ষু কোকিল

সৌরভ আহমেদ

তোমাকেই ডেকে ডেকে রক্তচক্ষু কোকিল হয়েছি

সয়েছি তীব্র দাহন লেলিহান আগুন আলিঙ্গনে

একনদী ব্যথা নিয়ে নৈঃশব্দের সাথে বেঁধেছি ঘর

তবু তোমার অবহেলা আঙ্গুল তুলে বলে আমি পর

যাবতীয় সুন্দরের পাশে আমি তোমাকে রেখেছি

হয়েছি বাউল তোমার ঐশ্বরিক মুখ দেখব বলে

তিন কোটিবার জন্মানোর জন্য নিয়েছি শপথ

তবু আমার সমস্ত কিছুতে তোমার নিরাসক্তি অমত

তোমার সবকিছু রপ্ত করব বলে বাতাসে পেতেছি কান

হয়েছি ক্লান্ত সহজাত দোষগুলোর সাথে যুদ্ধ করে

কিন্তু তুমি বার বার ক্রীতদাস বলে গিয়েছ এড়িয়ে

কার্বনডাই অক্সাইডের মত আমায় তুমি দিয়েছ ফিরিয়ে

আমাকে এখন কেউ দেখতে পারে না

কুকুর বেড়াল পাখি পর্যন্ত এড়িয়ে চলে

পরিচিত সবাই অসামাজিক বলে দেয় খোটা

আমার কষ্টগুলো হয়ে যায় অশ্রুর ফোঁটা

আমার আহ্বানের আকুতি দেখে প্রকৃতি আমাকে মেনেছে পীর

উপঢৌকন দিয়ে গেছে অন্ধ থুরথুরে পেঁচা

দশটি বছর আমি তোমায় তিন কোটিবার ডেকেছি

তোমাকেই ডেকে ডেকে রক্তচক্ষু কোকিল হয়েছি।

সাম্প্রতিকী

অজামিল বনিক

আগুনে ঝলসে যাওয়া মুখগুলো দেখতে দেখতে

কোমরে গামছা বাইন্ধা নিজাম ডাকাত

গলা ফাটাইয়া হাঁক দেয় –

“কালারে, আমাগ আরেকটা যুদ্ধের

দরকার রে কালা–

আগাছাগুলার বড় বাড় বাড়ছে,

আরেকটা যুদ্ধ কইরা, শেষ মরবার মোন চায়।”

কালা কয় : আমাগ অহন যুদ্ধ জানাইত আছে

দেরি ক্যান, তয় লও আগাছাগুলার মূলডা মাড়াই।

চলো খুন করি

মনোয়ার হোসেন মনি

চলো খুন করি,

ভয়ঙ্করতম বর্বরতা চালাই, চলো।

খুন করব নিষ্পাপ মানুষদের,

শিশু, নারী কিংবা বয়স্ক-কেউ বাদ পরবে না।

চলো হত্যা করি,

পিষে মারি মনুষ্যত্ব, চলো।

হত্যা করব সমগ্র অপাপবিদ্ধ মানব সম্প্রদায়,

নবজাতক, নববধূ কিংবা মৃত্যুপথযাত্রী-কেউ বাদ পরবে না।

চলো মেরে ফেলি,

জবাই করে মস্তকটা আঁস্তাকুড়ে ফেলি, চলো।

বিবেকবান কাউকে জীবিত রাখব না,

তুমি, তুমি ও তোমরা-কেউ বাদ পরবে না।

আমার এসব খুনের কথা পড়ে আমাকে খুনী ভাবা শুরু হয়ে যাক।

আমি পরোয়া করি না, আবারও বলি-চলো!!!! চলো খুন করি!!!

আর ওদিকে, ওরা উপরের কাজগুলো না লিখে বাস্তবে করে দেখায়,

তখন মানবসম্প্রদায় ভাস্কর্য সম্প্রদায় হয়ে পাথর চোখে তাকিয়ে রয়।

সাযযাদ কাদিরের ৪টি বই

লেখকের ‘আঁচ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে চিত্রা প্রকাশনী থেকে। মঙ্গাপীড়িত নিম্নবর্গের মানুষ, অস্তিত্বের যন্ত্রণা, মাদক ব্যবসা, নষ্ট যৌনতা, নির্বাচনী রাজনীতি, সন্ত্রাস, বহুজাতিক ব্যবসাসহ জনপটভূমিকায় এক অ্যাখান। এছাড়া প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ বাংলা আমার প্রকাশ করেছে শিরীন পাবলিকেশনস। বাংলার ঋতুরূপ, বাংলার কথাসাহিত্য, বাংলার গান, বাংলার জাতীয় সংগীত, বাংলার দেশচেতনা, বাংলার নববর্ষ, বাংলার পাঠক, বাংলার প্রেম, বাংলার বর্ষপঞ্জি, বাংলার বাঙালি, বাংলার বৈশাখ,বাংলার মানবাধিকার- শিরোনামের লেখাগুলোতে ফুটে উঠেছে হাজার বছরের বাংলা ও বাঙালির জীবন-সংস্কৃতির নিবিড় পর্যালোচনা। দিব্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে অনুবাদগ্রন্থ ‘ফোক-টেলস অভ বেঙ্গল’। এটি ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত রেভারেন্ড লালবিহারী দে সংগৃহীত বাংলার প্রথম লোকরচনার শিশুতোষ ভাষায় রূপান্তর। এদিকে লেখকের সম্পাদিত ‘এই সময়ের কবিতা ২০১৫’ বইটি প্রকাশ করেছে সাহস পাবলিকেশনস্। শতাধিক কবির সুনির্বাচিত সঙ্কলন এটি।

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাকের ৬টি বই

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাকের ৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

ব্রিটেনের রাজতন্ত্র : ভ্রমণ লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা হয়েছে ‘এবং ব্রিটেনের রাজতন্ত্র’। এই গ্রন্থে যেমন দেশটির বিদ্যমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থার নানা দিক বিধৃত হয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে ইতিহাস ঐতিহ্যের অনেক অনুষঙ্গ। অনিসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য প্রসঙ্গক্রমে ব্রিটেনের হাজার বছরের রাজতন্ত্রের বিষয়েও করা হয়েছে আলোকপাত। ২৭২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে অক্ষর প্রকাশনী থেকে। এর মূল্য রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ।

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র : অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি হেতু বা যুক্তিবিদ্যা, ত্রয়ী বা ধর্ম বিদ্যা, বার্তা বা কৃষি উৎপাদন, পশুপালন এবং বাণিজ্য বিষয়ক বিদ্যা এবং দ নীতি বা রাজ্য পরিচালনার অনুশাসন-বিষয়ক বিদ্যার ভিত্তিতে প্রণীত। এখানে যেমন যৌক্তিক শাসনব্যবস্থার ওপর গুরুত্বের সঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে, তেমনি দুষ্টের দমনের ক্ষেত্রে নির্দেশিত হয়েছে নির্মম পন্থার নানা দিক। ৫২৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে নালন্দা প্রকাশনী। এর মূল্য ৭০০ টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ।

বাংলাদেশের নদ নদী- বর্তমান গতি প্রকৃতি : এক সময় নদী-ই ছিল আমাদের জীবন যাপনের পাথেয়। নদীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে আমাদের উৎপাদন, বাণিজ্যিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমনকি প্রাত্যহিক গৃহস্থালির কাজে ও পানীয়ের ক্ষেত্রেও আমরা ছিলাম নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। কালের প্রবাহে আধুনিক জীবন ব্যবস্থা প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে নদীর ওপর এই নির্ভরশীলতা। গ্রন্থটি ‘কথাপ্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মূল্য ৬০০ টাকা, প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা।

অরণ্যাদের শ্যামল গাও : পরিবেশ-বিষয়ক ছোটদের এ পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছে স্বরবৃত্ত প্রকাশনী। পরিবেশ সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিকরণের প্রত্যয়ে বইটি শিশুদের পাঠ উপযোগী করে লিখা হয়েছে। মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা।

লেখকের আরও দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে যৌথভাবে কাজী লাবণ্য ও বিনয় বর্মণের সঙ্গে।

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: