কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নারীর সৃষ্টিকর্ম প্রকাশের পথ

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সিরাজুল এহসান

প্রতি বছর মহান একুশের বইমেলা ঘিরে সৃষ্টিশীল মানুষের যে ব্যস্ততা আমরা দেখি, তা আনন্দের। বইমেলাকে ঘিরে বাঙালী যে উৎসবে মেতে ওঠে তার নেপথ্য নান্দনিক কারিগরই এই গুণী মানুষেরা। সময়ের প্রেক্ষাপটে মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের উৎকর্ষতার কারণে এখন সৃজন ও মননশীল গ্রন্থ প্রকাশ অন্তত আঙ্গিকগতভাবে যেমন মানসম্পন্ন তেমনি দ্রুততার সঙ্গেই পাঠকের হাতে যাচ্ছে পৌঁছে। লিঙ্গ বিচারের কথা না এনেও লক্ষ করা যায় প্রতি বছর বইমেলায় অনেক সৃষ্টিশীল নারী তার সৃষ্টিকর্ম উপহার দিচ্ছেন পাঠককে। সমৃদ্ধ করছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে। সৃষ্টির যেমন বেদনা আছে, আবার আছে তা প্রকাশের ঝক্কি। সেসব নানা ইতিবাচক-নেতিবাচক পরিস্থিতি সামলে নারী এগিয়ে যাচ্ছেন নান্দনিক কর্ম পরিক্রমায়। সেলিনা হোসেন, রাবেয়া খাতুন, নাসরিন জাহান প্রমুখ আজ সব বাধা পেরিয়ে স্বদ্যুতিতে মহিয়ান। এবারের বইমেলায় যাদের বই এসেছে তাদের মধ্যে আফরোজা সোমা, দ্বিত্ব শুভ্রা, শেলী নাজ, চৈতী আহমেদ, তানজীনা ইয়াসমিন, লাবণ্য প্রভা, মণিকা চক্রবর্তী, ফারজানা লায়লা সেতু, ইসমত আরা, মালিহা হক, বর্ণালী সাহা, ফারজানা মান্নান, রেজওয়ানা বুলবুল, মেহেরুন নেছা রুমা, খায়রুন নাহার রুবী, রুখসানা কাজল, নূর কামরুন নাহার, দীলতাজ রহমান উল্লেখযোগ্য।

দীলতাজ রহমান লিখছেন প্রায় দুই দশক ধরে। ২৩টি বই উপহার দিয়েছেন এ যাবত। গল্পের বই ৭, কবিতা ১২, শিশুতোষ গ্রন্থ ৪টি। কবিতা ও গল্প দুই মাধ্যমেই রয়েছে তাঁর কাজ। এবারের বইমেলায় এসেছে নিজের বাছাই করা গল্প নিয়ে বই- গল্প সমগ্র-১। চল্লিশ ফর্মার এ বইয়ের প্রকাশক উৎস প্রকাশন। সংসার-সন্তান সামলিয়ে তার এ নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফল এরই মধ্যে পেয়েছেন। তাঁর নির্দিষ্ট কিছু পাঠক এরই মধ্যে হয়েছে সৃষ্টি। বইয়ের কাটতিও কম নয়।

মধ্য বয়সে এসে জীবনের অভিজ্ঞতা হয় সমৃদ্ধ। জীবনের নানা ঘাত, খাত আর বাঁক দেখা মধ্যবয়সী নারীরাই তার সৃষ্টিকর্মে প্রাধান্য পায়। বাঙ্্ময় হয়ে ওঠে কাদামাটির সোঁদা গন্ধ। শিকড়ের খোঁজে পা বাড়াতে প্রাণিত করে মানুষকে। মাটিমুখী করে তোলে পাঠকের হৃদয়। পাঠকের জন্য জীবনের এই মধ্যলগ্নের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই ঋদ্ধ করে। সাহিত্যচর্চা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নারীর চোখ দিয়ে জীবনের অলিগলি যেভাবে দেখা যায় তা বোধকরি অন্যভাবে দেখা যায় না। সাহিত্যাঙ্গনে নবীনদের স্বাগত জানানোর সংস্কৃতির এখন বড় অভাব। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে না এলে নতুন চিন্তা-দর্শনের বিকাশ ঘটবে না। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে নারী তুলনামূলকভাবে একটু বৈষম্যের শিকার হয় বৈকি।

নূর কামরুন নাহার মূলত কথাসাহিত্যিক। সংবাদপত্রে লেখালেখিও তার অনেক দিন ধরে। এ পর্যন্ত তার দশটি গ্রন্থ আলোর মুখ দেখেছে। পাঠক ও বোদ্ধা মহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে তার সৃষ্টি। গল্পের বই ৪, উপন্যাস ৩, কবিতা ১, প্রকাশিত কলাম নিয়ে ১টি গ্রন্থ বেরিয়েছে। এবারের বইমেলায় নূর কামরুন নাহারের বেরিয়েছে গল্পের বই। ‘বৃক্ষ ও প্রেমিকের গল্প’ নামে বইটি প্রকাশ করেছে রোদেলা প্রকাশনী।

প্রকাশনা বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে লেখক-পাঠক-প্রকাশক ত্রিমুখী সম্পর্কের বড় অভাব। এ সম্পর্ক স্থাপিত না হলে লেখকের জন্য যেমন সমস্যা তেমনি প্রকাশনা শিল্পের জন্যও হুমকিস্বরূপ। কিছু ব্যতিক্রমবাদে নারী লেখকদের বেলায় অনেক প্রকাশকই একটু উদাসিনতা দেখায়। বই প্রকাশের পর একজন নারী লেখকের জন্য পাঠকের হাতে পৌঁছানো বা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়।

এবারের বইমেলায় প্রথম বই এসেছে রুখসানা কাজলের। বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি করলেও বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে একটু দেরিই করলেন তিনি। সমসাময়িক নানা ঘটনা-বিষয় ও নারীদের নিয়ে পত্রপত্রিকায় কলাম লিখে আগেই পরিচিতি অর্জন করেছেন। জীবনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটি শিল্পিত মাধ্যম কবিতা। বইটির নামও চমৎকার- ‘চাঁদ চোয়ানো জ্যোৎস্নায় ফিরে এস নদীবতী মেয়ে’। মেলার শেষ দিকে আসতে পারে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক গদ্যগ্রন্থ। মুক্তিযুদ্ধকালে নিজে শিশু ছিলেন। এক শিশুর স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের কথা বিবৃত এ গ্রন্থ- তেমনটাই জানালেন তিনি। সৃষ্টিশীল নারীর ক্ষেত্রে বই প্রকাশে একটু সমস্যায় যে পড়তে হয়- সে কথা স্বীকার করলেন মুঠোফোনে। আক্ষেপ করে জানালেন, নারী হিসেবে কি না জানি না। আমার প্রথম বইটিতে আরও যত্ন নেয়ার সুযোগ ছিল। ভুলভ্রান্তিগুলো এড়ানো যেত। নারী বলেই এমনটা করা হয়েছে কিনা জানি না...।

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: