হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সেন্ট মার্টিনের হাতছানি

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আবু আফজাল মোহাম্মদ সালেহ

বাংলাদেশের দক্ষিণের শেষপ্রান্তে টেকনাফ উপজেলা। তার শেষে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। স্থানীয় ভাষায় ‘নারিকেল জিনজিরা’। আমাদের দারুচিনি বা স্বপ্নের দ্বীপ। প্রায় দশ হাজার অধিবাসী নিয়ে এ দ্বীপ যা একটি ইউনিয়ন, সেন্টমার্টিন। স্বপ্নের এ প্রবাল দ্বীপে যেতে যেতে অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যেতে আপনাকে জাহাজে বা লঞ্চে যেতে হবে। সকাল ৯:৩০টায় টেকনাফ জেটি ঘাট থেকে বেসরকারী শিপে চেপে প্রমত্তা নাফ নদী ও নীল জলরাশির সাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খুবই রোমাঞ্চকর,উপভোগ্য। জাহাজে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা আর লঞ্চে যেতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা। জাহাজগুলো বিকাল ৩টায় সেন্টমার্টিন উপকূল ছেড়ে আসে টেকনাফের উদ্দেশে।

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে টেকনাফ জেটি ঘাট থেকে ‘কাজল’ শিপে সকাল ৯-৩৫টায় ভ্রমণ শুরু করলাম। বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভক্তকারী নাফ নদীতে কিছুক্ষণ ভ্রমণ। যেতে যেতে বাংলাদেশের লেজ বলে কথিত টেকনাফ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। পাহাড়সমৃদ্ধ এলাকা দেখলে বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণের লম্বা লেজের কথাই মনে পড়বে। জাহাজ থেকে ছবির মতো, রূপকথার মতো মনে হয় চমৎকার অনুভূতি। তারপর সাগর চ্যানেলে প্রবেশ। জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, গাংচিল বা বালিহাঁসের উড়াউড়ি আর নীল জলরাশি আপনাকে বিমোহিত করবেই। যাওয়ার পথে বামদিকের বা পূর্ব পাশের মিয়ানমারের পাহাড়বিশিষ্ট স্থলভাগ আর কাঁটাতারের বেড়া অন্যরকম দৃষ্টিসুখ দেবে। নাফের ঘোলা পানি পেরিয়ে সাগরের নীলজলরাশি আপনাকে স্বপ্নের অনুভূতি দেবে।

মাঝে মাঝে সাগরজলে ডলফিনের খেলার সঙ্গে জাহাজযাত্রীর হাততালি ভ্রমণক্লান্তি আর খরচের কথা ভুলিয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস। দু’ঘণ্টা জাহাজ ভ্রমণের পর আবছা দ্বীপের ছবি ভেসে আসবে,রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দেবে। এ বুঝি স্বপ্নের দ্বীপের ছবি। হ্যাঁ এটাই সেন্টমার্টিন-স্বপ্নের দ্বীপ।

জাহাজে ধাক্কা লাগা বড় বড় ঢেউ আর প্রোপালারের ফেনিল সাদা ঢেউ দেখতে দেখতে অবশেষে বেলা ১২:১৫টায় পৌঁছালাম ‘নারিকেল জিনজিরা’ দ্বীপে। অন্যান্য সৈকতে স্রোত ঘোলা হলেও এ দ্বীপের চারদিকে নীল স্বচ্ছ জলরাশি। লবণাক্ত সাগরের এ পানিতে পা ভেজাতে ভালই লাগবে।

দারুচিনি দ্বীপে হুমায়ূন আহমদের ‘সমুদ্র বিলাস’ কটেজ রয়েছে- যা সংরক্ষিত। এ দ্বীপে অনেক আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে, ভিন্ন মান, ভিন্ন ভাড়ায়। প্রচুর নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে বিশিষ্ট করে তুলেছে,করেছে মোহনীয়। স্কুল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র রয়েছে এখানে। পর্যটকদের জন্য আবাসিক হোটেল ছাড়াও কেনাকাটার প্রায় সব রকমের দোকান রয়েছে। তবে বাজার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি। রিকশা/ভ্যানে চড়ে ছোট্ট এ দ্বীপটাকে ঘুরে দেখা যায় অনায়াসে। সঙ্গে রাত যাপন আনন্দকে দ্বিগুণ করবে। সেন্টমার্টিন থেকে স্পিড বোট বা লঞ্চে ছেঁড়া দ্বীপ বা শাহপরীর দ্বীপ ভ্রমণ চিত্তাকর্ষক হবে।

এ দ্বীপে, টেকনাফ, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বিভিন্ন মান ও দামের আবাসিক হোটেল রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারগামী পরিবহনে টেকনাফ যেতে হবে। ঢাকা-টেকনাফ সরাসরি বাসও পাওয়া যাবে। তারপর জাহাজে সাগর পেরিয়ে সেন্টমার্টিন। শ্যামলি, সৌদিয়া, হানিফ, এস আলম প্রভৃতি পরিবহনে যেতে পারেন। ভাড়া এসি ১৫০০ টাকা আর নন এসি ১০০০টাকা। ট্রেনেও চট্টগ্রাম যেতে পারেন তারপর বাসে।

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: