মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পিঁপড়ে কিভাবে চিনতে পারে রানীকে

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

পিঁপড়ের শরীরের গ্র্যান্ড থেকে ফেরোমন নামক সুগন্ধি রাসায়নিক উপাদানের ক্ষরণ হয়। ওরা তাদের এন্টেনা দিয়ে অন্যান্য পিঁপড়ের ফেরোমনের ক্ষরণ নির্ণয় করে শত্রু-মিত্র কিংবা রানীকে চিনে নিয়ে থাকে। পিঁপড়ের ধ্যান-ধারণা অনুভূতি সম্পর্কে এই হলো প্রচলিত মত।

সম্প্রতি এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, পিঁপড়ে প্রজ্জ্বলন উপযোগী রানীর শরীরের অনন্য ঘ্রাণ শুধু তখনই চিনতে পারে, যদি রানীও শ্রমিক পিঁপড়েদের নিজস্ব রাসায়নিক ঘ্রাণের অধিকারী হয়। এই ঘ্রাণ হলো কয়েক ডজন মোমজাতীয় যৌগ উপাদানের মিশ্রণজাত গন্ধ। উপাদানগুলো পিঁপড়ের মাথা থেকে শুরু করে গোটা শরীরের ওপর প্রলেপ হয়ে থাকে। সামাজিক প্রাণীগুলোর কিভাবে বিবর্তন হয় এবং কিভাবে তারা নিজেদের গোত্রের মধ্যকার অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে- এই আবিষ্কার সে সম্পর্কে নতুন আলোকপাত ঘটাতে সাহায্য করবে।

গবেষণার মধ্য দিয়ে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, রাসায়নিক উপাদানগুলোই হলো ট্র্যাপ জ পিঁপড়ের সঙ্গে অন্যান্য পিঁপড়ের পার্থক্য। এই ট্র্যাপ জ পিঁপড়ে সাকুল্যে ৪০ থেকে ৫০টি যৌগ উপাদান তৈরি করে থাকে। সেগুলো তাদের গোটা শরীরে প্রলেপ রচনা করে। এই যৌগ উপাদানগুলোর ঘ্রাণের বদৌলতে পিঁপড়েরা বলে দিতে পারে, কারা তাদের বাসার বাসিন্দা এবং কারা নয়। একবার তারা বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণের এই স্বতন্ত্র ঘ্রাণ চিনতে পারলে, সহজেই গন্ধ শুকে রানী পিঁপড়েকে বের করতে পারে। কারণ রানী পিঁপড়ে নন এ্যাকুসিন উপাদানের ঘ্রাণও বহন করে, যা কিনা ট্র্যাপ জ প্রজাতির পিঁপড়ের প্রজনন সক্ষমতার সর্বজনীন সঙ্কেত এক যৌন ঘ্রাণ। পিঁপড়ের দলের মধ্যে একমাত্র রানী পিঁঁপড়েদেরকেই এই বিশেষ ঘ্রাণটা যোগ করতে দেয়া হয়। পিঁপড়ের ডেরায় যেখানে রানী পিঁপড়ে আগে থেকেই আছে, সেখানে কোন শ্রমিক পিঁপড়ে নিজের প্রজননগত মর্যাদা বাড়ানো এবং সেই কারণে নন এ্যাকুসিন ঘ্রাণ যোগ করার দুঃসাহস দেখালে, অন্যান্য শ্রমিক গন্ধ শুকে তা টের পেয়ে যায় এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

আগে গবেষকরা ধরে নিয়েছিলেন যে, শুধু নন এ্যাকুসিন ঘ্রাণ পেলেই শ্রমিক পিঁপড়েরা বুঝতে পারে যে, তারা রানী পিঁপড়ের আশপাশেই আছে। গবেষক দলের প্রধান এড্রিয়ান স্মিথ তাঁর এই ধারণাটি পরীক্ষা করার জন্য একই প্রজাতির শ্রমিকদের সামনে অন্যান্য কলোনির রানী পিঁপড়েদের হাজির করেন। সাধারণত কোন শ্রমিক পিঁপড়ে রানীকে চিনতে পারার সঙ্গে সঙ্গে অনুগত ভাব ধারণ করে এ্যান্টেনা সারিয়ে নেয় এবং গুঁটিসুঁটি মেরে সরে যায়। কিন্তু দেখা গেল যে, দূরের কলোনির রানী পিঁপড়ের মুখোমুখি হয়ে শ্রমিকরা তাদের এ্যান্টেনা সরিয়ে নেয়নি। অথচ শ্রমিকরা তাদের নিজস্ব কলোনির ভিন্ন ডেরার প্রায় অভিন্ন ঘ্রাণসম্পন্ন রানীদের মুখোমুখি হলে ঠিকই তাদের এ্যান্টেনা সরিয়ে নিয়েছে। তারা সে রানীদের চিনতে পেরেছেÑ এটাই তার প্রমাণ।

স্মিথ বলেন, কোন পিঁপঁড়ে হেঁটে চলার সময় আরেকটি পিঁপড়ের সম্মুখীন হলে মূলত যে কাজটা করে তা হলো, তার শ্রেণীগত অবস্থান নির্ণয়। তার জন্য প্রথমে সে নির্ণয় করতে চায়, ওই পিপঁড়েটি কি তার একই ডেরার বাসিন্দা কিনা। উত্তর যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে পরবর্তী কাজটা হলো সেই পিঁপড়েটা প্রজনন উপযোগী কিনা, তা জেনে নেয়া। পিঁপড়ের বাসার কাজ পরিচালনার জন্য এই দুটো প্রশ্নের জবাব পাওয়া একান্ত প্রয়োজন। সেই জবাব পাওয়ার ক্ষেত্রে পিঁপড়ের শরীরে পূর্ব বর্ণিত রাসায়নিক যৌগ উপাদানগুলোর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। ওই রাসায়নিক যৌগগুলো উদ্বায়ু নয়। পিঁপড়ের শরীর থেকে সেগুলো মুছে যায় না।

সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: