মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেট মেডিক্যালে শিশুমৃত্যু

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

প্রশ্ন উঠেছে সংখ্যা দেখে। একদিনে এত শিশুর মৃত্যু! একটু অস্বাভাবিকই মনে হয়। শঙ্কিত হতে হয় সম্ভাব্য সংক্রমণের কথা ভেবেই। যদিও বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে দশ শিশুর মৃত্যুর পেছনে সংক্রমণজনিত কোন কারণ না থাকার কথাই বলছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় নবজাতকসহ ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। সরকারও এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলেই দ্রুততম সময়ের ভেতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এদের ছয়জন জন্ম জটিলতায়, দু’জন অপুষ্টিজনিত সংক্রমণে, একজন নিউমোনিয়ায় ও অন্য একজন ঠা-াজনিত রোগে মারা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই মৃত্যু স্বাভাবিক।

নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো সহজ অথচ জরুরী হলো সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখার সদিচ্ছাটি। অনেকেই ভুলে যান পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জীবন রক্ষা, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, টিকাদান কর্মসূচী, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণÑ এসব ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সাফল্যের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। বিশ্বখ্যাত জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট কী বলেছিল স্মরণ করা যাক। তারা বলেছিল : ‘স্বাস্থ্যসেবায় কম বরাদ্দ, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ব্যাপক দারিদ্র্য সত্ত্বেও গত চার দশকে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অর্জন ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশের এই সাফল্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রহস্যের মতো।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান আরো এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন : ‘এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে পারে।’ গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেন। জাতিসংঘ ঘোষিত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশের অর্জনও উল্লেখ করার মতো। শিশুমৃত্যু হার কমানোয় বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। এমডিজি অর্জনে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতির কথাটি স্বীকার করে এর অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছিলেন নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন।

আমাদের সরকারী হাসপাতালগুলোতে সঙ্গত কারণেই অধিক মাত্রায় গরিব রোগীরা যান। বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বেশিরভাগেরই মানবসেবার ধরন ও চিকিৎসাবাণিজ্য সম্বন্ধে সচেতন নাগরিকদের কমবেশি ভালই ধারণা আছে। এমন পরিস্থিতিতে বিত্তহীন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা কিন্তু সরকারী হাসপাতালই। সিলেট মেডিক্যালের অবস্থা দেশের আর দশটি সরকারী হাসপাতালের মতোই। ধারণক্ষমতার তুলনায় অধিক রোগী ভর্তি, প্রতিদিনই অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া, ওষুধের স্বল্পতা ইত্যাদি। প্রসঙ্গত, চিকিৎসা ক্ষেত্রে কর্মস্থলে ডাক্তারদের অনুপস্থিতির সমস্যাও ব্যাপক। সম্প্রতি সে সমস্যাও অনেকটা কমে এসেছে। শহরাঞ্চলের বাইরে উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার কড়াকড়ি নীতি-ব্যবস্থা নিয়েছে। বিষয়টি নিয়মিত মনিটর করার জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দেশে নতুন করে ৬ হাজার ৮৯ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত চিকিৎসকদের পোস্টিং দেয়া হয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। কমপক্ষে দুই বছর সে কর্মস্থলে চিকিৎসাসেবা প্রদান বাধ্যতামূলক। এসব উদ্যোগ অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। এ শিশুমৃত্যুর পেছনে কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা বা গাফিলতি তদন্তে বেরিয়ে এলে সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে কতৃপক্ষের এটাই প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: