কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বলিউডের সেরা পাঁচ রোমান্টিক জুটি

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

প্রেম ভালবাসার পূজারি বলিউড। যুগে যুগে একের পর এক ভালবাসার ছবি নির্মাণ করে পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলী সে প্রমাণ দিয়ে চলেছেন, চলছেন। আর প্রেম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে প্রয়োজন হয় একটা যথাযথ জুটির। যাদের অভিনয় করার সময় জড়তার ঊর্ধে উঠে স্বাভাবিক থাকার একটা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে। কালে বলিউড উপহার দিয়েছে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় জুটি। তাদের কেউ কেউ এখন দর্শকদের মনে দাগ কেটে রেখেছে। কোন কোন জুটি হারিয়ে গেছে কালের অতল গহ্বরে। বলিউডের সেরা পাঁচ উল্লেখযোগ্য জুটি নিয়ে ভালবাসার বসন্ত মাসে এই আয়োজনে লিখেছেন নিবিড় লতিফুল বারী

দিলীপ কুমার-মধুবালা জুটি

বাস্তব জীবনে একে অপরের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন বলেই কিনা রূপালী পর্দায় সে ভালবাসা প্রকাশে এত সাবলীল ছিলেন তাঁরা। উপহার দিয়েছেন বলিউডের ভালবাসার জগতে অমর সৃষ্টি ‘মুঘল এ আযম’। হ্যাঁ, দিলীপ কুমার ও মধুবালার কথাই হচ্ছিল। শুধু মধুবালাই নয়। দু’জনে একসঙ্গ চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘অমর’, ‘সাংদিল’, ‘তারানা’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র। একসঙ্গে কাজ করতে যেয়েই মন দেয়া-নেয়া এবং পর্দায় নিজেদের সেরা কাজগুলো উপহার দেয়া। তাদের দু’জনের চরিত্রায়নে ‘মুঘল এ আযম’র সেলিম ও আনারকলি পরবর্তীতে বলিউডের সকল রোমান্টিক জুটির জন্য রোল মডেল হয়ে ছিল। বিশেষ করে ছবির ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলির নেপথ্য কণ্ঠসঙ্গীতে দিলীপ কুমার ও মধুবালার প্রেমের দৃশ্যগুলো পরবর্তী সব সময়ের জন্য অনুকরণীয় হয়ে ছিল। পিতার অবাধ্য হতে সাহস না করায় বাস্তবে পরিণয় হয়নি এই জুটি। তবে এখনকার সুপারস্টারদের মতো তাঁরা তাঁদের সম্পর্কের ব্যাপারে লুকাছাপা করতেন না বরং সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলার মনোভাব তাঁদের কখনোই ছিল না। ছিল না হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটার ব্যাপারে কোন জড়তা। এই জুটির ট্র্যাজিক সমাপ্তির পর একবার দিলীপ কুমার প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ‘মধুবালার প্রতি তার ভালবাসা সব সময়ই ছিল এবং তা থাকবে আজীবন।’

বাস্তব জীবনের পরিণয়কে সাফল্যম-িত করতে পারলে হয়ত বলিউড আরও অনেক প্রেমের ছবি উপহার পেত তাদের কাছে। কিন্তু তাদের চূড়ান্ত পরিণয়ের বাধা হয়ে দাঁড়ান মধুবালার বাবা। ফলে পর্দার সফলতাকে বাস্তবে নামিয়ে আনতে পারেননি তাঁরা। তবে তাতে কি? পর্দার পারফরম্যান্স দিয়েই অমর হয়ে আছে এই জুটি।

অমিতাভ-রেখা জুটি

বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ও রহস্যময় পর্দার জুটির নাম বললে সবার মনে যে নামটি আসবে তা হলো অমিতাভ বচ্চন ও রেখা জুটি। অমিতাভ বচ্চন তার প্রজন্মের অনেকের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন। তাদের মাঝে শর্মিলা ঠাকুর, থেকে স্মিতা পাতিল সবাই আছেন। কিন্তু তার সঙ্গে সেরা জুটি হিসেবে মানা হয় রেখাকে। ১৯৭৩ সালে ‘নিমকহারাম’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এ জুটি প্রকৃত অর্থে সাফল্য পায় ১৯৭৫ এ ‘দো আনজানে’ ছবিতে। সেই থেকে ১৯৮১ অবধি দুজন জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন ১০ টিরও বেশি ছবি যার অনেকগুলোই ছিল ব্যবসাসফল। তবে এ জুটির অবসান হয় ১৯৮১ এ যশ চোপড়ার ‘সিলসিলা’ ছবির মাধ্যমে। কারণ সেই সময় অমিতাভ বচ্চন, জয়া ভাদুড়ী ও রেখার অতিবাহিত বাস্তব জীবনের একটা প্রতিচ্ছবি এই ছবিতে ফুটে ওঠে। সেই শেষ ছবি। এরপর আর কোন ছবিতে এক জুটি একই ফ্রেমে আসেনি। আর সমগ্র বচ্চন পরিবারও রেখার সঙ্গে একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলে। যদিও গত ৬০তম ফিল্ম ফেয়ারের পুরস্কার বিতরণীতে হাজির ছিলেন দুজনেই।

সাইফ আলী খান-কারিনা কাপুর জুটি

সাইফ খান ও কারিনা কাপুর তো এখন পর্দা জুটি ছাড়িয়ে বাস্তবেরও জুটি। তবে বাস্তবের জুটি পর্যন্ত পৌঁছাতে কিন্তু পর্দার বোঝাপড়া ভালই কাজে লেগেছে মনে হয়। তা না হলে নিজেদের আগের সম্পর্কগুলো ভেঙে তারা এক ছাদের তলায় আসতেন না। সাইফ কারিনার একসঙ্গে কাজ করা শুরু হয় ‘এলওসি কারগিল’ ছবির মাধ্যমে। তবে তখন ঠিক জমেনি এই জুটি। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ‘ওমকারা’ ও ২০০৮ সালে ‘তাশান’ সিনেমায় অভিনয় করার সময় দুজনের পর্দার রসায়ন জমে ওঠে। জুটি বেঁধে একে একে অভিনয় করেন ‘রোডসাইড রোমিও’, ‘কুরবান’, ‘এজেন্ট বিনোদ’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে । আর পর্দার এই জুটিকে স্থায়ী রূপ দিতে এক পর্যায়ে বিয়ে। পাতৌদির নবাব সাইফ আলি খানের সঙ্গে কারিনার জুটি, তা সে বাস্তবেই বা পর্দার যাই হোক না কেন, তা বলিউড সিনেমাপ্রেমীদের মনে দাগ কাটবে দীর্ঘদিন।

শাহরুখ খান-কাজল জুটি

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমাকে বলা হয় বলিউডের রোমিও জুলিয়েট। ১৯৯৫ এ মুক্তি পাওয়া এ ছবিকে এখনও অনেক বাস্তবের জুটিই তাদের প্রেমের রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে। আর এ ছবিতে সেই অমর ভালবাসার চরিত্রে রূপদান করেছিলেন শাহরুখ খান ও কাজল। এ কথা বলাই যায় যে, এই জুটি বলিউডের ইতিহাসে যে কোন জুটির সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। কারণ আর কিছুই নয়। পর্দায় অভিনয়ের সময় তাদের অভিব্যক্তির মাঝে একটা বাস্তব জীবনের ছাপ ফুটে ওঠে। যেন পর্দার বাহিরেও তারা একসঙ্গে। অথচ শাহরুখই গৌরীর সঙ্গে জীবন কাটিয়ে দিলেন আর ওদিকে কাজল অজয় দেবগনের সঙ্গে। কিন্তু তাতে কি? পর্দায় দুজন মুখোমুখি দাঁড়ালেই বলিউডের সকল জুটি ম্লান হয়ে যায় তাদের সামনে। শুরুটা ছিল ১৯৯৩ তে ‘বাজিগর’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে। ব্লকব্লাস্টার হিট হওয়ার পর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছাড়াও এই জুটি একে একে উপহার দেন ‘করণ অর্জুন’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ প্রভৃতি ব্যবসা সফল ছবি। কাজল মাঝে কয়েকটি ছবিতে বিশেষ দৃশ্যে হাজির হলেও শাহরুখের সঙ্গে পুরোদমে হাজির হলেন ‘মাই নেম ইজ খান’ সিনেমায়। শাহরুখ তো জানিয়েই দিয়েছেন কোন অভিনেত্রীই কাজলের স্থান পূরণ করতে পারবে না। আর ঘরকন্না নিয়ে ব্যস্ত হয়ে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও, শাহরুখ চাইলেই ‘কাল হো না হো’ কিংবা ‘ওম শান্তি ওম‘ এ কয়েক সেকেন্ডের জন্য হাজির হয়ে যান কাজল। হয়তো সেই জুটির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই।

আমির খান-জুহি চাওলা

আমির খানের অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম ‘হোলি’। আর ওদিকে জুহি চাওলার প্রথম ছবির নাম ‘সালতানাত’। অথচ সমগ্র বলিউড জানে তাদের দুজনেরই অভিষেক চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’। কারণটা আর কিছুই নয়। পর্দায় দুজনের প্রাণবন্ত অভিনয়। আর গল্পটাও ছিল প্রেমের। ফলে দর্শকদের একটা স্বচ্ছন্দ ভাব চলে আসে এই জুটির ওপর। বর্তমানে আমির খান অনেক খুঁতখুঁতে একজন নায়ক।

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: