রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বোমাবাজদের ধরে পুরস্কৃত হলেন চারজন

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • এক রিক্সাচালক তিন শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকায় নাশকতাকালে হাতেনাতে বোমাবাজদের ধরে পুরস্কৃত হলেন এক রিক্সাচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্র। তিন ছাত্র পুরস্কারের টাকা বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী অবরোধ-হরতালে দগ্ধদের সহায়তায় দান করে দেন।

গত সোমবার রাতে দুই বোমাবাজ রিক্সাযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন কাঁটাবন মোড়ে যায়। মোড়ে রিক্সা থেকে নেমে দুই আরোহী যাত্রীবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারে। এ সময় ওই রিক্সাওয়ালা এক বোমাবাজকে ধরে ফেলে। পরে জনতা ওই বোমাবাজকে গণধোলাই দেয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বোমা মেরে পালানোর সময় সাহসিকতার সঙ্গে বোমাবাজ হাতেনাতে ধরে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়টির তিন ছাত্র। বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাহসী রিক্সাচালক মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্র মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ ইয়াজ আলী ও মোঃ আল নাহিয়ান জয়ের হাতে পুরস্কারের নগদ অর্থ তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। রিক্সাচালককে পুলিশের তরফ থেকে ৫০ হাজার এবং একজন সমাজসেবী ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার মোট এক লাখ টাকা দেয়া হয়। আর ছাত্রদের পুলিশের তরফ থেকে নগদ ৫ হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা চাই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক এমন সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসুক। তাহলে আর রাজধানীতে নাশকতা বা সহিসংসতার বলি হয়ে কাউকে প্রাণ হারাতে হবে না। নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেয়া অন্তত আরও ১৫ জনকে ডিএমপির পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, গত ৬ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজধানীতে ১১টি যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অন্তত ১৬৮টি যানবাহনের অংশিক ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীতে দায়িত্ব পালনকালে ৪৪ পুলিশ সদস্য এবং ২ আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। কর্তব্য পালনকালে নিহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।

সারাদেশে অবরোধ-হরতালের নামে নাশকতা, সহিংসতা, ককটেল, পেট্রোলবোমা হামলার মাধ্যমে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা চলছে, যা রুখতে ইতোমধ্যেই পুলিশের তরফ থেকে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া নাশকতাকারীদের ধরা সম্ভব না। নগরবাসীর কাছ থেকেও পুলিশ ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১৮৬ জন ককটেল ও পেট্রোলবোমাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৮৪ জন জামায়াত-শিবিরের আর ১০২ জন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য মোতাবেক নাশকতাকারী, তাদের অর্থদাতা ও মদদদাতাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অবরোধ-হরতালে চলমান অভিযানে গত বুধবার পর্যন্ত এক হাজার ১০ জন আটক হয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের দ্ধারা পুলিশ আক্রান্ত হলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। অবরোধ ও হরতালে নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। গত তিন দিনে নগরীতে কোন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিলি বিশ্বাস ও যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামসহ ডিএমপির সব উর্ধতন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: