মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সাফ জবাব ॥ কোন সংলাপ নয়

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
প্রধানমন্ত্রীর সাফ জবাব ॥ কোন সংলাপ নয়
  • প্রতিটি হত্যার বিচার হবে
  • জামায়াত-বিএনপি জঙ্গী
  • আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের যেভাবে বিচার হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে

জনকণ্ঠ রিপোর্ট॥ হরতাল-অবরোধের নামে নির্বিচারে মানুষ খুন কোন রাজনৈতিক কর্মকা- হতে পারে না। প্রত্যেকটি সহিংস ঘটনার তদন্ত চলছে। নাশকতা সৃষ্টিকারীদের পাশাপাশি হুকুমদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং উস্কানি দাতাদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে। তদন্তে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এইসব খুনির সঙ্গে সংলাপের কোন রকম সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তৃতা এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন উইনিটে দগ্ধ মানুষকে দেখতে গিয়ে শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন।

বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন উইনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দগ্ধ মানুষকে দেখতে যান। এ সময় দগ্ধ মানুষের অসহায়ত্বে তিনি অশ্রু লুকাতে পারেননি। দগ্ধ এবং তাদের স্বজনদের সান্ত¡না দেন তিনি। এ সময় তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৬৩ জনকে ১০ লাখ টাকা করে অনুদানের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র হস্তান্তর করেন তিনি।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জাতীয় সংসদে বলেন, রাজনীতি নয়, খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধের নামে দস্যুবৃত্তি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদী কর্মকা-ের মাধ্যমে জনগণকে হত্যা করছেন। খালেদা জিয়া একজন খুনী। নিরীহ মানুষের লাশের ওপর দিয়ে উনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতা দখল করতে চান। প্রতিটি নাশকতার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বাংলার মাটিতেই তাঁর বিচার করা হবে। আর দস্যুতা, জঙ্গীবাদ কর্মকা- এবং বীভৎস কায়দায় মানুষ হত্যার কারণে দেশবাসী চাইলে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিও এমনিতেই নিষিদ্ধ হবে। কারণ এদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। নাশকতা সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার জন্য যতটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন আমরা তা হব। বিএনপি নেত্রীকে বলব এই নাশকতা বন্ধ করুন, তা না হলে এ দেশের জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।

নাশকতাকারী, তাদের হুকুমদাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের পাশাপাশি উস্কানি দাতাদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী ঘর থেকে বের হয়ে দলীয় কার্যালয়ে থেকে মানুষ হত্যার হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। জনরোষ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দলীয় কার্যালয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছেন। উনি যেসব অপকর্ম ও বীভৎস কর্মকা- করছেন, তার বিরুদ্ধে দেশের জনগণ ফুঁসে উঠেছে। দেশের মানুষ এমনই ক্ষেপে গেছেন যাতে যে কোন সময় ওই কার্যালয়ে আক্রমণ হতে পারে। এটা বুঝেই উনি কার্যালয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, দেশে আইনের অভাব নেই। নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল না হলেও আলাদা একটি বিশেষ আদালত গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে কিছু একটা ঘটবে এই আশায় খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয়ে বসে আছেন। কী ঘটনা ঘটবে? কেউ এসে তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসাবে এই আশায় কী উনি সেখানে বসে আছেন? ক্ষমতার লোভে মানুষ খুন করে যাচ্ছেন? দেশবাসীকে নাশকতাকারীদের ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জানমালের ক্ষতি সাধনকারী নাশকতা কার্যক্রম প্রতিহত করা দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার। তাই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিÑ এই নাশকতাকারীদের হাতে-নাতে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধৈর্য্য ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।

ড. কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমানের মান্নাদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, উনারা অনেক কথা বলেন। দেশবাসী ভেবেছিল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁরা বিএনপি নেত্রীকে হরতাল-অবরোধের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা বন্ধ করতে বলবেন, হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে অনুরোধ জানাবেন। কিন্তু সাক্ষাতের সময় তাঁরা এ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি। এরা একাধারে রাজনীতিও করেন, আবার সুশীলও সাজেন। আবার অনেকেই টকশোর মাধ্যমে সহিংসতা-নাশকতামূলক কর্মকা-কে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যাঁরা উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন, সে বিষয়টিও আমরা মনিটরিং করছি, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। উস্কানিদাতারাও এসব খুন-খারাবির দায়দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। ড. কামাল হোসেনদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যাঁরা এত বড় বড় কথা বলছেন তাঁরা কী কখনও বার্ন ইউনিটে গিয়েছেন? আহত-নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন? উনারা বসে আছেন খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা করে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন সেই পথ দিয়ে তাঁরা ক্ষমতায় যাবেন। কিন্তু তাদের সেই আকাক্সক্ষা কোনদিন পূরণ হবে না। তাদের আশা নিরাশা হয়েই থাকবে। দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়া লাশ ফেলবে, আর উনারা ক্ষমতায় যাবেন- দেশের জনগণ তাদের সেই সুযোগ দেবে না।

বিরোধী দলের চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া তো রাজনীতি করছেন না। উনি রাজনীতির নামে দস্যুবৃত্তি করছেন। খালেদা জিয়া জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য জীবন সুরক্ষা করছেন। উনি এখন জঙ্গী নেতা। উনি মানুষের নেতা নন, জঙ্গীদের নেতা। বাংলাভাই উনার সৃষ্টি, উনি বাংলাভাইয়ের মা। দেশবাসী যদি চায়, জনগণ যদি চায় উনার রাজনীতি করার অধিকার নেই। সেটা হলো বাস্তবতা। দেশের মানুষ যদি চায়, জনগণ যদি চায় এমনিতেই তারা নিষিদ্ধ হবে। জনগণ চাইলে বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।

আবদুর রউফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবরোধ-হরতালের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এটি কোন আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী নৃশংসভাবে বাংলার মানুষকে যেভাবে খুন করেছে, এই হত্যাযজ্ঞ তাকেও হার মানায়। এছাড়া সম্প্রতি আইএসআইএস যে পদ্ধতিতে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে, বিএনপি-জামায়াত জোটও একই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ফলে এটি বোঝা যায় এ হত্যাকা-ের সঙ্গে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আন্দোলনের নামে যারা পেট্রোলবোমা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- করে জানমালের ক্ষতিসাধনসহ নিরীহ মানুষ হত্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আবদুল মতিন খসরুর নাশকতা দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক আইন আছে। আইনের কোন অভাব নেই। সন্ত্রাস দমন আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন আছে। আইনগুলো সক্রিয় করা এবং আরও কার্যকর করার ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রীকে আমি বলেছি প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল না হলেও বিশেষ কোর্ট নির্ধারণ করে দেয়া, যেখানে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের যেন বিচার করা হয়। তাদের বিচার দ্রুত হওয়া উচিত। এ ধরনের নাশকতা মেনে নেয়া যায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মানুষ খুন করার বিরাট আগ্রহ আছে। মানুষ খুন করে লাশের উপর পা দিয়ে তার ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা। তিনি নির্বাচনেও বিশ্বাস করেন না, ভোটেও বিশ্বাস করেন না। না হলে গত নির্বাচনের আগে আগে আমি উপযাচক হয়ে তাকে ফোন করেছিলাম। আমাকে কিভাবে অপমান করা হয়েছে দেশের মানুষ তা দেখেছেন। তিনি বলেন, ওই সময় টেলিফোন করে তাঁকে আলোচনার বসায় অনুরোধ করেছিলাম। নির্বাচনকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও তাঁদের প্রস্তাব করেছিলাম। তখন তাঁদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা আমি পাইনি। তিনি বলেন, জামায়াত নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করতে না পাড়ায় জামায়াত নির্বাচনে আসতে পারেনি বলেই বিএনপিও নির্বাচনে আসেনি। এটাই হলো বাস্তব কথা। এখন খালেদা জিয়া জামায়াতকে নিয়ে মানুষ হত্যায় নেমেছেন। উনার কোন কাজ নেই, শুধু প্রতিদিন কত মানুষ পুড়বে, কত মানুষের লাশ দেখবে- এটাই উনি চায়। এগুলোর বিচার ইনশাল্লাহ আমরা করব। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিরোধী দলের নেত্রী রওশন এরশাদ, সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ ও হাজী মোহাম্মদ সেলিমের পৃথক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়ে মানুষ হত্যার হুকুম দিয়েছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। ইতোমধ্যে তাঁর (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কি অপরাধ করেছে? এ দেশের মানুষ কি উন্নত হতে পারবে না? আসলে মানুষের শান্তি দেখলেই উনার অশান্তি শুরু হয়। মানুষের জীবনের শান্তি উনার সহ্য হয় না। সেই অশান্তির আগুনে উনি দেশকে ছারখার করে দিচ্ছেন। তাই খালেদা জিয়াকে বলব, এভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারা যেন উনি বন্ধ করেন। অবশ্যই তাঁর বিচারও বাংলার মাটিতে হবে।

সকালে বার্ন ইউনিটে দগ্ধদের অর্থ সহায়তা দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, হরতাল-অবরোধের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে, সেই খুনীদের সঙ্গে কোন সংলাপ নয়। খুনীদের সঙ্গে কিসের সংলাপ? যাঁরা সংলাপের কথা বলেন, তাঁরা আগে এই সন্ত্রাস বন্ধ করার উদ্যোগ নিক। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার খেলা আগে বন্ধ করতে হবে। আসলে এই মহিলার (খালেদা জিয়া) মানসিক বিকৃতি ঘটেছে। তিনি যেভাবে মানুষ হত্যায় নেমেছে, তা বিকৃত মানসিকতা। জামায়াত-শিবির তাঁর দোসর। তিনি যা করছেন তা রাজনীতি নয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ। জঙ্গীদের যেভাবে বিচার হয়, খালেদা জিয়ারও সেভাবেই বিচার হবে। সেভাবেই তাঁকে শাস্তি পেতে হবে।

বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ২০ দলের অবরোধ-হরতালের আগুনে দগ্ধদের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী আগুনে পুড়ে আহত ৬৩ জন রোগীর প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেন। পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এই অনুদান দেয়া হয়।

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বার্ন ইউনিটে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একে একে হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধদের শয্যাপাশে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পেট্রোলবোমায় দগ্ধ রোগীদের কথা গভীর মনোযোগের সঙ্গে শোনেন তিনি। অনেকের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত¡না দেন। এক পর্যায়ে আগুনে পোড়া অসহায় মানুষগুলোর কষ্ট এবং দুর্দশা দেখে কেঁদে ফেলেন তিনি। যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় গুরুতর দগ্ধ ফার্মাসিস্ট সাহিদা ফাতেমা জামানের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বার বার কণ্ঠরোধ হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। তাকে বলেন, দোয়া করি, দ্রুত সুস্থ হয়ে সন্তানের কাছ ফিরে যাও।

বার্ন ইউনিট থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি বিশিষ্ট জনদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিঠি প্রদানের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু লোক খেলা শুরু করেছে। আর এক দল বসে সংলাপ সংলাপ করছেন। এদের অনেকেই তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা থাকতে নির্বাচনই দিতে পারেননি।

অন্য নেত্রীর সঙ্গে তাঁকে এক পাল্লায় না মাপার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সংলাপের কথা বলে আমাকে দোষারোপ করা হয় কেন? আমি তো ছয় বছর ধরে দেশ চালাচ্ছি। এই ছয় বছরে দেশে যত উন্নয়ন হয়েছে, তা অতীতের কোন সময়ে হয়নি।

সংলাপ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ করব? যিনি আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন, তার সঙ্গে? আমি তো গিয়েছিলাম, খালেদা জিয়া তো ঢুকতেই দিলেন না। আর খুনীর সঙ্গে কিসের সংলাপ? যার মধ্যে এতটুকু মনুষ্যত্ব ও মায়া দয়া নেই, তার সঙ্গে সংলাপ করতে হবে কেন?

হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীকে মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স কেউ দেয়নি। দুই বছরের শিশুর ওপরও বোমা হামলা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আর তিনি গুলশানে আরাম-আয়েশে থেকে মানুষ পোড়ানোর হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে মানুষ হত্যা আর সহ্য করা হবে না। খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষকে বাঁচার সুযোগ না দিয়ে এভাবে হত্যা করা, এটি কোন রাজনীতি নয়। এটি একেবারে জঙ্গীবাদী কাজ, সন্ত্রাসী কর্মকা-। জামায়াত-বিএনপি এরা জঙ্গি। এই জঙ্গীবাদীদের থামাতে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, সরকার ততটাই কঠোর হবে। আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গীবাদের যেভাবে শাস্তি দেয়া হয়, এদের সেভাবেই শাস্তি দেয়া হবে। যারা বোমা বানায়, সরবরাহ করে, মারে এবং হুকুম দেয়, অর্থ যোগান দেয়- তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

বোমাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলে মিলে প্রতিরোধ গড়তে হবে। যারা অর্থ যোগান দেয়, বোমা বানায়, বোমা মারে তারা সবাই দোষী। সবাইকে ধরতে হবে। নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এজন্য এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত ও খালেদা জিয়ার ধ্বংসাত্মক কর্মকা- ও বক্তব্য-বিবৃতি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জল্লাদের খবর প্রচার না করাই ভাল। এতে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হয়। এদের খবর প্রচার না হলে টেলিভিশন কী চলবে না? জল্লাদের প্রচার বন্ধ করুন, দেখবেন এদের উৎসাহ বন্ধ হয়ে যাবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সামন্ত লাল সেন প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: