রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আর কত লাশ পড়লে হুকুমদাতাকে গ্রেফতার করা হবে ॥ সংসদে এমপিদের প্রশ্ন

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ আর কত লাশ পড়লে, আর কত মায়ের বুক খালি হলে নাশকতা-সন্ত্রাসের হুকুমদাতা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে- তা প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারী দলের সিনিয়র মন্ত্রীদের কাছে জানতে চেয়েছেন সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ প্রশ্ন রেখে সংসদ সদস্যরা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিদ্রোহের আগুন ফুঁসে উঠছে। বিক্ষুব্ধ জনগণের সেই ক্ষোভের আগুনে কে পুড়ে দগ্ধ হবে, তা বুঝতে হবে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। গাইবান্ধায় গাড়িতে পেট্রোলবোমায় নিজের নির্বাচনী এলাকার সাত নিরীহ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা তুলে ধরে সরকারী দলের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন বলেন, গাইবান্ধায় বাসে পেট্রোলবোমায় আমার নির্বাচনী এলাকার সাতজন মারা গেছে। একজন মানুষকে খুন করার অপরাধে যদি খুনির শাস্তি মৃত্যুদ- হয়, তবে এতো মানুষকে হত্যার হুকুমদাতা খালেদা জিয়াকে কেন গ্রেফতার এবং বিচার করা হচ্ছে না? এ বিষয়টি আমার এলাকার মানুষ জানতে চায়। আর কত লাশ পড়লে খালেদা জিয়ার বিচার হবে? এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না।

বিএনএফের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের জনগণের ওপর অবৈধ হরতাল-অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে। শতাধিক মানুষের জীবনহানি ঘটেছে। দেশবাসীর প্রশ্ন- এমন নিষ্ঠুর নাশকতা কতদিন চলবে? মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে নিশ্চুপ বসে থাকবে না। মানুষের হৃদয়ে জেগে উঠা বিদ্রোহের আগুনে কে পুড়ে যাবে কেউ জানে না। এতো মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে কেন এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? তিনি বলেন, কিছু কথিত বুদ্ধিজীবী সংলাপের কথা বলছেন, কিন্তু কার সঙ্গে সংলাপ? যারা মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে কখনও সংলাপ হতে পারে না।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ঢাকা হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ছাড়া দেশের কোথাও আগুনে দগ্ধ রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ফলে দগ্ধ রোগীরা ঢাকায় আনার আগেই মৃত্যুবরণ করছে। আর ঢাকার বাইরে বার্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও অভাব রয়েছে।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা ॥ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে টিআর-জিআর প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত টাউট-বাটপাড়দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর টাউট-বাটপাড় তো দূরের কথা ‘ইঁদুরও’ আমার মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেনি।

সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে সরকার দলীয় সদস্য পঙ্কজ নাথ অভিযোগ করেন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অস্তিত্বহীন প্রকল্প তৈরি করে টিআর-জিআর বরাদ্দ নেয়া হয়। ওই বরাদ্দ কমিশনের মাধ্যমে দালালরা বিক্রি করে থাকে।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: