মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আইএস দমনে সর্বাত্মক হামলা

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • কামরুল হাসান

বিশ্বের প্রতিটি সংঘাত নতুন সমরকৌশল ও অস্ত্রের সূচনা ঘটিয়েছে। যেমন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরিখা, দ্বিতীয়টিতে ট্যাঙ্ক ও পরমাণু বোমা, ভিয়েতনাম যুদ্ধে হেলিকপ্টার এবং ৯/১১ পরবর্তী বিশ্বে ড্রোন ও আত্মঘাতী গাড়িবোমা। আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার পাশাপাশি তালেবান, আল কায়েদা, বোকো হারাম এবং আইএস জঙ্গীরা নতুন এক সমরকৌশলের পন্থা অবলম্বন করছে, আর তা হলো নির্মম গলা কেটে হত্যা। আইএস জঙ্গীরা এসব নির্মম হত্যাকা-ের পাশাপাশি এখন আরও ভয়াবহ বর্বরতার দিকে ঝুঁকছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে তা বিশ্বে খুব দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গীগোষ্ঠীগুলো নির্মম হত্যাকা- ঘটালেও, তা প্রকাশ করা কিংবা ভিডিওতে ধারণ করার মতো পাশবিকতা দেখায়নি। কিন্তু আইএসের তৎপরতা অতীতের সকল ইতিহাসকে হার মানিয়ে ফিরে গেছে আদিম অসভ্যতায়। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায়, শাসকশ্রেণী প্রকাশ্য জনসম্মুখে অপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে জনগণের মনে ভয় সঞ্চার ঘটাতো। যা রোমান ইউরোপিয়ান, মোগল প্রায় সব সম্রাজ্যেই প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল। আইনের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের মনে ভয় ঢুকানোই ছিল এমন প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের কৌশল। আইএস জঙ্গীদের কৌশলও পুরনো শাসকদের পন্থাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শত্রুকে নির্বিচারে হত্যার মধ্য দিয়ে আইএস মূলত বিরোধী শিবিরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমে আগ্রহী। সেইসঙ্গে আইএসের বিপক্ষে যুদ্ধরত সকলের মনে ভীতি ও মনোবল দুর্বল করাই তাদের লক্ষ্য। তাদের এমন কাপুরুষের মতো হামলার মূলে জিহাদ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে উগ্রবাদকে ছড়িয়ে দেয়া। আইএস বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অঞ্চল দখল করে আছে। মূলত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আরব মার্কিন মিত্রদেশগুলোর মদদে তাদের উত্থান। বর্তমানে দলটিতে পনেরো হাজারের বেশি বিদেশী যোদ্ধা ও দু’লক্ষের মতো সদস্য রয়েছে। ইরাক ও সিরিয়া দুই ফ্রন্টেই তারা যুদ্ধরত। ইরাকের সেনাবাহিনী ও কুর্দি পেশমারগার হামলার কারণে ইরাকে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে সংগঠনটি। ইরাকি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, আগামী ৬ মাসে ইরাকের ভূ-খণ্ড থেকে আইএস জঙ্গীদের বিতাড়িত করা সম্ভব। অন্যদিকে সিরিয়ার কর্দি অধ্যুষিত অঞ্চল কোবানির পরাজয় তাদের মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। জর্ডানের পাইলট হত্যার প্রতিশোধ নিতে জর্ডান ও আরব আমিরাতের যৌথ বিমান হামলাও বিপর্যস্ত করেছে তাদের। প্রধান ঘাঁটি আলপ্পোয় গত দুদিনে ৫৬ বার হামলার কথা স্বীকার করেছে জর্ডান সরকার। তাদের বিমানবহরে যোগ দিয়েছে আরব আমিরাতের এফ-১৬ জঙ্গী বিমান। জর্ডানের পাশাপাশি জাপান সরকারও আইএস জঙ্গীদের নির্মূলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। জাপান আইএস জঙ্গী দমনে অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। আইএস জঙ্গীগোষ্ঠী এখন কেবল ইরাক ও সিরিয়ার সমস্যা নয়। সংগঠনটি প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের ভিত নড়বড়ে করে দিয়েছে। আইএস জঙ্গী দমনে ইতোমধ্যে লেবানন সরকারের ২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সাহায্য দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি নতুন বাদশাহ আইএস জঙ্গী দমনে আন্তরিক বলে জানায় একজন মুখপাত্র। আইএস জঙ্গীদের বিরুদ্ধে এখন সব ফ্রন্ট্রেই সর্বাত্মক হামলা চালানো হচ্ছে। কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে পেশমারগা কিংবা ওয়াইপিজি সিরিয়ায় জর্ডান কর্তৃক বিমান হামলা ও ইরাকের সেনাবাহিনীর স্থল হামলা বর্তমানে ব্যাকফুটে নিয়ে গেছে এই জঙ্গীদের।

ইতোমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো আইএস জঙ্গীদের অর্থের যোগান ঠেকাতে আরব ধনুককুবের সতর্ক করেছে, চলছে পশ্চিমা গোয়েন্দা নজরদারি। তবে আইএস জঙ্গীদের প্রধান আয়ের উৎস তেল ব্যবসা। ইরাকের দখলকৃত তেলখনি থেকে তারা প্রতিদিন হাজার ব্যারেল তেল বিক্রি করছে চোরাপথে। আইএস জঙ্গী নির্মূলে লেবাননের জঙ্গী সংগঠন হিযবুল্লাহ- ও সিরিয়ার অন্যান্য সুন্নি গোষ্ঠীগুলোও তৎপর। সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে তারা মুখোমুখি।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: