মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাকিবেই দৃষ্টি সবার

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটেই নয়, বিশ্বক্রিকেটেও সাকিব আল হাসান অনেক বড় মাপের ক্রিকেটার। তা প্রমাণ করতে একটি বিষয়ই সামনে তুলে ধরলে হয়। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ ক্রিকেট ফরমেটে একসঙ্গে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন। কিন্তু এ সেরা অলরাউন্ডারই আবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মতো মহাক্রিকেটযজ্ঞে ছোট্ট মাপের ক্রিকেটার হয়ে যান। নৈপুণ্য যে নিজস্ব ধারায় হয় না! এবার যখন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে নামবে, সাকিব সেই দলের সেরা তারকা হয়েই নামছেন। এ সাকিবেই দৃষ্টি থাকছে সবার।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বর্তমানে সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিকেটার কে? এ প্রশ্ন উঠলেই একটি নাম সবার চোখে ভেসে উঠে, তিনি সাকিব আল হাসান। কিন্তু এ সাকিবই বিশ্বকাপে নিষ্প্রভ থাকেন। কী ওয়ানডে বিশ্বকাপ, কী টি২০ বিশ্বকাপ; সাকিবের কাছ থেকে মিলে না বিশেষ কোন নৈপুণ্য। বড় দলগুলোর বিপক্ষে তো সাকিব একেবারে নীরব ভূমিকায় থাকেন।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে দুইবার বিশ্বকাপ খেলেছেন সাকিব। ২০০৭ ও ২০১১ সালে। ১৫টি ম্যাচ খেলেন।

রান ২৬.৪৬ গড়ে তিন অর্ধশতকে মাত্র ৩৪৪। বল হাতেও আহামরি কিছু করতে পারেননি। নিয়েছেন ১৫ ম্যাচে ১৫ উইকেট! টি২০ বিশ্বকাপেও সাকিবের অবস্থা বেহালই। ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপে খেলে ৭ ম্যাচে ৩৭.২০ গড়ে করেছেন ১৮৬ রান। বল হাতে নিয়েছেন ৮ উইকেট। এবার সাকিব যখন তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন তখন দলের ভরসার ক্রিকেটার হয়েই নামছেন।

সাকিব অবশ্য সেরাটা দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। বলেছেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ ভালবাসি। আমাদের দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আমার রেকর্ড খুব বাজে। খুব বেশি উপভোগ করি না। মাঠে নামি, খেলি। কখনই বেশি ভাল করতে পারি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ আমি পছন্দ করি। চ্যালেঞ্জ আমাকে তাতিয়ে দেয়। ভাল কিছু করার অনুপ্রেরণা যোগায়।’

এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাকিব বুঝিয়েও দিতে চান বাংলাদেশ দল কতটা উন্নতি করেছে। সাকিবই বলেছেন, ‘বড় মঞ্চে পারফর্ম করার দারুণ সুযোগ বিশ্বকাপ। শুধু আমার জন্য নয়, দলের জন্যও। আমরা ক্রমেই উন্নতি করতে থাকা একটি দল। বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে যে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। হারিয়ে দিতে পারি যে কোন বড় দলগুলোকে।’ এ সময় ২০০৭ বিশ্বকাপের স্মৃতি সামনে তুলে ধরলেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার, ‘২০০৭ বিশ্বকাপে আমরা পেরেছি। হারিয়ে ছিলাম ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। গত বিশ্বকাপে হারিয়েছি ইংল্যান্ডকে। আশা করি এবারও আমরা কয়েকটি বড় দলকে হারিয়ে খেলব দ্বিতীয় রাউন্ডে। আমাদের জন্য সেটি হবে দারুণ অর্জন।’

এ অর্জন কুড়িয়ে আনতে হলে সাকিবকে বিশেষ কিছু করে দেখাতে হবে। বিশ্বকাপ আসরে বিশেষভাবে সাকিব ঝলক না মিললেও ২০০৭ সালে যে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচই জেতে নিয়েছে বাংলাদেশ, সেই ম্যাচে সাকিবেরও বিশেষ অবদান ছিল। বল হাতে কোন উইকেট নিতে না পারলেও ব্যাট হাতে করেছেন ৫৩ রান। সাকিবের কাছ থেকে বিশেষ ম্যাচগুলোতে এমন, কখনও এরচেয়েও বেশি কিছুই আশা করছে সবাই। দেখা যাক সাকিব এবার কী করেন।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: