মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ফাইনালে থাকছে!

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রকিবুল হাসান

বিশ্ব ভালবাসা দিবস ১৪ ফেব্রুয়ারি। এই ভালবাসা দিবসেই পর্দা উঠছে একদিনের ক্রিকেট অর্থাৎ ৫০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে আয়োজন করছে এবারের প্রতিযোগিতা। আমরা জানি বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াই করবে প্রতি গ্রুপ থেকে চারটা করে দল কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হবে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ের পরে যারা কোয়ালিফাই করবে তখন যে লড়াইটা হবে তাকে একটা ভাষায় বলা যায় ককফাইট হবে। অর্থাৎ নকআউট পাঞ্চ। কোয়ার্টর ফাইনাল থেকে তিনটা ম্যাচ যে জয় করবে তারাই চ্যাম্পিয়ন এবং একদিনের ক্রিকেটকে আগামী চার বছর তারা শাসন করবে।

বাংলাদেশ এবার দিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে। এই মুহূর্তে যখন আমি লেখাটি লিখছি দল তখন অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। মূল টুর্নামেন্ট শুরুর পনেরো দিন আগে গেছে মূলত ওখানকার আবহাওয়া, পিচের কন্ডিশন, ওখানকার সব কিছুর সঙ্গে নিজেদের কিছুটা খাপ খায়িয়ে নেয়ার জন্য। এর প্রয়োজনীয়তাও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ অন্যান্য দেশের মতো যারা আগে থেকে ওখানে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলেছে বা ম্যাচ খেলেছে, নিজেদের ধাতস্থ করেছে; এই সুযোগটা বাংলাদেশের হয়নি। সেটা অবশ্য যোক্তিক কারণেই হয়নি। কারণ দেশে নিজস্ব ঘোরোয়া ক্রিকেট ছিল। তাছাড়া জিম্বাবুইয়ে কিছুদিন আগে সিরিজ খেলে গেছে। এবং এফটিপিতেও বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য কোন দেশের এগ্রিমেন্ট আইসিসির মাধ্যমে ছিল না। তারপরও বাংলাদেশ যে স্ব উদ্যোগে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো কোন দেশের জাতীয় দল বা ‘এ’ দলের সঙ্গে কোন এগ্রিমেন্ট করবে সেটারও সুযোগ ছিল না আমাদের ঘোরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণে।

বাংলাদেশের ২০১৪ সালটাকে ভিত্তি করে যদি বলি, তাহলে বলব বছরটা বাংলাদেশের খুব বেশি ভাল ছিল না। শ্রিলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গে হোম সিরিজে বেশকিছু ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও তারা ম্যাচ জয় করতে পারেনি। বরং এশিয়ান গেমস এবং টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা হতাশ করেছে বাংলাদেশের লাখো কোটি ক্রিকেট মোদীদের। কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় বছর শেষ হওয়ার আগে যখন জিম্বাবুইয়ে বাংলাদেশ সফরে আসে পাঁচটি ওয়ানডে এবং তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে, সেই পুরো সিরিজটিতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খেলোয়াড় সেটা ব্যাটিং হোক বা বোলিং, তারা দাপটের সঙ্গে খেলে নিজেদের অভাবনীয়ভাবে উজ্জীবিত করতে পেরেছিল এবং ভাল ক্রিকেট খেলে তারা ৮-০তে অর্থাৎ পাঁচটি ওয়ানডে এবং তিনটি টেস্ট ম্যাচে একেবারে হোয়াইট ওয়াশ করে জিম্বাবুইয়েকে। এটাই এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেমন করবে তার পেছনে একটা অন্যতম বড় চাবিকাঠি। অর্থাৎ এই বিজয় তাদের মানসিকভাবে অনেক তুঙ্গে নিয়ে গেছে। তাদের ভেতরে সেই আস্থাটাই জন্ম দিয়েছে যে তারা তাদের দিনে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারে এবং ম্যাচ জয় করতে পারে এবং সেই সক্ষমতা তাদের আছে। একইসঙ্গে এই সিরিজের পরপর আমরা দেথেছি আমাদের যে একদিনের প্রতিযোগিতামূলক ক্লাব ক্রিকেট, সেখানে বাংলাদেশের যে দলটি অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছে বা বিশ্বকাপের জন্য মনোনিত হয়েছে তারা প্রত্যেকেই খুব ভাল পারফর্ম করেছে। দল নির্বাচনের প্রতিযোগিতা বেশ জমেও ওঠেছিল। যদিও একটা টেস্ট প্লেয়িং কান্ট্রির জন্য তাদের টিমের নিউক্লিয়াসটা আগেই নির্ধারণ হয়ে থাকে। খুব বেশি চেঞ্জিং হয় না। তারপরও দুই চারজনকে নিয়ে ভাবা হয়। নির্বাচকদের সেই তিন-চারজনকে নিয়ে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং আল্টিমেটলি যে দলটি তারা নির্বাচিত করেছেন আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা একটা ভাল দল হয়েছে। পারফর্মেন্সভিত্তিক হয়েছে, এবং যারা ব্যাটসম্যান আছেন বা বোলার আছেন তারা প্রত্যেকেই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে যথেষ্ট ভাল পারফর্মেন্স করেছে গত ছয়টি মাস। নয়জন ব্যাটসম্যান এবং ছয়জন বোলার এই পনেরোজন নিয়ে বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপেরর মিশনে গেছে।

এবার বাংলাদেশের ম্যাচ প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয় করবে এটা কিন্তু আমরা কেউই আশা করছি না। এই মুহূর্তে সেটা বিশ্বাসও করতে চাই না। তবে যেটা আশা করি বা বিশ্বাস করতে চাই সেটা হচ্ছে তারা ভাল ক্রিকেট খেলুক এবং অন্তত পক্ষে তাদের গ্রুপের যে দুটি ম্যাচ আছে যারা কিনা বাংলাদেশ থেকে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিমান অর্থৎ আফগানিস্তান এবং স্কটল্যান্ড, সেই ম্যাচ দুটি যেন বাংলাদেশ তালুবন্দী করতে পারে এবং জয়ের খাতায় নাম লেখাতে পারে। ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ যে ম্যাচটি খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মূলত সেটাই হবে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এই ম্যাচটার ওপরই পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফর্ম্যান্স নির্ভর করবে।

এরপরে যদি বাংলাদেশকে সামনে আগাতে হয় মানে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হয় তাহলে কমপক্ষে আরও একটি ম্যাচ তাদের জিততে হবে। আফগানিস্তান এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি ধরেই নিলাম বাংলাদেশ জয় করেছে। তবে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলাটা হবে নিউজিল্যান্ডে। যেখানে আবহাওয়া স্কটিসদের জন্য হবে অ্যাডভান্টেজিয়ার। নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া এবং স্কটল্যান্ডের আবহাওয়া এক। এবং যেখানে খেলা হবে সেখানকার ৭০ ভাগ জনবসতি হলো স্কটল্যান্ডের অধিবাসী। এদিক থেকে স্কটল্যান্ডের সাইকোলজিক্যাল অ্যাডভান্টেজও থাকবে। তবে আমি মনে করি বর্তমান মানদ-ের বিচারে বাংলাদেশ দল আফগানিস্তান এবং স্কটল্যান্ড টিম থেকে অনেক এগিয়ে আছে। এর পরে প্রশ্ন আসবে বাংলাদেশ কি আদৌ আগাতে পারবে? আরও কি কোন ম্যাচ জিততে পারবে? প্রতিপক্ষ তো বিশাল শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড যারা কিনা ফর্মের তুঙ্গে আছে এই মুহূর্তে। এবং সঠিক সময়ে তারা তাদের ফর্মটাকে উঁচুতে নিয়ে গেছে। বাকি থাকল শ্রীলঙ্কা। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা অনেক স্ট্রাগল করছে। আমাদের থেকে তারা যথেষ্ট ভাল দল কিন্তু যেহেতু একদিনের ক্রিকেটে পার্টিকুলার ডেতে যে কোন দল তার থেকে শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়ার মতো অবস্থায় থাকে। এবং সেটা অতিতেও দেখা গেছে বাংলাদেশ অনেক বড় বড় দলকে হারিয়েছে। সেই জায়াগাটাই টার্গেট করতে হবে। অর্থাৎ আমি শ্রীলঙ্কার সঙ্গেই সম্ভাবনা বেশি দেখছি। লঙ্কানদের বিপক্ষে মেলবোর্নে যে খেলাটি হবে সেখানে যদি বাংলাদেশ ইতিবাচক কিছু করতে পারে এবং তিনটি ম্যাচ জয় লাভ করতে পারে তাহলে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়াটা সম্ভব হবে। এই হলো এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে আমার ভাবনা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কনিষ্ঠ দল বয়সের দিক থেকে। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও মাত্র ছয়জনের অভিজ্ঞতা আছে আগে বিশ্বকাপ খেলার। এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে আমি এই বিষয়টাকে খুব বেশি বড় করে দেখি না। এই জন্য দেখি না কারণ যারা বিশ্বকাপ খেলেনি তারা কিন্তু এই চার বছর পরপর বিশ্বকাপ আসার মাঝখানের সময়টা বসে থাকে না। যারাই বিশ্বকাপ খেলতে গেছে তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বা সিরিজে একদিনের ম্যাচ যথেষ্ট খেলেছেন। টেস্ট ম্যাচও খেলেছেন। কাজেই চার বছরের অভিজ্ঞতা তাদের আছে বা তিন বছরের অভিজ্ঞতা তাদের আছে। হয়ত বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এটা ঠিক বিশ্বকাপে অন্যরকম উত্তাপ কাজ করে এবং সেই উত্তাপের লড়াইয়ে বা পরিবেশে বাংলাদেশ যেহেতু ভাল ক্রিকেট খেলার প্রত্যাশা নিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বকাপ জেতার মতো অবস্থায় যেহেতু তারা নেই, সেরকম শক্তিশালী দল হিসেবেও যেহেতু আমরা পরিণত হইনি, কাজেই মানসিক চাপটাও দলের ওপরে ওই ধরনের থাকবে না। তবে দুটো ম্যাচে চাপ থাকবে। একটা আফগানিস্তানের সঙ্গে এবং একটা স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলব সেটা খুব ভালভাবেই আছে যদি তারা ভাল ক্রিকেট খেলতে পারে। এবং ভাল ক্রিকেট খেলতে হলে তাদের যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো তাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে কোন দলের ভেতরে যখন এই জিনিসটি বিরাজ করে তখন সেই দল সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনেক সুবিধা আদায় করে। তাই বাংলাদেশকে ইতিবাচক থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার উইকেট অনেক ফার্স্ট এবং বাউন্সি। সেক্ষেত্রে স্কয়ার অব দ্য উইকেট শটস খেলতে হবে। ব্রাকফুটে খেলতে হবে। ফ্রন্টফুটে গিয়ে খেলা কঠিন হবে। এই জিনিসগুলোই কিন্তু বাংলাদেশ রপ্ত করার জন্য আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়াতে ট্রেনিং ক্যাম্প করেছে। এই যে দুই সপ্তাহের বেশি সময়, যেটা প্ল্যান করে বাংলাদেশ টিম গেছে ওখানে এবং প্র্যাকটিস করছে এবং চারটি ম্যাচ তারা খেলছে যার দুটি নিজেদের উদ্যোগে আর দুটি প্যাকটিস ম্যাচ যেটা আইসিসি নির্ধারণ করে দিয়েছে পাকিস্তান এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। এই চারটা প্রস্তুতি ম্যাচ এবং ওখানকার প্র্যাকটিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ দলের জন্য। কারণ বাংলাদেশ ওখানকার কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত না। কাজেই এই চারটা ম্যাচ যদি তারা খেলতে পারে ভালভাবে তবে তাদের মনোবল অনেক সুদৃঢ় হবে এবং তাদের ওই কন্ডিশনে তারা কিভাবে নিজেদের মাইন্ট সেট করবে, নিজেদের ব্যাটিংকে তারা কিভাবে সাজিয়ে নেবে সেই সুযোগ তাদের আসবে। এবার আসি বিশ্বকাপের দিকে। পুরো বিশ্বকাপটা অনেক লম্বা হবে। তারপরও প্রথম রাউন্ড থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া বড় দলগুলোর জন্য অনেক সুবিধা হবে। কারণ ১৪টা দল দুই গ্রুপে ভাগ হওয়ায় ৭টা দল প্রতিটা গ্রুপে। সেই গ্রুপগুলো থেকে চারটা করে দল কোয়ালিফাই করবে কোয়ার্টার ফাইনালে। বড় দলগুলোর জন্য কাজটা তাই সহজই হবে। তাই বলে মধ্যম সারির দলগুলোর জন্য যে সম্ভবপর হবে না এমনটি বলছি না। তবে যেহেতু খেলাটা অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে তাই চারটা দলকে এখানে এগিয়ে রাখতে চাই। প্রথমত অস্ট্রেলিয়াকে আমি এক নম্বরে রাখব। তারপর রাখব নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডকে। ইংল্যন্ডের সঙ্গে আমি ভারতকেও জুড়ে দিতে চাই। যদিও এই মুহূর্তে তারা স্ট্রাগল করছে কিন্তু ক্রিকেট ব্যাটসম্যানদের খেলা এবং তাদের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী এবং যে সিরিজটা তারা খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেটা খুব কাজে লাগবে বিশ্বকাপে নিজেদের মেলে ধরতে।

ব্যাটিংএ বাংলাদেশের জন্য কিছু অসুবিধা হতে পারে। বোলারদের মধ্যে পেসার হিসেবে যারা আছে তারা সবাই ইয়াং এবং সবাই মোটামোটি পার পেয়ে যাবে। কারণ তারা উইকেট থেকে সাহায্য পাবে। তবে স্পিনার হিসেবে সাকিব আল হাসানকে বাদ রেখে যে দু’জন আছে তারা নতুন। নতুন হলেও তারা যদি সাহস করে এই উইকেটে তাদের প্রতিভা অনুযায়ী বল করতে পারে তাহলে খুব একটা সমস্যা হবে না। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে যেহেতু বাউন্স আছে এবং ড্রপিং উইকেট হবে এবং যেহেতু উইকেটটা আইসিসি তৈরি করছে তাই স্পোর্টিং উইকেট হবে। রান বেশি থাকবে। তারপরও বোলারদের জন্য কিছু একটা থাকবে। আর স্পিনারদের কথা বলব ভাল স্পিনাররা যে কোন উইকেটে যে কোন দেশে তাদের মেলে ধরতে পারেন বিধায় তাদের ভাল স্পিনার বলা হয়। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ একটা মধ্যম সারির দল হিসেবেই বিবেচিত হবে। একদিনের ক্রিকেটে একটা মধ্যম সারির দল প্রথম সারির দল হতে খুব একটা সময় লাগে না। পার্টিকুলার দিনে কোন একটা ম্যাচে তাদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং উজাড় করে দিয়ে যদি ভাল খেলতে পারে তাহলে প্রতিপক্ষ যে কোন বড় দল হলেও হারানো সম্ভব। সব মিলিয়ে মনে হয় যাদের কন্ডিশন এবং উইকেট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মিল আছে এবং বর্তমানে যে দলগুলো ফর্মে আছে তাদের মধ্য থেকেই ঠিক হয়ে যাবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন কারা হবে।

শেষ করার আগে একটা কথা বলতে চাই, ফাইনালে বাংলাদেশ থাকছে! পাঠকরা নিশ্চই অবাক হচ্ছেন? বাংলাদেশের যেখানে ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা নেই সেখানে কিভাবে তারা ফাইনালে থাকছে? হ্যা, থাকছে। কারণ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আইসিসির প্রোটকল অনুযায়ী যিনি আইসিসির সভাপতি থাকেন তিনিই চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি হস্তান্তর করেন। এ বছর আমাদের বাংলাদেশের অ হ ম মোস্তফা কামাল আইসিসির সভাপতি হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ফাইনালেও থাকছেই।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: