মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ শিরোপা জয়

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রো ড টু মে ল বো র্ন
  • ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট-১

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের নবম আসর বসে ২০০৭ সালে। এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের দায়িত্ব পেল পৃথিবীর অন্যতম নৈসর্গিক ক্যারিবিয় দ্বীপদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমুদ্র পরিবেষ্টি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুন্দরতম দেশ জ্যামাইকা, গায়ানা, বার্বাডোজ, গ্রানাডা, এ্যান্টিগা, সেন্ট কিটস এ্যান্ড নেভিল, সেন্ট লুসিয়ায় নবম বিশ্বকাপের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

আগের বিশ্বকাপে ১৪টির জায়গায় নবম বিশ্বকাপে ১৬টি দল অংশ নেয়ায় প্লেয়িং কন্ডিশন বা নিয়ম-কানুনে কিছুটা রদবদল করা হয়। সুপার সিক্সের বদলে এবারে করা হয় সুপার এইট পর্ব। দুই গ্রুপের বদলে এবারে করা হয় ৪ গ্রুপ। আর ওভার সেই ৫০ বহাল থাকে। এবারের বিশ্বকাপে ৫১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দ. আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুইয়ে, বাংলাদেশ, কেনিয়া, নেদারল্যান্ড, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও বারমুডা এবারের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯টি বিশ্বকাপের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামগুলো হচ্ছে : স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়াম, এ্যান্টিগা, ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, গায়ানা, কেনসিংটন ওভাল, ব্রিজটাউন, বার্বাডোজ, ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, গ্রানাডা, সাবিনা পার্ক জ্যামাইকা, ওয়ার্নার পার্ক সেন্ট কিটস এ্যান্ড নেভিল, প্রভিডেন্স স্টেডিয়াম, বোসেজর, সেন্ট লুসিয়া, কুইন্স পার্ক ওভাল, প্রভিডেন্স স্টেডিয়াম, গায়ানা। নবম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১৬টি দলকে চার গ্রুপে ভাগ করা হয়। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ ৮টি দল সুপার এইটে ওঠে। সুপার এইটের সেরা ৪ দল সেমি-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনাল বিজয়ী দুই দল ফাইনাল খেলে। ফাইনালে বিজয়ী দল চ্যাম্পিয়ন হয়। গ্রুপ এ-তে অস্ট্রেলিয়া, দ. আফ্রিকা, নেদারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড গ্রুপ বি-তে ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও বারমুডা গ্রুপ সি-তে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া ও কানাডা গ্রুপ ডি-তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, জিম্বাবুইয়ে ও আয়ারল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৩ মার্চ উদ্বোধনী ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আরেক সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবারও উদ্বোধনী ম্যাচে ৫৪ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে শুভ সূচনা করে। এ জয়ের পেছনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যামুয়েলসের ৬৩ রানের সুন্দর ইনিংসটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর এই পরাজয়ের কারণে পাকিস্তানের সুপার এইটে ওঠার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অন্তরায় কী! পাকিস্তান সুপার এইটেই উঠতে পারেনি। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই নয়, সহযোগী দেশ আয়ারল্যান্ডের কাছেও হেরে গ্রুপ পর্বেই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে যায়। পাকিস্তানের জায়গায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে আয়ারল্যান্ড সুপার এইটে উঠে সবাইকে অবাক করে দেয়। এ রকম অবস্থা হয় ভারতেরও। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভারত অপ্রত্যাশিতভাবে টেস্ট পরিবারের নবীনতম সদস্য বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ৫ উইকেটে হেরে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারত। শুধু বাংলাদেশের কাছেই নয়, গ্রুপের অপর দল শ্রীলঙ্কার কাছেও হারলে ভারতকেও পাকিস্তানের মতো স্বদেশের প্লেন ধরতে হয়। গ্রুপ পর্বে গ্রুপ এ-থেকে অস্ট্রেলিয়া ৩ ম্যাচের ৩টিতেই জিতে পুরো ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও দ. আফ্রিকা ৩ ম্যাচের ২টিতেই জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সুপার এইটে ওঠে। বি-গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ৩ ম্যাচের ৩টিতেই জিতে পুরো ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও বাংলাদেশ গ্রুপের অপর দল বারমুডাকে হারিয়ে ৩ ম্যাচের ২টিতেই জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সুপার এইটে ওঠে। গ্রুপ ‘সি’ থেকে নিউজিল্যান্ড ৩ ম্যাচের ৩টিতেই জিতে পুরো ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও ইংল্যান্ড ৩ ম্যাচের ২টিতেই জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সুপার এইটে ওঠে। গ্রুপ ‘ডি’ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ ম্যাচের ৩টিতেই জিতে পুরো ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও আয়ারল্যান্ড ৩ ম্যাচের ১টিতেই জিতে ও ১টি ড্র করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সুপার এইটে ওঠে। এ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেরা অঘটন ছিল ভারত ও পাকিস্তানের গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়া। দুই চ্যাম্পিয়নকে যে এভাবে বিদায় নিতে হবে সেটা বিশ্বকাপের আগে কেউ ভাবেনি।

সুপার এইটে বড় অঘটনের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের কাছে দ. আফ্রিকার পরাজয় এবং আয়ারল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়। বাংলাদেশ দাপটের সঙ্গে দ. আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারালেও নিজেরাই ৭৪ রানে হেরে বসে আয়ারল্যান্ডের মতো ছোট দলের কাছে। সুপার এইটে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে শুধু দ. আফ্রিকার জয়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দ. আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা সেমি-ফাইনালে মোকাবেলা করে।

প্রথম সেমি-ফাইনালে এশিয়ার শ্রীলঙ্কা মাহেলার অনবদ্য ১১৫ ও উপল থারাঙ্গার ৭৩ রানের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় পায়। শ্রীলঙ্কার ২৮৯ রানের জবাব দিতে গিয়ে প্রায় ১০ ওভার বাকি থাকতেই ২০৮ রানে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের। শ্রীলঙ্কা জয় পায় ৮১ রানের। ম্যাচ সেরা নিঃসন্দেহে মাহেলা জয়বর্ধনে।

অপর সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবারও হারে দ. আফ্রিকা। এবার আর ভাগ্য তাদের বঞ্চিত করেনি। তারাই নিজেরা নিজেদের বঞ্চিত করে। ভাল খেলতে না পারায় ফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হয়। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৪৩.৫ ওভার খেলে মাত্র ১৪৯ রানে শেষ হয়ে যায় স্প্রিংবকদের ইনিংস। আর এই রান টপকাতে এতটুকু বেগ পেতে হয়নি অসিদের। অস্ট্রেলিয়া প্রায় ২০ ওভার ও ৭ উইকেট হাতে রেখে ১৫৩ রান করে। মাইকেল ক্লার্ক করেন অপরাজিত ৬০ রান।

২৮ এপ্রিলের বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করে শ্রীলঙ্কা। ফাইনালেও অস্ট্রেলিয়া জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। অস্ট্রেলিয়ার ৩৮ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮১ রান তাড়া করতে জয়ের পথেই এগোচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাদ সাধে বৃষ্টি। বলা যায় বৃষ্টি ভিলেন হয়ে শ্রীলঙ্কার জয় কেড়ে নেয়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ প্রথমেই ৩৮ ওভারে নির্ধারণ করা হয়। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে আবার বৃষ্টি শুরু হলে শ্রীলঙ্কার আরও ২ ওভার কমিয়ে দেয়া হয়। ফলে ৩৬ ওভারে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয় ২১৫ রানে। হাতে থাকে ২ উইকেট। হারে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়া ডার্কওয়ার্থ লুইসে ৫৩ রানের জয় পেয়ে যায়। ফাইনালের স্কোর : অস্ট্রেলিয়া (৩৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৩২৮১ রান) ৫৩ রানে শ্রীলঙ্কাকে (৩৬ ওভারে ২ উইকেটে ২৩৪ রান) হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ও মোট চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করে। অস্ট্রেলিয়ার উইকেট-কিপার এডাম গিলক্রিস্ট অনবদ্য ১৪৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ হন। ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ হন অস্ট্রেলিয়ার পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন ১১ ম্যাচে ৬৫৯ রান সর্বাধিক রান করেন এবং একই দলের গ্লেন ম্যাকগ্রা সমান ম্যাচে ২৬ উইকেট নেন। এটি ছিল এক বিশ্বকাপে কোন বোলারের সর্বধিক উইকেট লাভ।নবম বিশ্বকাপেও বৃষ্টি ছিল ভিলেন। বৃষ্টির কারণে এ বিশ্বকাপেও অনেক সুন্দর খেলার অপমৃত্যু ঘটে। অনেক দল ন্যায্য বিজয় থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিশ্বকাপের চমক ছিল অবশ্যই বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের কারণে ভারত ও পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এ দু’দলের নবম বিশ্বকাপের সুন্দর ও নান্দনিক খেলা ক্রিকেট-দর্শকরা অনেকদিন মনে রাখবে। চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব দেন রিকি পন্টিং এবং রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার দলের মাহেলা জয়বর্ধনে। নবম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টিভ বাকনার এবং পাকিস্তানের আলিম দার। এ বিশ্বকাপে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের জেফ ক্রো। নবম বিশ্বকাপে যে যোগ্য দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া কাপ জয় করেছিল এ কথা সবাই মানবেন। তারপরও এ বিশ্বকাপের অপর সেরা দল শ্রীলঙ্কা কাপ জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। (চলবে)

e-mail : syedmayharulparvey@gmail.com

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: