রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অস্বাভাবিক মৃত্যু

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
 অস্বাভাবিক মৃত্যু
  • অভিযোগ চিকিৎসায় অবহেলা
  • কর্তৃপক্ষের দাবি- এটা স্বাভাবিক মৃত্যু
  • ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
  • সিলেটের ওসমানী মেডিক্যালে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেল ১ শিশুসহ ৩২ জন
  • অভিযোগ চিকিৎসায় অবহেলা
  • কর্তৃপক্ষের দাবি- এটা স্বাভাবিক মৃত্যু
  • ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চব্বিশ ঘণ্টায় ১০শিশুসহ ৩২ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টার মধ্যে তারা মারা যায়। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার অবহেলায় শিশুরা মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (হাসপাতাল) মোশাররফ হোসেন এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন। কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। মৃত্যুর পেছনে সংক্রমণজনিত কারণ থাকার সম্ভাবনা খুব কম বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগ নির্ণয়, রোগ তত্ত্ব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান।

সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবদুস সালাম জনকণ্ঠকে জানান, নিহত ১০ শিশুর মধ্যে ছয়জন জন্ম জটিলতায়, দুই জন অপুষ্টিজনিত সংক্রমণে, একজন নিউমোনিয়ায় ও অন্য একজন ঠা-াজনিত রোগে মারা গেছে। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। তিনি জানান, এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন রোগী মারা যায়। এর মধ্যে ১-২ জন শিশু থাকে। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এত শিশু মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক মৃত ৩২ জনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, জন্মকালীন শ্বাসরোধের কারণে ৪, মায়ের অপুষ্টিজনিত কারণে ৩, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতায় ১ নবজাতক, ডায়রিয়া ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় ২ শিশু মারা যায়। সিলেটের একটি গ্রামের মারামারির ঘটনায় ৫ জন মারা যায়। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ৪ জন, হার্ট এ্যাটাকে ৩ জন, কার্ডিয়াক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২জন, ফুসফুসজনিত রোগ ও যক্ষ্মায় ১, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় ১, অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় ১, এ্যানসেফালাইটিস-এ ১ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সিঙ্গাপুরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঘটনা শোনেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসায় কোন অবহেলা চিহ্নিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঘটনাটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, একটি হাসপাতালে একদিনে এরকম মৃত্যুর হারকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি করেছে। মন্ত্রণালয় থেকেও কমিটি করা হয়েছে। যদি চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে দায়ীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, হরতাল অবরোধের কারণে রোগীরা যথাসময়ে হাসপাতালে যেতে পারছে না। অনেক সময় ক্ষেপণ রোগের জটিলতা বাড়ার পর করে যখন রোগীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে তখন চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এ সময় স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদারসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ঠা-াজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার কারণে এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের অবহেলা ছিল না। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর সকালে শিশু বিভাগ পরিদর্শন করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুস সবুর চিকিৎসকদের কোন অবহেলা নেই জানিয়ে বলেন, আমরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি। তবে স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ ঘটনায় মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইসমাইল পাটোয়ারীকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ ॥ মৃত শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, রাত তিনটার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত নয়জন শিশু মারা যায়। ওই সময় কর্তব্যরত কোন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। আর নার্সদের শরণাপন্ন হলে নার্সরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সকাল সাতটার সময় আসতে বলেন। অনেকের অভিযোগ, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও হাসপাতালের ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডরা টাকা ছাড়া তাদের ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকতে দেননি। শিশু আকাশের নানি মারজান বেগম বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আমার নাতিকে সোমবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত তিনটার দিকে সে মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নার্সদের কাছে গেলে তারা দুর্ব্যবহার করে ফিরিয়ে দেন। এরপর দুই ঘণ্টায় ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়। রাত তিনটায় মারা যায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুতাহিদ আলীর তিন বছরের শিশু সন্তান সাফরাজ। শিশুটি মারা যাওয়ার পরও তার পিতাকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেননি সিকিউরিটি গার্ড। একই অভিযোগ সিলেটের বিশ্বনাথের আনসার আলী, জকিগঞ্জের বেলাল আহমদ, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মনোরঞ্জন দাসের। তাঁদের অভিযোগ, রাতে শিশুদের ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিচর্যার কথা থাকলেও চিকিৎসক এবং নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. মনজ্জির আলী সাংবাদিকদের জানান, এসব মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক, অহেতুক সাংবাদিকরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আব্দুস ছবুর মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, রাতে ৭৫ জন রোগী এসে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনে ভর্তি করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

মৃত শিশুদের মধ্যে পাঁচ নবজাতক রয়েছে। সোমবার জন্ম হয়েছিল তাদের। বাকি পাঁচ শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এই পাঁচ শিশুর মধ্যে দুই শিশু গত রবিবার থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্য তিন শিশুকে সোমবার হাসপাতালে আনা হয়। সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা অটোরিক্সাচালক আবুল কালাম ও নিলুফা আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তানও মারা গেছে। গত রবিবার নিলুফা এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। সোমবার শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে আনা হয়। মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মারা গেছে। নবজাতক সন্তানকে হারানো সন্ধ্যা রানীর স্বামী রানা পাল বলেন, হাসপাতালের নার্স ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই শিশুগুলো মারা গেছে। ভর্তির পর শিশুর ঠিকমতো পরিচর্যা করেননি ডাক্তার-নার্সরা। স্বজনরা রোগীদের অবস্থা জানাতে নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে গেলে তারা দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেন রানা পাল।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে জানান, স্বল্প সময়ে এত সংখ্যক রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর। চিকিৎসা অবহেলাসহ অস্বাভাবিক কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২৪ ঘণ্টায় এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু কেউ কামনা করে না। আর চিকিৎসকরাও রোগীর মৃত্যু নয়, সুস্থতা কামনা করেই চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই সব কিছু জানা যাবে। কেউ অভিযুক্ত হলে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, শিশু বিভাগের বিভাগীর প্রধান ডা. মনজ্জির আলী এবং আবাসিক চিকিৎসক রঞ্জন কুমার রায়।

সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কথা শুনে মনে হচ্ছে, ওই ঘটনায় সংক্রমণজনিত কারণ নেই। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

স্টাফ রিপোর্টার সিলেট অফিস থেকে জানান, সোমবার থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ শিশুসহ ৩২ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন নবজাতক শিশুও রয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কোন অঘটনে তাদের মৃত্যু হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন রোগী মারা যায়। সোম ও মঙ্গলবার কাকতালীয়ভাবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বিবেচনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওসমানী হাসপাতালের ২১, ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড শিশু বিভাগের। এর মধ্যে ২১, ২২ ও গাইনী বিভাগের ওয়ার্ডে ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দুই, ২২ নম্বরে পাঁচ এবং গাইনি ওয়ার্ডে বাকি তিন শিশু মারা গেছে। এই শিশুদের মধ্যে পাঁচ নবজাতকের জন্ম হয়েছিল সোমবার। বাকি পাঁচ শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু গত রবিবার থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্য তিন শিশুকে সোমবার হাসপাতালে আনা হয়।

নিহত শিশুরা হলো- সিলেট নগরীর শেখঘাটের নিলুফার নবজাতক মেয়ে, শাহপরাণ এলাকার আসমা, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের সায়মা, জকিগঞ্জ দশগ্রামের আকাশ, সুনামগঞ্জ সদরের তাজরিয়া, মেহেদী, ছাতকের শাফরাজ, বিশ্বম্ভরপুরের নাদিনা, তাহিরপুর এলাকার সন্ধ্যা রাণীর নবজাতক মেয়ে এবং হবিগঞ্জ জেলার ইয়াসমিন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা গেছে, এ ওয়ার্ডে ৫৬টি শয্যা আছে, কিন্তু ভর্তি আছে ১৬২ শিশু। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় শিশুদের এখানে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে মারা যাওয়া এক শিশুর খালা রেখা রাণী সাংবাদিকদের জানান, রাত ১০টার পর তার বোনের মেয়ে ছটফট শুরু করলে তারা ওয়ার্ডে কোন ডাক্তার খুঁজে পাননি। শিশুটিকে দেখে যাওয়ার জন্য নার্সদের অনুরোধ করলেও তাৎক্ষণিক নার্স আসেননি। রাতে চিকিৎসক ও নার্স কোন চিকিৎসা সেবা বা ওষুধ না দেয়ায় সকালে শিশুটি মারা যায়।

প্রায় ৫শ’ শয্যার ওসমানী হাসপাতালে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪শ’ রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। ফলে রোগীরা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেন। বেশি পরিমাণ রোগী হওয়ার কারণে তারা সঠিক চিকিৎসা সেবাও পান না। এ নিয়ে রোগীদের ক্ষোভের শেষ নেই।

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: