মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফাল্গুনে রঙিন ভালোবাসা

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সিরাজুল এহসান

ফাল্গুন সমাগত। বাংলা পঞ্জিকার কয়েকটি পাতা ওল্টালেই ফাল্গুনের কোকিল কুহুতানে বলবে এই যে আমি এসেছি ভালোবাসার গান গাইতে। আমার ঝাঁপিতে আছে শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার লালিমা। মৌ-মৌ গন্ধে আছে কাঁচা মুকুলের হৃদয়হরা আহ্বান। প্রকৃতি রাঙিয়ে ফাল্গুনের ঢেউ আগাম বইছে সব হৃদয়ে। আবালবৃদ্ধবণিতা সবারই হৃদয়তন্ত্রিতে দিয়ে যাচ্ছে দোলা। মন গেয়ে ওঠে- ‘আহা আজি এ বসন্তে/এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে এত পাখি গায়...।’

ফাল্গুন আসে বসন্তের আবাহন নিয়ে। এ দেশের প্রকৃতির নিয়মে এ মাস যেন বলতে থাকে ভালোবাসার জয়গান। এর সঙ্গে আরও বাড়তি মাত্রা যোগ হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পহেলা ফাল্গুনের পরদিনই উদ্যাপিত হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। অর্থাৎ পর পর দুটি দিন রাঙিয়ে যায় হৃদয়ভূমি। প্রকৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে আমাদের হৃৎভূমি বিশ্বের অপরাপর দেশ- জাতির তুলনায় বেশি ভালোবাসায় সিক্ত। এখানে আলাদাভাবে ভালোবাসা দিবস পালন নিয়ে বেশ কিছু দিন আগেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। দুই দশকের বেশি আগে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এ দেশে পালনের সূচনা ঘটে। এখন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানেও সমানভাবে পালিত হচ্ছে স্বমহিমায়। এ নিয়ে এখন আর তেমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না।

পহেলা ফাল্গুন যেহেতু বসন্তের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর দিন, আবার পরদিনই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সেহেতু বাঙালীর এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয় এ দুটি দিন। শুধু তারণ্যই নয়, উৎসবে মেতে ওঠে সব বয়সীরাই। ভালোবাসা শুধু তরুণ-তরুণীর হৃদয়বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন পুরনো দিনের সব দূরত্ব ঘুচিয়ে, গ্লানি মুছে হাতে হাত ধরে, হৃদয়ের উত্তাপে দৃঢ় করে ভালোবাসার বন্ধন। তবে তারুণ্যের জোয়ারই এ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় বেশি। তাদের উন্মাদনা আলোড়িত করে সবাইকে। দেশজুড়ে দৃষ্টিকাড়া রঙে হয় রঙিন।

রাজধানীতে ব্যতিক্রম কিছু একটা করার হিড়িক পড়ে যায় প্রতি বছর। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। শাহবাগকেন্দ্রিক বইবে মিলনমেলার স্রোত। শাহবাগের কাছেই রমনা পার্ক, শিশু পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি এলাকা। টিএসসির পাশেই চলছে বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দীর আংশিক এলাকায় একুশে বইমেলা। এটা এখন বাঙালীর প্রাণেরমেলা। মেধা-মননের সমন্বয়ে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন এটি। এ মেলায় তারুণ্যের প্রভাব অনস্বীকার্য। পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের প্রভাব সরাসরি পড়বে নিঃসন্দেহে। সেদিন এক বর্ণিল রঙে রাঙাবে বাঙালীর এ প্রাণেরমেলা। অতীতে বহুবার এমন দৃষ্টান্ত দেখে এমন কথা তো বলাই যায়। এ ক’দিন শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোর ব্যবসার ফুল ফুটবে রেকর্ড পরিমাণে। কোটি টাকার বাণিজ্যলক্ষ্মী উঠবে তাদের ঘরে।

বসন্তের শুরু, বইমেলা ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের সমন্বয়ে উৎসবের বাস্তবতায় তারণ্যকে নিয়ে আশান্বিত হওয়া যায় যে, তারা শুধু ডিজিটালাইজড আনন্দতেই ডুবে থাকে না, ইতিহাস ঐতিহ্যগত আনন্দও করতে পারে ধারণ; পারে তাতে করতে অবগাহন। বাসন্তী রং শাড়ি আর বাহারি রঙের পাঞ্জাবি এবং বাঙালীর খাদ্য খানার মাধ্যমে এগিয়ে নেয় নিজস্ব সংস্কৃতির বাহন।

এবারের বসন্ত উৎসব আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এমন এক মুহূর্তে আমাদের সামনে এসেছে, যখন নষ্ট রাজনীতির কিছু দুষ্ট তারণ্য সংহারে মত্ত। এদের অপকা-ে দেশজুড়ে বিরাজ করছে সম্পদ আর প্রাণ হারানোর আতঙ্ক। অনেক মায়ের বুক হয়েছে খালি। এমন নষ্ট তারুণ্য কারও কাম্য নয়। বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবসের মিলনমেলায় কোনও তারুণ্যের মাধ্যমে যেন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম না ঘটে, এ প্রত্যাশা সবার। সব প্রেমের সঙ্গে সঙ্গে উন্মেষ ঘটুক, দৃঢ় হোক নতুন করে দেশপ্রেমের। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার জয় হোক। জয়তু তারুণ্য!

ছবি : রুদ্র ইউসুফ

মডেল : বাপ্পা ও অরিন

পোশাক : আরশীনগর

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: