আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রজন্মের জীবনযাত্রায় অনলাইনে কেনাকাটা

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মেহরাব আশরাফী

অনলাইন শপিং বাংলাদেশে জুড়ে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। শুধু নতুন মাত্রাই নয়, এটি সহজ করে দিয়েছে অনেক তারুণ্যের জীবনযাত্রা; তাই এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে এখন ক্রমশ অনলাইন বেচাকেনার প্রসার ঘটছে। অনলাইন বেচাকেনায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন ক্রেতারা। তরুণ প্রজন্ম এমন কেনাকাটায় অভ্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও নতুন ট্রেনডে অভ্যস্ত হতে উদ্বুদ্ধ করছে। অপরদিকে মুঠোফোনে ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেয়েছে। থ্রিজি মোবাইল ইন্টারনেটের অনুপ্রবেশের ফলে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেড়ে উঠেছে। মানুষের দৈনন্দিন ব্যস্তজীবনকে একটু সহজ করেছে এই অনলাইন কেনাকাটা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেহেতু তরুণদের পছন্দের প্ল্যাটফর্ম তাই অনলাইনে কেনাবেচার প্রসার ঘটছে খুব দ্রুত।

ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্য সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রসার ঘটছে বহু অনলাইন বেচাকেনার প্ল্যাটফর্মের। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও আজকাল অনলাইন বেচাকেনার প্রসার ঘটছে। তাছাড়া ফ্ল্যাট, গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রসাধনীসামগ্রী পর্যন্ত বিক্রি হয় এসব ওয়েবপোর্টালে। এমনকি পোষাপ্রাণীও বিক্রি এবং আদান-প্রদান হচ্ছে অনলাইনে। আজকাল অনলাইন পোর্টাল বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে যাদের মধ্যে বিক্রয় ডটকম, সেলবাজার, ওএলএক্স, এখনি ডটকম, আমার দেশ আমার গ্রাম ইশপ অন্যতম। বলা বাহুল্য যে, অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমেও তাদের ব্যবসা পরিচালিত করছে।

বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ২০১৩ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, গুগল সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চতুর্থ স্থানটি দখল করে আছে বিক্রয় ডটকম যা অনলাইন বেচাকেনার ওয়েবপোর্টাল হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে ২০১১ সালে প্রথম অনলাইনে বেচাকেনা শুরু করে সেলবাজার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর পরেই অনলাইন বেচাকেনার প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে এমন ওয়েবপোর্টালের সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটছে। এ পোর্টালগুলো ব্যবসায়িকভাবে বেশ সফল হতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, এখানে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেলবাজার, বিক্রয় ডটকমের মতো ওয়েবপোর্টালে বিক্রেতা তার পুরনো পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন খুব সহজেই দিতে পারে। কোন ক্রেতা যদি আগ্রহী হন তবে সেই বিজ্ঞাপন দেখে ওই বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দুজনের সমঝোতার মাধ্যমে বেচাকেনাটি সম্পন্ন হয়। এসব ওয়েবসাইটে আজকাল নিত্যনতুন পণ্যের বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেয়া শুরু হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজ পণ্যের বিজ্ঞাপনও দিচ্ছে।

আবার কিছু ওয়েবপোর্টাল আছে, যেখানে ক্রেতা শুধু তাদের পছন্দের পণ্যটির বিল অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারেন। আশ্চর্যের কথা এই যে, বিজ্ঞাপন দিতে কোন খরচের প্রয়োজন হয় না। শুধু পণ্যের ছবি, দাম, বিক্রেতার যোগাযোগ নম্বর ও ঠিকানা দিতে হয়। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের বিপরীতে চার-পাঁচটি ফোনকল পান বিক্রেতা। অনেক সময় বিজ্ঞাপন দেয়ার আধ-ঘণ্টার মধ্যেই পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। অনলাইনে বেচাকেনা তরুণের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ-সুবিধা এনে দিয়েছে। ট্রাফিক জ্যামের অসুবিধার জন্য এই অনলাইন শপিং তরুণের জীবনে জুড়ে দিচ্ছে এক নতুন মাত্রা। অনলাইন শপিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তরুণ ঘরে বসেই নিজের পছন্দের পণ্যটি পেতে পারে। কিছু তরুণকে আকর্ষণ করার জন্য বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে ফ্রি হোম ডেলিভারি, মূল্যছাড়ের মতো ব্যাপক সুবিধা।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: