আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সম্মেলন

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মুসান্না সারজিল

সহিংসতা-হরতাল-অবরোধসহ নানা বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও ডিজিটাল বাংলাদেশের তথা তরুণ প্রজন্মের অগ্রযাত্রা থেমে নেই। বরং বিগত পাঁচ বছর বাংলাদেশের তরুণরা ডিজিটাল সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই পদচারণার পাশাপাশি ব্যাপক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আউটসোর্সিং, গেমস এ্যাপস, এ্যানিমেশন ফিল্মসহ- সকল ক্ষেত্রেই এ সাফল্য। আইটি খাতে এমন হাজারো তরুণের উদ্ভাবনকে সমুন্নত ও তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এ্যাশোসিয়েশান এ্যান্ড সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বাসস) আয়োজন করতে যাচ্ছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সম্মেলন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বসছে তথ্যপ্রযুক্তির মিলনমেলা। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি সম্মেলনে হাজির থাকছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য আইটি বিশেষজ্ঞ, আইটি প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী নানা কর্মকর্তা। মোট ২৪টি সেমিনার, ৯টি কনফারেন্স এবং ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার পাশাপাশি ৪ দিনের প্রযুক্তি সম্মেলনে থাকছে ৪টি প্রদর্শনী। এবারের সম্মেলনে মোট পাঁচ লাখ দর্শনার্থী উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগ্রহী দর্শণার্থীদের কাছে সম্মেলকে আর্কষণীয় করতে আয়োজকরা পাঁচটি বিষয় নির্ধারণ করেছেন-

-বেসিস সফট এক্সপো

-ই গভর্নেন্স এক্সপো

-মোবাইল ইনোভেশান এক্সপো

-বিপিও এক্সপো

-ই-কমার্স এক্সপো

পাঁচটি বিষয়ের গুরুত্ব তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এমন গুরুত্বারোপ। বিগত বছরগুলোতে বেসিস সফট এক্সপো আইটি সেক্টরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ ব্যবহার যেন ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থবহ ও গতিশীল হয়, তা তরুণদের স্মরণ করিয়ে দেয়া এবারের মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। মেলায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিষয় হলো, ই-গভর্নেন্স এক্সপো। বিগত বছরগুলো বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনা ও কার্য পদ্ধতিতে ডিজিটালের যে ব্যবহার, তা প্রদর্শন করাই ই-গভর্নেন্সের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজেদের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরবে এ পর্বে। তৃতীয় আকর্ষণীয় বিষয় হলো, মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপকতার দরুণ বিদেশী মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশে। দেশের বাজারে এসব স্মার্টফোন কোম্পানির নানা এ্যাপস তৈরির বাজার যেন তরুণদের আগ্রহী ও উদ্বুদ্ধ করতে পারে, সে কারণে এ পর্বটিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের তরুণদের হাতেই তৈরি হবে মোবাইলের নানা সফটওয়্যার এ্যাপস, এমন স্বপ্ন আয়োজকদের চোখে। এরপর যে বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, তা হলো বিপিও এক্সপো। ডিজিটাল বাংলাদেশে তরুণদের আউটসোর্সিং পেশায় সম্ভাবনা ও অর্থনীতিতে তাদের অবদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ পর্বের আয়োজন। আউটসোর্সিং বর্তমান বাংলাদেশের নতুন কর্মসংস্থান। এ সম্ভাবনাকে আরও ব্যাপক পরিসরে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, তা এ পর্বে আলোচনা করা হবে। শেষ পর্বটি ই-কমার্স সংক্রান্ত। বাংলাদেশ এখন ই-কমার্সের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ইতোমধ্যে দেশের ই-কমার্সের নানা পোর্টাল ও সাইট চালু হয়েছে। এ দ্বার যেন আরও বেশি প্রসারিত এবং সম্ভাবনাময়ের ক্ষেত্র তৈরি করে, তা আলোচনা করা এ পর্বের মূল উদ্দেশ্য। সম্মেলনে যোগ দিতে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে প্রায় ৮৫ জন বক্তা উপস্থিত থাকবেন। ৫টি দেশের মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে থাকবে মিনিস্টারিয়েল কনফারেন্সে। তারা নিজ দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরবেন এসব কনফারেন্সে। এছাড়া আগামীর বিশ্বে প্রযুক্তির ধরন কেমন হবেও তা বাতলে দেবেন আগত প্রযুক্তিবিদরা। তারা তাদের নিজেদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন নানা সম্মেলনে। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন বিশ্বসেরা আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। গুগল ও ফেসবুকের উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ইতোমধ্যে সম্মেলন ঘিরে তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিদেশী তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ছাড়াও দেশীয় আইটি বিশেষজ্ঞরা এবারের সম্মেলনে অংশ নেবেন। বিভিন্ন সেমিনারে নানা বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নেবেন দেশী-বিদেশী এসব আইটি গবেষক। থাকছে নানা পুরস্কার ও সম্মাননার ব্যবস্থা। নানা রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ডিজিটাল বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা, তা সমুন্নত রাখবে এবারের সম্মেলন। আগামীতে এ ধরনের সম্মেলন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সকল তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটালাইজ করার উদ্দেশ্য সফল হোক, এমন প্রত্যাশা রইল।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: