আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইয়াবা পাচারে বোটের গতি বাড়াতে ॥ হিনো ইঞ্জিন ব্যবহার

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • কোস্টগার্ডের অভিযান এড়াতে টেকনাফ, কক্সবাজার ও মহেশখালী রুটের অর্ধশত বোটে শ্যালোর পরিবর্তে হিনো ইঞ্জিন

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ইয়াবার চালান নৌ ও সমুদ্রপথে নগরীতে ঢুকছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ এমনকি মহেশখালী হয়ে নগরীর মাঝিরঘাটসহ সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে এড়িয়ে চলতে এমনকি অভিযানে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিজেদের বাঁচাতে নৌকায় শ্যালোইঞ্জিন বাদ দিয়ে বাসের হিনো ইঞ্জিন লাগানো শুরু করেছে। টেকনাফ, কক্সবাজার ও মহেশখালী রুটের অর্ধশত বোটে হিনো ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে লাইটারেজের মাধ্যমে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোতে খাবার ও জ্বালানি সররবাহের জন্য ছোটখাটো ইঞ্জিন বোট ব্যবহার হয়। এসব ইঞ্জিন বোট গভীর রাতে আনোয়ারা, ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারিসহ বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার হয়। জাহাজে পণ্য সরবরাহ ও জ্বালানি সরবরাহের নামে এসব বোট মূলত ব্যবহার হচ্ছে মাদক পাচারের কাজে। তথ্য পাওয়া গেছে সোর্সের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও র‌্যাব সদস্যরা ঐ সব বোটকে নজরদারি করে। তবে পাচারকারীদের তথ্য ফাঁস না হলে অনায়াসে মাঝিরঘাট, বাংলা বাজার, পারকি বিচ, সদরঘাট ও উত্তর কাট্টলী ব্রিজ হয়ে মাদকের চালান প্রবেশ করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান আসার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। কিন্তু কেন এসব ইয়াবার চালান পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে সব সোর্সকে ব্যবহার করছে তারাও ইয়াবা ব্যবসায়ী হওয়ায় এবং ভাগ বাটোয়ারায় মনোমালিন্যের কারণে এসব চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব সেভেনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, ফিশিংবোটে করে যেসব ইয়াবার চালান আসছে এগুলো মূলত মিয়ানমারের নাগরিক আশরাফের মাধ্যমেই এদেশে প্রবেশ করছে। তবে আশরাফের মূল এজেন্ট সেন্টমার্টিনের জনৈক বাবুল। এই বাবুলই বিভিন্ন ফিশিংবোটের মাধ্যমে এসব চালান নগরীতে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আশরাফ এবং বাবুলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগেও তারা এক লাখ পিস ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে র‌্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে।

ইয়াবার সর্বশেষ বিশাল চালানটি গত বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর অভিযানে আটক করা হলেও গ্রেফতার হয়নি কোন মাদক ব্যবসায়ী। সর্ববৃহৎ ১৫ লাখ পিস ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয় এ ফিশিংবোট থেকে। ৮০ কোটি টাকা মূল্যের এ ইয়াবার প্রস্তুতকারক, পাচারকারী ও ব্যবসায়ী এ তিন শ্রেণীকে খুঁজে পাওয়া না গেলে এ ধরনের বিশাল চালান পুনরায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের অভিযানে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ থেকে আসা একটি ইঞ্জিন বোটকে র‌্যাবের অভিযান টিম ধাওয়া করে মাঝিসহ ১২ জনকে আটক করে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ৩ লাখ পিস। পরবর্তীতে দেখা গেছে, দ্রুতগামী এ ইঞ্জিন বোটের মূল কারণ হচ্ছে বাসের হিনো ইঞ্জিনের ব্যবহার।

জানা গেছে, গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে নৌবাহিনীর একটি এন্টি স্মাগলিং সেলের সদস্যরা চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙ্গর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ লাখ ইয়াবাসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার আটক হয়। কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে নগরীর বাংলা বাজার এলাকায় এসব ইয়াবা খালাস করার কথা থাকলেও নৌবাহিনীর টহল টিম থাকায় পাচারকারীরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ট্রলারটি দ্রুতবেগে পালিয়ে যায় আনোয়ারার পারকি বিচ এলাকায়। এ বোটটিতেও হিনো ইঞ্জিন ব্যবহার করায় নৌবাহিনীর এন্টি স্মাগলিং টিমের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেও ধরতে পারেনি। তবে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবার বড় চালানটি। এফভি রাজিব নামক এ ট্রলারটি ফিশিংয়ের নামে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার হচ্ছিল।

এদিকে, র‌্যাব সেভেনের দফতর সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যরা মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণে ইয়াবার চালান নিয়ে নগরীতে ঢুকবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে র‌্যাব সেভেনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি অভিযান টিম সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ এলাকায় অবস্থান নেয়। সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে গভীর সমুদ্রে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দেয় র‌্যাব সদস্যরা। দীর্ঘ প্রায় তিনদিন অপেক্ষার পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঐ ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণে প্রায় ৮-১০ নটিক্যাল মাইল গভীর সমুদ্রে অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে এমভি রাশেদ নামের একটি ফিশিংট্রলারকে তল্লাশি করা হয়। এ ট্রলার থেকে জেলে হিসেবে ১২ মাঝিসহ ইয়াবার চালান পাচারের অপরাধে আটক করা হয়। মূলত তারা ইয়াবা পাচারকারী ও ব্যবসায়ী। উদ্ধার করা হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ইয়াবা। এ ট্রলারটিতেও হিনো ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

এছাড়াও গত মঙ্গলবার টেকনাফ এলাকা থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন চামড়া গুদাম এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে একটি মোটরসাইকেলসহ কুতুব উদ্দিন নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুতুব উদ্দিন একসময় ইয়াবা সেবনকারী ছিল। পরবর্তীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাতিয়ার হিসেবে পাচার কাজে নিজেই যোগ দেয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে সে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয় বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: