মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক সমীপে

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

বাংলাদেশের পর্যটন সেবার উন্নয়ন

বাংলাদেশ এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। কিন্তু এটি নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত। যদিও আমাদের অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতির হার সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, তা সত্ত্বেও আমরা এই অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতির হার আরও বৃদ্ধি করতে পারি যদি আমরা দৃঢ়ভাবে পর্যটন সেবার উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করি। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক পর্যটক অঞ্চল রয়েছে যা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে নেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কিছু অনিবার্য কারণে বাংলাদেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ, প্রাকৃতিক নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত ‘কক্সবাজার’। প্রতিবছর অধিকসংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কক্সবাজার ভ্রমণ করতে আসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার অতিথিদের চমৎকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে পারছে না। অন্যদিকে সেখানে খুব স্বল্পসংখ্যক উন্নতমানের হোটেল রয়েছে যেগুলো উন্নত সেবা প্রদান করে। সমুদ্রসৈকতে স্বল্পসংখ্যক বসার জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু সেখানে পর্যটকদের জন্য গোসলের পর পোশাক পরিবর্তনের কোন ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া কিছু স্থানীয় অসৎ লোকের কারণে পর্যটকদের বেশি পরিমাণ টাকা গুনতে হয়। হয়ত তারা পর্যটকদের কাছ থেকে অনেক চড়া ভাড়া আদায় করে নয়ত পর্যটকদের নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করে যেমন; ছিনতাই কিংবা মানসিক হুমকির সম্মুখীন করে। বাংলাদেশের অন্য আরেকটি সৌন্দর্যের প্রতীক ‘সেন্টমার্টিন’, যার সৌন্দর্য প্রকাশ করা অপ্রতুল। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা এবং অসৎ লোকের কারণে এটিও এর পর্যটক হারাচ্ছে। বান্দরবানের ‘নীলগিরি’ হলো বাংলাদেশের আরেকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক, সেখানেও নেই সুব্যবস্থা। বাংলাদেশে অনেক পর্যটক অঞ্চল থাকা সত্ত্বেও সরকারের উপেক্ষার কারণে একে প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। শুধু সরকারই নয়, অনেক বিখ্যাত সংগঠনও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এগিয়ে আসতে পারে এবং পর্যটকদের উন্নতমানের সেবা প্রদান করতে পারে। এর দ্বারা পর্যটক এবং সেবা প্রদানকারীর মধ্যকার ব্যবধান পূরণ করা সম্ভব। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করা উচিত।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। যদি কিছু অত্যাবশ্যক পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি সুপরিচিত দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফারজানা চৌধুরী অনন্যা, রঞ্জন কুমার সাহা

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

কেন মধ্যবর্তী নির্বাচন

বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি করছেন। এটা তিনি করতেই পারেন। যে কোন রাজনৈতিক দলই এমন দাবি করতে পারে। তবে তার সঙ্গে বাস্তবতার কথার মিল রয়েছে সেটাই বিবেচ্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন তিনি বর্জন ও প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা চালিয়ে বহু প্রাণহানি, সম্পদহানি করেছেন। সেই নির্বাচনের পর একবছর পার হয়ে গেলেও জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ক্ষোভ, প্রতিবাদ, বিক্ষোভও করেনি। বলেনি সরকার বৈধনয়, বিশ্বের সব জেলাই সরকাকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়েছে। দ্রব্যমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস পেয়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র প্রসার হয়েছে। জনজীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। জনগণের কাছ থেকে কোন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। কিন্তু গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রী হিসেবে অবরোধ ডেকে বসে আছেন নিরাপত্তা প্রাসাদে তথা অফিস কাম রেসিডেন্সে। তাঁর দুর্নীতির দায়ে বিলেতে পলাতক ও বিদেশে ঘৃণিত এবং তাঁর পুত্রের নির্দেশে পেট্রোলবোমা মেরে যাত্রীসহ বাস পুুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। দগ্ধ মানুষের আর্তনাদে তাদের কর্ণকহরে প্রবেশ করছে না।

গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপি-জামায়াত আজ যেন হঠাৎ নির্বাচনে আগ্রহী হলো, তার নিশ্চয়ই গুড় রহস্য রয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচন চায় না। অথচ তারা জনগণকে হত্যা করছে এই দাবিতে। ভয়ে সংশয়ে জনগণ তাদের দাবি মানবে এটা অবাস্তব।

এটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে, বিএনপিকে সামনে রেখে আড়ালে একটি অপশক্তি ভয়ঙ্করভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে। আর সে অপশক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জামায়াত। মূলত: যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্ত হতেই বিএনপি পেট্রোলবোমার ভয়ার্তপরিবেশ তৈরি করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। কিন্তু তা কি সম্ভব?

তালাত ইকবাল

এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

আমরা কি সব ভুলতে বসেছি

অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার বিষয় যে, আজ বিএনপি-জামায়াত জোট গণতন্ত্রের নামে যে বিভৎস আন্দোলন করছে তা সত্যি দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা যারা সাধারণ মানুষ কোন দলের সমর্থন হয়ে সেই দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজির নামে অর্থ লুটপাটের সুযোগ নিতে পারি না তারা নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হই বেশি। কথাটা আমরা সব সময় ভুলে যাই। আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে তা-না হলে আমরা কিভাবে ভুলে যাই বিএনপির জোট যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা কিভাবে জঙ্গীবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছিল। একইসঙ্গে ৬৪ জেলায় বোমা হামলা, আহসান উল্লাহ মাস্টার ও শাহ্ এএমএস কিবরিয়াকে এমপি থাকা অবস্থায় হত্যা, ১০ ট্রাক অস্ত্র এনে তা পার্শ্ববর্তী বিছিন্নতাবাদীকে সরবরাহের হীন চেষ্টা করেছিল। আরও বর্বরতার প্রকাশ ঘটেছিল ২১ আগস্টের নিষ্ঠুর বোমা হামলার ঘটনায়। সবচেয়ে বেদনার বিষয় যে দেশ সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন হয়েছিল। ফলে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করেছিল। আমরা সবাই তা ভুলতে বসেছি। দেশ যখন অর্থনীতির, সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তখন বিরোধী জোট গণতন্ত্র রক্ষার নামে মানুষকে হত্যা করছে তা সত্যিকার অর্থে বেদনাদায়ক। সাধারণ মানুষ কেন বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবে, কেন সাধারণ মানুষকে আগুনে পুড়ে মরতে হবে তাই দেশবাসীর জিজ্ঞাসা। আমরা যেন অতীতের সেই দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শ্রেষ্ঠ স্থানটি আবার যেন দখল না করি সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে। আর গণতন্ত্রের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

নাজনীন বেগম

আসাদ এ্যাভিনিউ, ঢাকা।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: