কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ বার্গম্যানের রায় নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত অবমাননা বিষয়ে

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বাগেরহাটের তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে ১৯তম সাক্ষীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালত অবমাননার দায়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া জরিমানা ও এজলাসকক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার সাজার রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৪৯ বিশিষ্ট নাগরিকের দেয়া বিবৃতিতে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে কিনা সে বিষয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি আদেশ প্রদান করবেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বাগেরহাটের তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৯তম সাক্ষী প্রেমানন্দ মজুমদার জবানবন্দীতে বলেছেন, ভারতে যাবার জন্য ডাকরা বাজার কালি মন্দিরে নোয়া ঠাকুরের বাড়িতে রাজাকার সিরাজ মাস্টারের নির্দেশে অন্য রাজাকাররা পাখির মতো মানুষ গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর সেখানে প্রায় ৬/৭ শ’ লাশ দেখতে পাই। এ ছাড়া সিরাজ মাস্টার নিজে আমার বাবা গোপাল কৃষ্ণ মজুমদারকে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে মঙ্গলবার। অন্য মামলায় অভিযুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও মোঃ আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

ব্রিটিশ নাগরিক ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের রায় নিয়ে দেশের ৪৯ বিশিষ্টজনের আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রবিবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেছেন, নির্ধারিত দিনে নোটিসপ্রাপ্ত সবাইকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকতে হবে। ব্যাখ্যাদানকারীদের পক্ষের আইনজীবী নিহাদ কবির ট্রাইব্যুনাল উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনাল বিবৃতি দাতাদের বার্গম্যানের বিরুদ্ধে দেয়া রায়টা পড়ে দেখেছিলেন কিনা জানতে চাইলে আদালতে উপস্থিত সবাই হ্যাঁ-সূচক জবাব দেন। তবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাদের বিবৃতি দেখে তেমনটা মনে হয়নি। ব্যাখ্যাদানকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সবাই ট্রাইব্যুনালের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এটা তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মহান আদর্শে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। ট্রাইব্যুনাল তাদের বলেন, ‘দুঃখ প্রকাশ ও জাস্টিফিকেশন একসঙ্গে হয় না। যা ব্যাখ্যাদানকারীদের ব্যাখ্যায় উপস্থিত।’

এর আগে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিহাদ কবীর যে ১৪ জনের পক্ষে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন তারা হলেন- সেইতু সবুর, ফোস্টিনা পারেরা, মাসুদ খান, মহিউদ্দিন আহমেদ, নুর খান, আফসান চৌধুরী, ফেরদৌসী আজিম, এএ জিয়াউর রহমান, হানা শামস, আনু মুহাম্মাদ, সামিয়া হক, আনুসে আনাদিন, লুবনা মরিয়ম ও মুক্তা চৌধুরী। এর আগে আদালত অবমাননার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি ড. শাহদীন মালিক ও এম হাফিজ উদ্দিন নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শাহদীন মালিক ও এম হাফিজ উদ্দিন ছাড়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন, এম হাফিজ উদ্দিন, বদিউল আলম মজুমদার, রাশেদা কে চৌধুরী, ইমতিয়াজ আহমেদ, আমেনা মুহসিন, নাইলা খান, শাহনাজ হুদা, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, অধ্যাপক আসিফ নজনুল, জাকির হোসাইন, অরূপ রাহী, সাইনা আক্তার ও ইলিরা দেওয়ান।

১৪ জানুয়ারি বিবৃতি দেয়া ড. শাহদীন মালিকসহ দেশের ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে বা আইনজীবীদের মাধ্যমে বিবৃতি ও আচরণের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। ৪৯ জনের মধ্যে ১১ জন দেশের বাইরে অবস্থান করায় ট্রাইব্যুনাল তার আদেশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের মাধ্যমে ওই ১১ জনকে অবহিত করা এবং তাদের ব্যাখ্যা সংগ্রহ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার বিষয়ে ব্যক্তিগত ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্যে ও মাধ্যমে আদালত অবমাননার দায়ে ব্রিটিশ নাগরিক সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে গত বছরের ২ ডিসেম্বর ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদ- দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাকে ওইদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলা পর্যন্ত এজলাসকক্ষে বসে থাকতেও হয়। রায়ে ডেভিড বার্গম্যান কিভাবে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করছেন, তা খতিয়ে দেখতে সরকারকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলোয় ‘বার্গম্যানের সাজায় ৫০ নাগরিকের উদ্বেগ’ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়েছিল, এ রায়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এ প্রতিবেদন নজরে এলে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলোকে রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ওই বিবৃতির মূল কপি ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

তিন রাজাকার ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বাগেরহাটের তিন রাজাকার সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৯তম সাক্ষী প্রেমানন্দ জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী তাকে জেরা করেন। ২০তম সাক্ষীর জন্য মঙ্গলবার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ রবিবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৯/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: