কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ধর্মীয় স্বাধীনতা অন্যতম মৌলিক বিষয়

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারতকে এ কথা বলার চেষ্টা করছেন যে, ধর্মীয় স্বাধীনতা হচ্ছে অন্যতম মৌলিক স্বাধীনতা। দুটি গণতান্ত্রিক দেশের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ ব্যাখ্যা দিয়েছে। খবর ডন অনলাইনের।

প্রেসিডেন্ট ওবামা এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে ওয়াশিংটনে বার্ষিক প্রাতরাশ প্রার্থনা সভায় বলেন, তিনি ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা গত মাসে ভারত সফরে গিয়ে দেখেছেন, এটি অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর একটি দেশ, যা চমৎকার বৈচিত্র্যে ভরপুর। তবে ভারত এমনও একটি দেশ গত বছরগুলোতে যেখানে সব ধরনের ধর্মবিশ্বাসের লোকজন অন্য ধর্মের লোকদের হামলার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছেন। শুধু তাদের ঐতিহ্য ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে। এ ধরনের অসহিষ্ণু কর্মকা-ে গান্ধীজী মর্মাহত হতেন, তিনি ওই দেশকে স্বাধীন করতে সহায়তা করেছিলেন। তাঁর মন্তব্যের কারণে নয়াদিল্লী তিক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং শনিবার ভারত সরকার কঠোর সমালোচনার ভাষায় এর জবাব দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ভারতের সহিষ্ণুতার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হচ্ছে ওবামার পাশে দালাইলামার বসা।

ভারতীয় সাংবাদিকরা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিউজ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি আবার উত্থান করলে উপ-মুখপাত্র মোর হর্ফে এই বিরোধ নিয়ে মার্কিন অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আপনারা শুনেছেন প্রেসিডেন্ট সেখানে অবস্থানকালে এ সম্পর্কে বলেছেন। এটা ছিল ভারত সফরকালে তাঁর দেয়া বার্তার অংশ। এবং জাতীয় প্রাতরাশ প্রার্থনার বার্তায় এটা ছিল। প্রেসিডেন্ট ওবামার বার্তা হচ্ছে এই যে, ধর্মীয় স্বাধীনতা অন্যতম মৌলিক স্বাধীনতা যখন সকল ধর্মের মানুষে স্বাধীনভাবে নিপীড়ন ও বৈষম্যের আতঙ্ক থেকে মুক্ত থেকে তাদের ধর্মচর্চা করতে পারে তখন প্রতিটি দেশ আরও শক্তিশালী হয়। হার্ফ তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সকল দেশের সরকারকে উপাসনা করছে বা ধর্মীয় কারণে এ ধরনের কিছু করছে এমন লোকদের সমবেত হওয়ার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখাতে এবং এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে উৎসাহিত করে এবং এটা হচ্ছে সর্বজনীন অধিকার, যার প্রতি আমাদের অবিচল থাকা উচিত। ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন কী? জিজ্ঞাসা করা হলে হার্ফ বলেন, ওই সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে আমার মূল্যায়ন নেই। এটা এমন বিষয়, যা আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। মোদি সরকারের অধীনে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে না উন্নতি হয়েছে, সে সম্পর্কে একজন সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করলে মার্কিন কর্মকতা বলেন, আমাদের টিম নিয়ে এ বিষয়টি পরীক্ষা করলে আমি খুশি হব এবং দেখব ওই বিষয়ে আমাদের কোন মূল্যায়ন আছে কিনা। প্রেসিডেন্ট ওবামা গত মাসে নয়াদিল্লীতে অনুরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ভারতের রাজধানী সফর করেন। ওবামা তাঁর ভারত সফরের শেষ দিন মন্তব্য করেন, ভারতে যতদিন ধর্মীয় বিভেদের ধারায় বিভক্তি সৃষ্টি না হবে, ততদিন দেশটি সফল হবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হার্ফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে এ কথা স্পষ্ট করে বলেছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নয়াদিল্লী সফরসংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে হার্ফ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ভারতের উচিত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ওই সম্পর্ক আরও উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সম্পর্র্কে পাকিস্তানের উদ্বেগসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হার্ফ বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের সম্পর্কের বিষয় এলে আপনি দেখবেন, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। তারা উভয়ই শক্তিশালী, তারা উভয়ই আমাদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা উভয়ই তাদের স্ব স্ব অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার ভারত সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি ‘একটি ভাল কর্মসূচী’ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন।

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৯/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: