মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঘুরে এলাম গজনী

প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটুক আর নাই ফুটুক শুরু হয়ে যায় ছাত্রজীবনের ব্যস্ততা। সূর্য্য মামা মন খারাপ করে একটু দেরিতে উঠলেও দেরি করার সুযোগ নেই কারও। শত অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বে¡ও বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে দৌড়াতে হয় ক্লাসে। কখনও নাস্তা করে আবার কখনও সেই সময়টুকু হয়ে ওঠে না, খালি পেটেই হজম করতে হয় স্যারদের বকবকানি। যথারীতি শুরু হয়ে যায় ক্লাস, পরীক্ষায়, প্র্যাকটিক্যাল, অ্যাসাইনমেন্ট, লাইব্রেরি ওয়ার্ক বা গ্রুপ স্টাডি নিয়ে নিত্যদিনকার ব্যস্ততা আর রাত জেগে প্রাকটিক্যাল খাতা লেখার। রুটিনমাফিক জীবনে একটু ভেরিয়েশন নিয়ে আসতে আয়োজন করা হয় বনভোজনের। বনভোজন অন্তত এক দিনের জন্য হলেও রুটিনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়। নিত্যদিনের নিয়মের দেয়াল ভেঙ্গে সম্প্রতি বনভোজনে ও আনন্দভ্রমণে মেতে উঠে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের সি সেকশনের শিক্ষার্থীরা। স্থান ঠিক করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে পাহাড় ঘেরা ভারতের সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার গজনী।

কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফরুক এবং দেবাশীষ রায় স্যারকে সঙ্গে নিয়ে কুয়াশার চাদরে মোড়া ক্যাম্পাসের সবাইকে ঘুমের ভিতর রেখে ভোরে সূর্য্য উঁকি দেয়ার আগেই যাত্রা শুরু করার কথা থাকলেও তা আর হয়ে উঠল না আমাদের মেয়ে সহপাঠীদের জন্য। সেজেগুজে নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক পরে আসলেন তারা। আর এসেই শুরু হলো ফটোসেশন। বাসের সামনে বিভিন্নভাবে পোজ দিয়ে একক, দ্বৈত বা গ্রুপ ফটোসেশন। আর দেরি না করে স্যারদের কথামতো আমরা বাসে উঠে বসলেই গড়াতে শুরু করে গাড়ির চাকা। বাসের ভেতর শুরু হয়ে গেল উৎসবের আমেজ। ক্যাম্পাস থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সমানুপাতিকহারে বাড়তে থাকল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, বেসুরে গলার গান, গল্প, নাচ, হৈ-হুল্লোড়। গানের সঙ্গে নাচতে শুরু করল রাকিব, নাহিদ, আশিক, জিহাদ। ওদের নাচ দেখে ঠিকমতো বসে থাকতে পারেনি মেয়েরাও। একে একে ওদের সঙ্গে নাচে যোগ দেয় জনি, মাহি, রীম, সাথী, সুপ্তা। আনন্দগণ মুহূর্তগুলো স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে কেউ কেউ ক্যামেরাবন্দী করছিল ছবি তোলে বা ভিডিও করে। একসময় মনে হলো সবুজের গুহায় ঢুকছে বাস। রাস্তার দুই ধারে ঘন সবুজ গাছ বা দূরের সারিবদ্ধ গজারি বন। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল দূরের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়। এভাবেই ১২ টায় আমরা পৌঁছে যাই গজনী পিকনিক স্পটে।

এবার আমাদের ঘুরার পালা। বাস থেকে নেমে গজনী অবকাশ ভবনের সামনে জিনিসপত্র রেখে সামনে এগুতেই পাহাড়ী আঁকবাঁকা সিঁড়ি। পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়িগুলো। আমরা যে উঁচুতে আছি তা এর আগে একবারের জন্যও টের পাইনি। সিঁড়ি বেয়ে নামতেই সামনেই অনেক বয়স্ক বিশাল বটগাছ, ডাল জুড়ে অনেক মৌচাক। বটগাছের পাশেই কিছু দোকান পাট নিয়ে গড়ে ওঠেছে ছোট্ট একটা বাজার। একটু সামনে এগুতেই দেখতে পেলাম লেক। পাহাড়ের পাদদেশে লেকের স্বচ্ছ পানিতে ভাসছে প্যাডেল বোট। তখনই জনি বলে উঠল চল আমরা নৌকায় ঘুরব। আমার কয়েকজন মিলে নৌকায় উঠলাম। নৌকা থেকে পাশে তাকালেই মনে হচ্ছিল আমরা ডুবে আছি পাহাড়ের গভীর খাদে। লেকের মাঝে একটি কৃত্রিম দ্বীপ। দেখে মনে হচ্ছিল যেন গভীর সমুদ্রে ভাসমান চড়। দ্বীপে যাওয়ার জন্য আছে ঝুলন্ত ব্রিজ। নৌকা থেকে পাড়ে নামতেই দেখতে পেলাম মৎস্যকন্যার মূর্তি। মনে হচ্ছি যেন পদ্মাসনে বসে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছে তার জলরাজ্যে।

এছাড়াও দেখা মিলল বন্যহাতি মিথিলা, বাঘ, ডাইনোসর, জিরাফ ও মাশরুমের ভাস্কর্য, সুড়ঙ্গপথ, পানির ফোয়রা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুলের প্রতিকৃতি। এরপর গেলাম ভিউ টাওয়ারের দিকে। টাওয়ার থেকে গারো পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখার পাশাপাশি দেখা যাচ্ছিল সীমান্তের ওপারের ভারতের পাহাড়। এমন সময় স্যার বললেন চল, আমাদের খাবার চলে এসেছে। খাবারের কথা শুনেই পেটটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। সবাই একসঙ্গে খেলাম মোরগ পোলাও সঙ্গে কোল ড্রিংস।

খাওয়া-দাওয়ার পরই শুরু হলো আমাদের সাংস্কৃতিক পর্ব। সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল জয়শ্রী, সুষ্ময়ের নাচ, রীম-কামরুল, সাদিয়া-মাসুমের কবিতা, আজিজ, সিয়ান, সাথী, সুমন আকাশের নাটক এবং জাহিদের কৌতুক অভিনয়। এভাবে কখন যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো বুঝতেই পারলাম না। স্যারে সঙ্কেত দিলেন এবার বাসে উঠতে হবে মানে ফিরতে হবে ক্যাম্পাসে। কিন্তু ফিরে আসার সময় কোন এক অজানা মায়ায় যেন সবাইকে পেয়ে বসেছে। ইচ্ছা করছিল না কিছুতেই ছেড়ে আসতে তবুও গুডবাই জানাতে হয় সবুজে পাহাড়ে ঘেরা গজনীকে।

মোফাজ্জল হোসেন মায়া

প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: