কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আর স্বপ্ন নয়, গ্রামের মানুষও থাকবে বহুতল ফ্ল্যাটে

প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
আর স্বপ্ন নয়, গ্রামের মানুষও থাকবে বহুতল ফ্ল্যাটে
  • পূর্বাঞ্চলে আরডিএ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু

সমুদ্র হক

স্বপ্ন নয়, বাস্তব। গ্রামের মানুষ থাকবে বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট বাড়িতে। মিলবে নিজেদের প্লান্টে উৎপাদিত বিদ্যুত ও গ্যাস। জীবনমান হবে শহরের মতোই। হাতের কাছেই থাকবে স্কুল, বিনোদন পার্ক, কাঁচাবাজার, কমিউনিটি সেন্টার, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। দেশের আবাদি জমি রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকবেলাসহ বহুতল ভবনকে ঘিরে দারিদ্র্য বিমোচনের সকল অনুষঙ্গই সৃষ্টি করা হবে। এ কর্মসূচী ও প্রকল্পের নাম ‘পল্লী জনপদ’। উদ্ভাবক বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। ইতোমধ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় এমন পল্লী জনপদ মডেল তৈরি হবে। বগুড়া আরডিএর মহাপরিচালক এম এ মতিন জানালেন, পল্লী জনপদ প্রকল্প গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নসহ দারিদ্র্য বিমোচনের নানা কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাত বিভাগে একটি করে মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হবে। চারটি ক্যাটাগরির প্রতিটি পাঁচ তলা ভবনের ৭টি ভবনের একেকটি কমপ্লেক্সে গ্রামের ২শ’ ৭২ পরিবারের স্থান সঙ্কুুলান হবে।

ইতোমধ্যেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী পাস করেছেন। বগুড়া আরডিএ, সেন্টার ফর ইরিগেশন এ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিআইডব্লিউএম) ২ হাজার ১৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রাথমিক ব্যয় হবে ৪শ’ ২৪ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। যার ৭০ শতাংশ দেবে সরকার ও বাকি ৩০ শতাংশ মিলবে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে। প্রথম বছরের জন্য ৯০ কোটি টাকার বরাদ্দ মিলেছে। পল্লী জনপদের সুবিধাভোগীরা যাতে খুবই স্বল্পসুদে পরিশোধ করতে পারে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করে দেবে আরডিএ। সূত্র জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটেনের গ্রামে এ ধরনের মডেল ভিলেজ দেখে দেশে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। দেশের মানুষের বাসস্থান, খাবার ও উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দিতে একই ধরনের কনসেপ্ট আরডিএ বাস্তবায়ন করছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণের সঙ্গে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙ্গে দ্রুত নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে পরিণত হওয়ায় বাসস্থান ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে গিয়ে আবাদি জমির পরিমাণ কমে গিয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। বিশ বছর আগে যেখানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ৯ মিলিয়ন (৯০ লাখ) হেক্টর বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৮ মিলিয়ন হেক্টরেরও নিচে। এ ধারা চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছর পর আবাদযোগ্য জমি পাওয়া কঠিন হবে। সুদূরপ্রসারী ভাবনায় আরডিএর গবেষকগণ পল্লী জনপদ নকশা তৈরি করেছে। আরডিএর সিআইডব্লিউএমের পরিচালক মাহমুদ হাসান খান, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক একেএম জাকারিয়া বলেন, গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তারা যাতে গ্রামীণ পরিবেশেই খাপ খাইয়ে নিয়ে আধুনিক ধারায় পৌঁছতে পারে তার সকল ব্যবস্থাই থাকছে পল্লী জনপদ প্রকল্পে। মহাপরিচালক এম এ মতিন জানালেন, বর্তমানে বহুতল ভবন নির্মাণে যে উপকরণ ব্যবহার হয় তাতে অনেক খরচ। এ খরচও কমিয়ে একই মানের বহুতল ভবন নির্মিত হবে। প্রত্যেক ভবনেই থাকবে ভূকম্পন প্রতিরোধক ব্যবস্থা। ব্যবহার হবে ফেরোসিমেন্ট ও স্যান্ডউইচ প্যানেল। ফেরোসিমেন্ট হলো বালি ও সিমেন্টের এক ধরনের মিশন এবং স্যান্ডউইচ প্যানেল হলো এ্যালুমিনিয়াম ও নন-এ্যালুমিনিয়াম সিটের বন্ধনে বিশেষ ধরনের প্যানেল। ট্রাডিশনাল অট্টালিকা বানাতে যে খরচ তার চেয়ে অন্তত ৩৭ শতাংশ কম খরচ পড়বে এ বহুতল ভবনে। এ ধরনের প্রতিটি মডেল গ্রাম নির্মাণে দরকার হবে প্রায় ৩ একর ভূমি। এ ভূমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনে যারা বাস করবে স্বাভাবিক নিয়মে পথঘাটসহ ঘর বানিয়ে বাস করলে জমির দরকার হতো সাড়ে ১৬ একরেরও বেশি ভূমি। এ পরিমাণ জমি রক্ষা পেয়ে আবাদি জমির পরিমাণ বেড়ে যাবে। বহুতল ভবনের নিচে গৃহস্থালি ও গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগি পালনের বর্জ্যে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি হয়ে জ্বালানির ব্যবস্থা থাকবে। পচনশীল এ জৈব পদার্থে অন্তত ৬০ ভাগ মিথেন থাকে। যা দিয়ে রান্না ছাড়াও জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন করে বাতি, ফ্যানম টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার চালানো যায়। যদিও বিদ্যুতের জন্য সোলার প্যানেল থাকছে তার পরও ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হবে জেনারেটর। পরিবেশ রক্ষায় গাছ-গাছালি ও খেলার মাঠ থাকবে সামনের অংশে। বসবাসকারীরা যাতে আয়বর্ধক কাজ করতে পারে সে জন্য আরডিএ প্রশিক্ষণ দিয়ে যে যে কাজ ও ব্যবসা করতে চায় সে জন্য ঋণের ব্যবস্থাও করে দেবে। ঋণের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা। পল্লী জনপদ প্রকল্পে বহুতল ভবনে চার ধরনের ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটেই রান্নাঘর খাওয়ার স্পেস ও বাথরুম সুবিধা থাকছে। সূত্র জানায় প্রথম অবস্থায় যে সকল গ্রামে রেমিটেন্স বেশি আসে অর্থাৎ যে গ্রামের অনেক মানুষ বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়ে চাকরি করে দেশে টাকা পাঠায় সেই সব গ্রামে পল্লী জনপদ গড়ে তোলা হবে। পরিচালক এম এ মতিন জানালেন, দেখা গেছে যারা রেমিটেন্স পাঠায় তারা জমি কিনে বাড়ি করতে আগ্রহী হয় বেশি। তাদের উদ্বুদ্ধ করে পল্লী জনপদের আওতায় আনা হবে। প্রকল্পের ভেতরেই তথ্যপ্রযুক্তির সকল কর্মকা- থাকবে। একই সঙ্গে আরডিএ আশাবাদী দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনে এমন আধুনিকতা চর ও প্রত্যন্ত গ্রামেও বাস্তবায়িত হবে।

প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: