মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দর্পণে কার মুখ

প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

কারা পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে বাস, ট্রাক, কার, করছে সম্পদহানি, বিপর্যস্ত করে তুলছে জনজীবন ও দেশ? মাসাধিককাল ধরে কারা চালিয়ে যাচ্ছে পৈশাচিকতা, নৃশংসতা, সহিংসতা- সে প্রশ্নের উত্তর সবার জানা। না জানার ভান করছেন তাঁরা, যাঁদের নির্দেশে ঘটছে ঘটনা। বার্ন ইউনিটের দগ্ধ মানুষ ও তাঁদের স্বজনদের আহাজারি আর্তনাদ প্রবেশ করেনি যাঁদের কর্ণকুহরে, তাঁরা এতকাল পর এসে কৈফিয়তের সুরে কথা বলছেন। যানবাহনে পেট্রোলবোমা মেরে নারী-শিশুসহ মানুষ হত্যার কোন দায় তাঁদের নয় বলে দাবি করছেন। শুধু তাই নয়, যা কিছু ঘটছে তার দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। ভাবটা যেন সরকার তাদের নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরে দেশকে অস্থিতিশীল করে অবরোধ-হরতালকারীদের মসনদে বসিয়ে দিতে চায়। সুতরাং বিএনপি-জামায়ত জোট নেত্রী যা বিশ্বাস করেন, তা না বলে বরং যা বিশ্বাস করেন না সেই কথাই বলছেন যে, মানুষের জীবন নিয়ে তাঁরা অপরাজনীতি করেন না। হত্যা ও লাশের রাজনীতির সঙ্গে তাঁদের নেই কোন সম্পর্ক। গোয়েবলসকে সামনে রেখে অঙ্গীকারও করেছেন, এমন হীন ও নৃশংস অপরাজনীতি কখনও করবেন না। অথচ দেখা যাচ্ছে বাস্তবে তিনি রাজনীতি নয়, রাজনৈতিক আন্দোলনও নয়, বরং রাজনীতির নামে দেশজুড়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গীপনার বিকাশ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। যাকে প্রধানমন্ত্রী তুলনা করেছেন ইসলামী স্টেটস (আইএস) জঙ্গীদের সঙ্গে। যেভাবে জর্দানের পাইলটকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে আইএস জঙ্গীরা, অনুরূপ পেট্রোলবোমা মেরে, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে চলছে বিএনপি-জামায়াত জোট, যা স্পষ্ট করে নাশকতাকারী কারা ও কী তাদের লক্ষ্য।

অসত্য বারবার উচ্চারণে তা এক সময় সত্যে পরিণত হোক আর নাই হোক, বিভ্রান্তি বাড়াতে বরং সহায়ক। দেশবাসীর চোখে ঠুলি পরিয়ে নিজেদের অক্ষিযুগলে রঙিন চশমা সেঁটে অবলীলায় বলে ফেলা যায়- ‘দায় আমাদের নয়।’ তাহলে দায়টা কার? অবরোধ নামক কর্মসূচী কার্যকর করার জন্য সন্ত্রাসের পথ ধরে কারা হাঁটছেন? এই বীভৎস হত্যাকা-ের মাধ্যমে কী অর্জন তাঁরা করছেন যে, জনগণ তাঁদের সমর্থনে রাস্তায় নামবে? তাঁরা যে পৈশাচিকতা অব্যাহত রেখে জনমনে ভীতি তৈরি করছেন, দেশ, জাতি, অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ঘোলাজলে কারা মাছ শিকার করতে চায় সেটা দেশবাসীর অজানা, তা তো নয়। বিএনপি নেত্রী দীর্ঘ বিবৃতিতে যে সব কৈফিয়ত দিয়েছেন, তা সেই বহুল চর্চিত বাংলা প্রবাদ- ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’কে মনে করিয়ে দেয়। সরকার পতনের জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করার নির্দেশ আসে ল-ন থেকে। অভিযুক্ত পলাতক আসামির ফোনে, নেটে।

মানুষ খুনের জন্য হুকুমের আসামি করে দায়ের করা মামলায় বেগম জিয়া অভিযুক্ত হওয়ার পর বিবৃতিতে যে সাফাই গাইছেন তা দিনকে রাত, রাতকে দিন করার মতোই। এমনকি যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তা স্পষ্ট করে কারা নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাচ্ছে। বলেছেন তিনি, বাংলাদেশ এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এই কঠিন বাস্তবতার প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। এ অঞ্চল বলতে বাংলাদেশ, ভারতকেই বোঝায়। ক্ষমতায় থাকাকালে জঙ্গীবাদের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন বেগম জিয়া। তাদের দিয়ে ২১ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ঘটিয়েছিলেন। এখনও সেই জঙ্গীদের ব্যবহার করছেন। যাদের মূল পৃষ্ঠপোষক জামায়াত-শিবির ও আইএসআই। এ জঙ্গীরা যে এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিঘ্ন করবে, তা তিনি জানেন বলেই আগাম ঘোষণা দিতে পেরেছেন। আবার বলছেনও- অতীতে দেশ জঙ্গীবাদের কবলে পড়লেও তিনি তা দমন করেছেন। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টার পর এই তিনিই বলেছিলেন, ওরা ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গিয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১৩ সালে এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বাপর যে সহিংস, পৈশাচিক কর্মকা- চালিয়েছে দেশজুড়ে, তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি হতে শুরু করেছে নাশকতা। এটা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। বিবৃতি দিয়ে তা যতই এড়ানোর চেষ্টা হোক, বাস্তব যে- তাঁরা গত এক মাসের বেশি সময় ধরে যা করছেন এবং করাচ্ছেন জনগণের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। একাত্তরের পাকিস্তানী হানাদার সেনাদের মতো যেন হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা অমার্জনীয় অপরাধ। অথচ বেগম জিয়া প্রশ্ন তুলেছেন, অবাক বিস্ময় যে, এত প্রহরার পরও কেমন করে ঘাতক বোমার নৃশংস হামলা, হতাহতের ঘটনা ঘটে, তা এক জ্বলন্ত প্রশ্ন। এই প্রশ্ন তো দেশবাসীরও। কেন কী কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট অবরোধ-হরতালের নামে মানুষ হত্যা করে চলছে? এতে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে লাভবান না হলেও যাদের হয়ে এসব কাজ করছেন, সেই জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদীদের জন্য তিনি ‘খাল কেটে কুমির আনা’র মতো মানুষ হত্যা করে তাদের ঘাঁটি পোক্ত করছেন। এই জঙ্গীরা তাঁকেও ছেড়ে কথা বলবে এক সময়, তা নয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের পথ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফেরার আগে বিএনপি-জামায়াত জোট যেন দর্পণে নিজেদের মুখ দেখে! তাহলে বুঝতে পারবে, জনগণের কাছে, বিশ্বের কাছে তাদের অবস্থান এখন কোথায়; জঙ্গীবাদের ধারকই মূলত তারা আজ।

প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: