কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা না হলে অবরোধ চলবে ॥ হাফিজ

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করুন ॥ সরকারকে বিএনপি জোট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- সম্পূর্ণভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। শুক্রবার জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আর যদি একটি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটে তবে এর সঙ্গে জড়িতদের আগামীতে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। খুনী ও অত্যাচারী এবং তাদের দোসরদের ভবিষ্যতে আর কোন ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে বনানীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

বিবৃতিতে সেলিমা রহমান বলেন, দমন-পীড়ন ও হত্যা-রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণবিচ্ছিন্ন শাসকগোষ্ঠী এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীসমূহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে অবৈধ ক্ষমতা রক্ষার পাহারাদার বা লাঠিয়াল হিসেবে অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীনরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণের ভার দলবাজ, বিতর্কিত, স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট কতিপয় অত্যুৎসাহী কর্মকর্তা এখন আইন ভঙ্গ করে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুনাম, ঐতিহ্য ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, কতিপয় সুবিধাভোগী কর্মকর্তার জন্য আপনারা কেন নিজেদের সুনাম ও বাহিনীর ঐতিহ্য ক্ষুণœ করবেন? মনে রাখবেন, জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ কখনও সফল হতে পারেনি। ন্যায়ের পথে থাকার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্যকে এখন যদি বেআইনীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় তবে ভবিষ্যতে তাকে যথাযথ মর্যাদায় পুনর্বাসিত করা হবে। আমাদের এ আহ্বানের পরও আর যদি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটে, অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাতন, গুম-অপহরণ বন্ধ না হয়, তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের আমরা আগামীতে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলব। খুনী ও অত্যাচারী এবং তাদের দোসরদের ভবিষ্যতে আর কোন ছাড় দেয়া হবে না।

বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকা- সম্পর্কে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রতিটি এলাকা পর্যন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতিটি পদক্ষেপ ও কার্যকলাপ সতর্ক পর্যবেক্ষণে রাখুন। খুনী, নির্যাতনকারী ও গণবিরোধী ভূমিকা পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপকর্ম ও নাম-পরিচয় আপনারা তালিকাভুক্ত করে রাখবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে রাখবেন। আগামীতে এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ২০ দলীয় জোট।

পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সর্বস্তরের সদস্যের প্রতি পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান আন্দোলন জনগণের আন্দোলন। এই আন্দোলন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ক্ষমতাসীনরা কূটকৌশলে জনগণের আন্দোলনের বিরুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে। যানবাহনে বোমা হামলা চালিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে এ সবের দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে বিরোধী দলকে নিষ্ঠুর পন্থায় দমন করাই ক্ষমতাসীনদের ঘৃণ্য অপকৌশল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ভাই-বোনরা, আপনারা এই অপকৌশল বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, বোমা হামলার ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী গোষ্ঠীর লোকরা বোমা-অস্ত্র-গুলিসহ আটক হলেও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দিতে হচ্ছে। বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে তাদের দলের লোকদের ঝলসে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদপত্রে প্রায়শই প্রকাশিত হচ্ছে। তাদের কারও বিরুদ্ধেই আপনারা কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। অথচ পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী, এমনকি আটক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পর্যন্ত বিনা তথ্য-প্রমাণে মামলা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে সাজানো বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা হচ্ছে। পায়ে ও শরীরে গুলি করে গুরুতর জখম ও পঙ্গু করা হচ্ছে। যেখানে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে বিরোধী দল সমর্থকদের এবং অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের অসংখ্য লাশ। গুম-অপহরণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ১৭ হাজারের বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক করে ও রিমান্ডে নিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে- মেজর হাফিজ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার বিকেলে বনানীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে? তা না হলে তার কার্যালয়ে কে প্রবেশ করছে আর কে বের হচ্ছে তার তালিকা কেন পুলিশ খাতায় লিখবে?

মেজর (অব) হাফিজ বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। একটা বছর আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সরকার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তারা বলেছিল, ৫ জানুয়ারির পর তার ফের নির্বাচন দেবে। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে তারা সরে এসেছে। তিনি বলেন, দেশে এখন যেসব সহিংসতা ও হত্যাকা- ঘটছে তার জন্য ক্ষমতাসীনরাই দায়ী। খালেদা জিয়াকে সহিংসতার জন্য দায়ী করা হাস্যকর বিষয়। কারণ খালেদা জিয়াকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ, সেখান থেকে সহিংসতা করা তো দূরের কথা কোন নির্দেশনাও দেয়া যায় না।

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: