রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বপ্নের কাছাকাছি

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

স্বপ্ন বুনে চলে মানুষ। অনেকে কেবল তা বুনেই চলে সারাজীবন। ফল পায় না। কিন্তু শুভর মতো মানুষরা শুধু স্বপ্নই বুনে না, একে পরিচর্যা করে, একসময় ঘরে ফসলও তোলে। যে শুভর কথা বলছি তিনি লেখক খাইরুল ইসলামের ‘স্বপ্ন’ বইটির কাহিনী বিশ্লেষণে আমরা দেখি, শুভ গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে যে কিনা নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শুভ বড় হতে চায়। দেখতে চায় নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে। এজন্য লেখাপড়ায় তার প্রচ- আগ্রহ। সেই আগ্রহ আর চেষ্টাই তাকে নিয়ে যায় স্বপ্নের কাছাকাছি। স্বপ্নপূরণে পরিবার, সমাজ, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সব জায়গাতে সংগ্রাম করতে হয় শুভকে। উজানের বিপরীত স্রোতকে মোকাবেলা করতে হয় নিজের দৃঢ়চেতা মনোভাব নিয়ে। পরীক্ষায় ৮৯ নম্বর পেয়েও বানান ভুলের কারণে শিক্ষকের কাছে কঠিন শাস্তি পায় সে। এজন্য আবার বাবার কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

মিতুকে ঘিরে শুভ যতবার স্বপ্ন দেখেছে ততবারই স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। তারপরও হার মানেনি। আজীবন ভালবেসে গেছে মিতুকে। সেই ভালবাসা ছিল নির্লোভ। ভালবাসার মানুষের সুখের জন্য নিজে দাঁড়ায়নি বাধা হয়ে।

‘স্বপ্ন’ উপন্যাসটি লেখকের প্রথম উপন্যাস। চেষ্টা ছিল ভাল কিছু করার। তবে বেশ কিছু সমস্যা উতরাতে পারেননি তিনি। অন্যের মুখে কাহিনী বর্ণনায় কখনই বেশি গভীরে যাওয়া যায় না, লেখকও যেতে পারেননি। ভাষাগত, বাক্যগত সমস্যা দেখা গেছে অনেক জায়গায়। সঠিক জীবন দর্শন বইতে খুঁজে পাওয়া গেলেও উপস্থাপনগত কিছু দুর্বলতার কারণে তা যর্থাথ ফুটে ওঠেনি। তবু বলা যায়, প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে ভালই লেখা।

আরিফুর সবুজ

রেজাউদ্দিন স্টালিনের ৮টি বই

রেজাউদ্দিন স্টালিন সাম্প্রতিক বাংলা কবিতার শক্তিমান কবি। পুরাণ ও ইতিহাসের নবতর প্রাসঙ্গিক ব্যবহার ত্ার কবিতাকে দিয়েছে আন্তর্জাতিকতা। দেশ এবং দেশের বাইরে রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতার পাঠক অগণিত। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ত্ার কবিতা অনূদিত হয়েছে। জাদুবাস্তবতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতার মূল সূত্র। কাব্যজগতের বাইরে তিনি একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। এবারের বইমেলায় রেজাউদ্দিন স্টালিনের ৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বায়োডাটা-কাব্যগ্রন্থ-কুঁড়েঘর প্রকাশনী, নতুন পিরামিড-কাব্যগ্রন্থ, কেয়ার পাবলিশিং হাউজ, আবৃত্তির কবিতা-চিত্রা প্রকাশনী, দ্রোহের কবিতা-সাহস পাবলিকেশন্স, নজরুলের আত্মনৈরাত্ম প্রবন্ধ গ্রন্থÑ রিয়েল প্রকাশনী, নির্বাসিত তারুণ্য-প্রবন্ধ গ্রন্থÑ কেয়ার পাবলিকেশন্স হাউজ, প্রশ্নের পুরাণ-সাক্ষাৎকার গ্রন্থ-কবি প্রকাশনী, প্রেমের কবিতা-সিদ্দিকীয়া পাবলিকেশন্স এছাড়া কুড়িটি প্রেমের চিঠি-পুনঃমুদ্রণ করেছে কুঁড়েঘর প্রকাশনী। গ্রন্থগুলির প্রচ্ছদ এঁেকছেন মোস্তাফিজ কারিগর।

মৃত্যুর সায় ছিল না

দুলাল সরকার

ঝলসানো রুটির দেহজুড়ে ফুলকপির বোবা ফোঁসকা-

কি সুন্দর গণতন্ত্রের আভা!

কিছু নষ্ট মানুষের উগরে দেয়া

সোনারস গলানো লাভা গেঁজে উঠেছে

রক্তবাহী শিরায় শিরায় কুঞ্চিত চর্বির খাঁ খাঁ রোদ্দুর

চেপে ধরে নিষিদ্ধ পর্দায় ভেসে উঠে বার বার

আমাকে শেখাচ্ছে গণতন্ত্রের নতুন আভা ;

অথচ যে মৃত্যুতে আমার সায় ছিল না মোটেই

কোন মতেই বার্ন ইউনিটে যাবার ইচ্ছে ছিল না তাঁর

তাঁর তো ইচ্ছে ছিল স্বাভাবিক হওয়ায়

ঘরে ফিরে দিনশেষে শিশুপুত্রের গালে চুমো খাবার;

তবে কি আজ নদীরও শিখতে হবে নতুন বর্ণমালা

যার জন্ম আমার বাংলায় নয়-

কোন নিষিদ্ধ ক্ষুধায় কোন সর্পিণীর উগরে দেয়া বিষের লালায়

সে পেয়েছে নতুন পরিচয়-নাগকন্যার গোলাপী ঠোঁটে।

চেতনা ঘুমাক চেতনানাশকে

হাবিবুল্লাহ রাসেল

যে যুক্তি থেকে তুমি জ্বালাবে আমায়

সে যুক্তির কোন ঠিকানা নেই

স্বজাতির ব্যথায় পশুও কাঁদেÑ

সে সকল ব্যথা ঘুমিয়েছে চেতনানাশকে

বিদ্যুৎ তারে যে কাক মরে ঝুলে থাকে

তার শোকসমাবেশে

কাককান্নায় বাতাস ভারী হয়

ক’টা মানুষ পুড়লে তোমার বাতাস ভারী হবে?

বরং বার্ন ইউনিট করে দাও এ বদ্বীপ

শোকবই ঘুমাক শোকশোকেসে

চেতনা ঘুমাক চেতনানাশকে

আমার সন্তান পুড়ে যাবে সে যুক্তির কোন রঙ নেই

গণতন্ত্রের তন্ত্র-মন্ত্র নিয়ে উড়ে যাক চোখের শকুন

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: