আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পথহারা এক মুক্তির গল্প

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আবু জাফর রাজীব

গল্প

বিশ্বাস হচ্ছিল না হিমেলের। গল্প বিক্রির ফেরিওয়ালা আছে নাকি পৃথিবীতে? শোনার ভুল হয়তো। বেলা উঠেছে সেই কখন। ছুটির দিন। বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না। কান-সজাগ ঘুমে এপাশ-ওপাশ করছিল। সেই ঘুমঘুম আবেশে ভুলও শুনতে পারে। পাশ ফিরে শুয়ে সে চোখ মেলে। জানালা ঈষৎ ফাঁক। এক চিলতে রোদ এসে বসেছে বিছানায়। দেয়ালে বসে ঝিমোচ্ছে একটা প্রজাপতি। সহসা আবার ওই হাঁক, রাখবেননি ছোটগল্প, বড়গল্প, উপোন-না-আস..?

না। শোনার ভুল নয়। স্পষ্ট ফেরিওয়ালার হাঁক। হিমেলের ভাড়া বাড়ির ফ্ল্যাট চারতলা বাড়ির নিচ তলায় ভোরবেলায় ঘুম ভাঙে ফেরিওয়ালাদের হাঁক-ডাকে। মুনমুনের আর কষ্ট করতে হয় না স্বামীকে ঘুম থেকে জাগাতে। টুকটুকিরও ঘুম ভাঙে তাদের হাঁক-ডাকে। সপ্তাহের পাঁচ দিন উপকার করলেও ছুটির দিনে খুব বিরক্ত হয় হিমেল। একটু আরাম করে সকালের বিছানায় থাকবে তার উপায় নেই। মেজাজ যায় খাট্টা হয়ে।

আজ এসেছে ভিন্নধরনের এক ফেরিওয়ালা। ভেতরের কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে ঝটপট উঠে জানালার পাট খুললো। তাকে দেখে ফেরিওয়ালা আবার হাঁক দিল, রাখবেন, ঐতিহাসিক, সামাজিক, রোমান্টিক ছোটগল্প, বড়গল্প, উপন্যাসের কাহিনী?

তাহলে বই বিক্রি নয়? কাহিনী বিক্রি। তাও আবার ফেরি করে? বিস্ময়কর ব্যাপার তো। হিমেল পরখ করে দেখল অদ্ভুত এ ফেরিওয়ালাকে। বয়স ষাটের ওপরে। পঁয়ষট্টি পারও হতে পারে। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ঘাড় পর্যন্ত চুলগুলো এলোমেলো। লম্বা দাড়ি। চুল দাড়ি সাদা। পরনের প্যান্ট বেশ পুরনো। শার্ট-প্যান্ট ধোয়া হয় না অকেনদিন। ফরসা চেহারায় এখন বেশ মলিনতা। বুদ্ধিদীপ্ত ঝকঝকে চোখ। সুন্দর নাক। চমৎকার কপাল। লম্বায় ছ-ফুটের কাছাকাছি। ভদ্রলোক শিক্ষিত বলেই মনে হচ্ছে হিমেলের। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন হয়ত কোন অবাঞ্ছিত কারণে। কিন্তু মুখের ভঙ্গি দেখে সেরকম মনে হচ্ছে না। হিমেল একটু কৌতুকের গলায় জানতে চাইল, আপনার কাহিনীর ঝুড়ি কোথায়?

জানালার কাছে এগিয়ে এলেন কাহিনী বিক্রেতা। বিস্ময়-বিস্ফারিত চোখ ধরে রাখল হিমেলের দিকে। মনে হচ্ছে প্রশ্নটা সে নতুন শুনল। এমন আজব প্রশ্ন জীবনে আর কখনো শোনেননি। অন্যরকম গলায় বলল, ভাতিজা মনে হয় মানসিক ব্যাধিতে ভুগছো?

হিমেল রসিকতা করতে চাইল, পুরোটা না, কিছুটা।

কাহিনী ফেরিওয়ালা পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে। কপালে ভাঁজ ফেলে হিমেলকে একটুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বলল, কাহিনী রাখার যেদুটো পাত্র দরকার তা আমার আছে।

সন্ধ্যানী দৃষ্টি প্রসারিত করল হিমেল, কোথায় সে দুটো?

আছে। বত্রিশ পাঁজরে গড়া খাঁচার ভেতর বাস্তব গল্প। মগজের ঝুড়িতে নিজের তৈরি গল্প। তুমি তো আবার আধ-পাগল মানুষ, গল্প কাহিনীর কিছু বুঝবে না। কিনবেও না। খালিখালি বকবক করলাম কতক্ষণ।

বলে পা বাড়ায় কাহিনী বিক্রেতা। হিমেল মজার গলায় বলে, এই যে ফেরিওয়ালা চাচা, আমি একটা গল্প কিনবো।

ফিরে দাঁড়ায় কাহিনী বিক্রেতা। মুখ-চোখ দেখে বোঝা গেল বেশ রাগ করেছ। বলল, আমি কাহিনী বিক্রি করলেও ফেরিওয়ালা নই।

তাহলে আপনি কি কাহিনীকার?

আলবৎ। কাহিনী বিক্রেতাও বলতে পার। কিন্তু তুমি কিনতে চাইলে তো জানালা দিয়ে দেয়া যাবে না। ভেতরে আসতে হবে।

বরাবরই আড্ডাবাজ হিমেল। বন্ধু-বান্ধব হলে তো কোন কথাই নেই। অচেনাদের সঙ্গেও জমিয়ে ফেলতে পারে। কাহিনী বিক্রেতা সম্পর্কে জানার কৌতূহল চাপিয়ে রাখতে পারল না। আজকে জমাবে এই অদ্ভুত ধরনের কাহিনী বিক্রেতার সঙ্গে। সখারও আসার কথা আছে। অফিস কলিগ সে। বন্ধুও। ছুটির দিনে বেশ সময় কাটানো যাবে এই দুজনকে নিয়ে। একসঙ্গে জমবে বেশ। সেজন্যই বৃদ্ধকে ভেতরে এনে বসাতে হবে। পাশ ফিরতেই দেখে মুনমুন দাঁড়িয়ে আছে খাটের পাশে। জানতে চাইল, কার সঙ্গে কথা বলছো? সখা ভাই এলো নাকি?

একটু যেন থমকাল হিমেল। অপরিচিত, মাথায় গ-গোল আছে জানতে পারলে মুনমুন তাকে ঘরে আনতে দেবে না। বললো, সখা তো রাতেই বলে দিয়েছে আসতে একটু দেরি হবে। এই হলেন, মানে ওই ... আমার একজন চেনালোক।

তোমাকে কতবার ডাকলাম উঠলে না। কিছু গুঁড়া মাছ রাখার দরকার ছিল।

এলে ডাক দিও।

হিমেল কাহিনীকারকে ভেতরে এনে বসবার ঘরে বসতে দিয়েছে। তার অনুমতি নিয়ে বাথরুম সেরে দাঁত ব্রাশ করল ঝটপট। আধাঘণ্টার কমে হিমেলের কখনো দাঁত ব্রাশ করা হয় না ছুটির দিনে। কোন কোনদিন তাকে ‘নাশতা ঠা-া হলো’ বলে মুনমুনের তাগাদা দিতে হয় বার কয়েক। আজ হাত মুখ ধুয়ে এসে সোফায় বসল কাহিনীকারের মুখোমুখি সিঙ্গেল সোফায়। জানতে চাইল, আপনার গল্পের দামÑ

শেষ করতে পারল না হিমেল। কাহিনীকার জবাব দিল, এ জন্যই তো তোমাকে আমি আধ-পাগল মনে করছি। কাহিনীর কোন মূল্য হয় না। এটাকে বলে সম্মানী। তুমি ছোটগল্প, বড়গল্প না উপন্যাসের কাহিনী নেবে? খানিকক্ষণ ভাবার অভিনয় করে বলল, একটা ছোটগল্পের কাহিনীই দিন।

কাহিনীকার স্থির চোখে নিরীক্ষণ করলেন হিমেলকে। হয়ত বুঝতে চাইছে আদৌ সে কাহিনী কিনবে কিনা। পরে জানতে চাইল, তা ঐতিহাসিক, সামাজিক না রোমান্টিক?

সমাজিক।

খানিকটা অন্যমনস্ক গলায় বলল, ঐতিহাসিক কিনে বয়স্করা, রোমান্টিক অবিবাহিত তরুণ-তরুণী। তুমি তো বিবাহিত তাই সামাজিক চেয়েছো। তা পাঁজরের তলার খাঁচা থেকে দেব, না মাথার ঝুড়ি থেকে দেব?

হিমেল একটু যেন ভাবল। নয়তো বা ভাবার অভিনয় করে বলল, পাঁজরের তলার খাঁচা থেকে দিন।

কেন যেন কাহিনীকারের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো, ওটা তো বাস্তব। সম্মানী একটু বেশি দিতে হবে?

এ বাড়ির দু’দিক দিয়ে রাস্তা। বসবার ঘর পড়েছে উত্তর-দক্ষিণ রাস্তার পাশে। জানালা খোলা। পর্দা উড়ছে বাতাসে। হিমেল দৃষ্টি ফেলল পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে। একজন কাগজ ফেরিওয়ালা যাচ্ছে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে। কোন হাঁক দিচ্ছে না সে। দরকারও নেই। তার বড় ঝুড়ি পরিপূর্ণ বই, খাতা আর পুরনো পত্র-পত্রিকায়। সেদিকে তাকিয়ে হিমেল জানতে চাইল, কীরকম দিতে হবে?

অপ্রস্তুত মনে হলো কাহিনীকারকে। চোখের কোণ দিয়ে আবার হিমেলকে নিরীক্ষণ করে বলল, এখন এক কাপ চা, আর তিন-চারটে বিস্কুট। যদি দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে যায় তাহলে দুপুরের খাওয়া।

এমন সময় বাইরে মেয়েলি গলায় হাঁক শোনা গেল, ছাই লইবেননি, ছা-আই?

ভেতরের ঘর থেকে মুনমুনের গলা, ঘরে একদম ছাই নাই। মাছ কোটা যায় না। একটু ডাক দাও তো।

হিমেল জবাব দেয়, আমি ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছি। তুমি ডাক।

কাহিনীকার একটু বিরক্ত স্বরেই বলেন, এ জন্যই তোমাকে আধ-পাগলা বলি। আমি ভদ্রলোক নই। কাহিনী বিক্রেতা। আর তুমি আমার সঙ্গে কথা বলছো না। ছোটগল্পের কাহিনী কিনছো?

ঠিক আছে আপনি শুরু করুন। আমি চা নাশতার কথা বলছি। মুনমুন এ ঘরে চা-নাশতা দাও।

পলকেই তার মুখ-চোখে ছড়িয়ে পড়ল হাসির বিচ্ছুরণ। বলল, এখন একটু চুপচাপ বসে থাকি। নাশতা খেয়েই শুরু করব।

মুনমুন আসে এ সময়। দু’জনের জন্য পরোটা মামলেট নিয়ে এসে সেন্টার টেবিলের ওপর রেখে কাহিনীকারের দিকে চোখ পড়তে সে চমকে উঠে। এ কাকে এনে ঘরে বসিয়েছো? আবার নাশতা খাওয়াবে। বৃদ্ধ কাহিনীকার জানতে চায়, তোমার বউ বুঝি? ভাল বউ পেয়েছো। সবার ভাগ্যে হয় না। বাড়িটা কি ওনার নামে দিয়েছো?

মুনমুন দ্রুত পায়ে যেতে গিয়েও প্রশ্নটা শুনে দাঁড়ায়। পেছন ফিরে। হিমেল জবাব দেয়, আমার বাড়ি নেই। দেব কী? এটা তো ভাড়াবাড়ি।

হিমেলের বলার অপেক্ষা না করে পরোটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল, কখনো বাড়ি করতে পারলে ওনার নামে লিখে দেয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর হ্যাঁ, খাওয়ার সময় আমি কথা বলি না। খাওয়া শেষে কাহিনী বের করব খাঁচা থেকে।

চুপচাপ নাশতা খেল দু’জনে। মুনমুন পাশের ঘরে এসে দরজার আড়াল থেকে বলল, তুমি তাড়াতাড়ি কথা শেষ কর। আমি টুকটাক কিছু কেনার জন্য ডাকবো।

ডাক। যা পছন্দ হয় রাখ। আমি এ কাহিনী বিক্রেতার সঙ্গে জরুরী কথা বলছি।

কাহিনী বিক্রেতা বলল, এই জন্যই তো বলি তুমি পাগল। আমরা জরুরী কথা বলছি না। আমি ছোটগল্পের কাহিনী বিক্রি করছি তুমি কিনছো?

তাঁকে থামিয়ে দিল বাইরের এক ফেরিওয়ালা, এ্যাই সিলভার হাঁড়ি পা-তি-ল...

কাহিনী বিক্রেতার মুখে বিরক্তির ছায়া। হিমেলের দিকে চেয়ে বললেন, এই উটকো ফেরিওয়ালাদের জন্য ঠিকমতো এমন মহা-মূল্যবান রতœও বেঁচা-কেনা করতে পারবো না।

ভেতরের ঘরে মুনমুনের গলায় বিরক্তি, একটা ঢাকনা না হলে মাড় গালতে খুব কষ্ট হয়। সিলভারওয়ালাকে ডাকতো?

বাইরে তখন ঝুনুর-ঝুনুর শব্দ। তালা-চাবির মিস্ত্রি তার চাবির ছড়া বাজাতে বাজাতে যাচ্ছে মুখে হাঁক না দিয়ে। হিমেলদের ভাড়াবাড়ির পূর্বপাশে কাঠা তিনেক খালি জায়গা। একজন ব্যাংকার কিনেও বাড়ি করেননি এখনো। দুটো নারিকেল, একটা আম, কয়েকটা পেয়ারা গাছ আছে ওই জায়গায়। আগাছাও জন্মেছে কিছু। ওদিক থেকে একটা কাক ডেকে ওঠে কর্কশ গলায়। কাহিনী বিক্রেতা একরাশ বিরক্তি ছড়িয়ে বলল, কাকটা আর ডাকার সময় পেল না।

উঠে দাঁড়ায় কাহিনী বিক্রেতা। হিমেল প্রশ্ন করে, উঠলেন কেন? গল্প তো কেনা হলো না?

এমন সময় সখা আসে। বৃদ্ধকে দেখে চমকে উঠলেও নিজেকে সামলে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসে। বৃদ্ধ কাহিনীকার বলে চলছে, এত উঠকো ফেরিওয়ারা, অসময়ে মেহমান, তার উপর বিশ্রী কাকের ডাক। এখন আর গল্প বিক্রি করা যাবে না। গল্প বিক্রির মোক্ষম সময় এটা নয়। তোমাদের ওয়াশরুমটা...

হিমেল দেখিয়ে দেয়। বৃদ্ধ ওয়াশরুমে গেলে সখা বলে, তুই ওনাকে চিনিস নাকি?

না। একটু আগে উনি ফেরিওয়ালাদের মতো হাঁক দিল, রাখবেননি ছোটগল্প, বড়গল্প, উপোন-না-আস...? ব্যস সময় কাটানোর জন্য ভেতরে এনে বসালাম। নাশতা খাওয়ালাম।

উনি আর গল্প বলবেন না। একবার যখন না বলেছেন আর হ্যাঁ বলানো যাবে না। বিরক্ত না হলে বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প তোদের শুনিয়ে যেতো। এটাই ওনার কাজ। বিনিময়ে চা-বিস্কুট, নাশতা। নাশতা যখন তোর বাসা থেকে খেয়ে গেছে দেখবি আবার হয়তো একদিন আসবেই। সেদিন এমনও হতে পারে নাশতা না খাওয়ালেও জোর করে গল্প বলবে। ঋণ শোধ করে দেবে।

হিমেল জানতে চাইল, তুই তাকে চিনিস কী ভাবে।

আমাদের ওদিকেই থাকে। উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। বিএসসি পাস। বিয়ে করেনি। আমি মানুষের কাছে যা শুনেছি, ওনার নাম কমল রায়। মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে খান সেনাদের গুলি লাগে পেটে। তখন সে ঘুরতে ঘুরতে পাক খেয়ে একটা গাছের সঙ্গে মাথায় বাড়ি খায়। ডাক্তার পেটের গুলি বের করলেও তখন বুঝতে পারেনি মাথায়ও আঘাত পেয়েছিল। সেই দোষটাই রয়ে গেছে। ওনাকে দেখলে কেউ বলবে উনি হিন্দু? সময়-অসময় নাই মসজিদের বারান্দায় নামাজ পড়ে। একা। ওই ওঠ বস আর কী। একেবারে নামাজের ভঙ্গিতে। বিড়বিড় করে কী বলে উনিই জানেন। আবার মন্দিরে গিয়ে দুর্গা ঠাকুরের সামনে মাথা নুয়ে পড়ে থাকে। কখনো বাসাবো বুদ্ধমন্দিরে গিয়ে বুদ্ধদেবের মতো ধ্যানে বসে যাবেন। ওনার কোন মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নাই। অথচ দেখ, যাদের যুদ্ধের সময় সাত-আট বছর বযস তাদের সার্টিফিকেট আছে। মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের বযস বাড়ানোতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। দুদক ধরেছেও কয়েকজনকে তাতো তুই জানিস। চাকরি থেকে পদত্যাগও করেছেন কেউ কেউ।

হিমেল কী যেন বলতে গিয়েও থেমে যায়। বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ওয়াশরুম থেকে আসছে। এ ঘরে এসে বলল, সন্ধ্যার পর জেলখানায় যাব। আজকে ওখানে গেলে পাইকারি দরে কাহিনী কিনতে পারবো। পরে তোমাদের কাছে খুচরা দরে বিক্রি করলে আমার লাভ হবে।

হ্যাঁ, আজ ওখানে কাহিনী পাবেন।

মুক্তিযোদ্ধা কমল রায় সখাকে কড়া এক ধমক দিয়েই বলে, ওই ছোকড়া তুমি কে? তোমাকে এত কথা বলতে কে বলেছে?

কথাটা শেষ করে কাহিনী বিক্রেতা পা বাড়ায়। বেরিয়ে যান নিজেই দরজা খুলে। হিমেল দরজায় এসে তাঁর চলে যাওয়া দেখছিল বিস্ময়-বিমূঢ় হয়ে। মুক্তিযোদ্ধা কমল রায় হাঁক দিলেন, রাখবেন, ঐতিহাসিক, সামাজিক, রোমান্টিক ছোটগল্প, বড়গল্প, উপন্যাসের কাহিনী?

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: