মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নার্সিং ॥ সেবাই যাদের পেশা ও জীবন

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের ওটি নার্স পারুল আক্তার। মানবসেবায় ব্রত হয়ে এসএসসি পাস করার পর সলিমুল্লাহ নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ৪ বছরের ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্স শেষ করে সরকারী হাসপাতাল- নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে মানবসেবায় নিজেকে জড়িত করেন। সেবার মাঝেই আনন্দ-বিনোদন, সেবার মাঝেই আয়-রোজগার, সেবার মাঝেই সুখ-দুঃখ। অসুস্থ রোগীদের সেবার মাধ্যমে সুস্থ করার মাঝেই আনন্দ খুঁজে পান তাঁরা। অচেনা-অজানা মানুষের পরম মমতায় আপন করে নেন এই পারুলরা।

বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের তথ্যমতে দেশে মোট ৯৮টি নার্সিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন জেলায় সরকারী ৪৩টি, স্বায়ত্তশাসিত ১টি, আর প্রাইভেট ৫৪টি।

আমাদের দেশে প্রধানত নারীরাই নার্সিং পেশার সঙ্গে জড়িত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডে জাতীয় পর্যায়ে নার্সদের নিবন্ধিত করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯০১ সালে নার্সেস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট প্রণীত হয়। এলেন ডাফার্টি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রথম নিবন্ধিত নার্স। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্যরূপে নর্থ ক্যারোলিনায় নার্সিং লাইসেন্স ল ১৯০৩ সালে গৃহীত হয়। ১৯৯০-এর দশকে নার্সদের ওষুধ দেয়া, ডায়াগনস্টিক, প্যাথলজি পরীক্ষাসহ রোগীদের প্রয়োজনে অন্য পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের কাছে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়া হয়।

দিন দিন মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে হাসপাতাল। তার সঙ্গে পালা দিয়ে বাড়ছে রোগ। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নার্সের চাহিদা। ফলে পড়ার বিষয় হিসেবে নার্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে পড়ার মাধ্যমে যেমন মানবসেবার সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভাল ক্যারিয়ারও। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৩শ’ নার্স সৌদি আরব, লিবিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে কর্মরত আছেন। ইংরেজী জানা ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ নার্স গড়ে তুলতে পারলে এ খাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু নার্সিং পেশার প্রতি সমাজের নেতিবাচক মনোভাব, অভিজ্ঞ শিক্ষক, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ইংরেজী জানার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাবনাময় খাত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে নার্সিং পেশার যথাযথ বিকাশ এবং সম্প্রসারণ আটকে আছে। বিদেশে চাকরি পেতে হলে নার্সদের প্রশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ইংরেজীতে পারদর্শী হতে হবে। শিক্ষিত এবং ইংরেজীতে পারদর্শী নার্সরা সিজিএফএনএস (কমিশন অব গ্র্যাজুয়েটস অব ফরেন নার্সিং স্কুলস) পরীক্ষায় পাস করতে পারলে উন্নত বিশ্বে চাকরির জন্য যোগ্য হতে পারে।

বাংলাদেশে দুটি প্রতিষ্ঠান বিএসসি ইন নার্সিংয়ের ওপর চার বছরের অনার্স কোর্স চালু করেছে। স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এটি স্কুল অব হেলথ সায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত। এখানে চার বছরে ১২টি সেমিস্টারে ১৫০ ক্রেডিট পড়ানো হয়। আর আইইউবিএটিতে চার বছরে ১১টি সেমিস্টারে ১৪৩ ক্রেডিট পড়ানো হয়। এছাড়াও দেশে নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে নিতে ‘শিশুদের শ্বাস গ্রহণে সহযোগিতা’ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) অর্থায়নে এই কর্মসূচীর আওতায় আগামী তিন বছরে সারাদেশে ২০ হাজার চিকিৎসক, নার্স ও ধাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেবে বিএসএমএমইউ। এ কাজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৪ লাখ ডলার দেবে ইউএসএআইডি। এ বিষয়ে পড়ার পর দেশ ও দেশের বাইরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। দেশে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল, সমাজসেবা অধিদফতর, এনজিও এমনকি পর্যটন কর্পোরেশনেও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিদেশে কাজ করতে চাইলে বিএসসি পাস করে সিজিএফএনএস বা কমিশন অন গ্র্যাজুয়েটস অব ফরেইন নার্সিং স্কুলসের পরীক্ষায় পাস করে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই পেশায় কাজ করার সুবিধা রয়েছে। দেশে অগণিত নারী সংসার সামলানোর পাশাপাশি নার্সিং পেশাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। পড়ালেখার পাশাপাশিও অনেকে নারী শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। সিনিয়রদের কাজ করতে দেখে দেখে এক সময় তারাও হয়ে ওঠেন নার্স। নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি মানবসেবার পেশায় কাজ করে যান দিন-রাত।

আলম শামস

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: