মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাছের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মাছ যে জলীয় পরিবেশে অর্থাৎ তাদের জলরাশির বুকে সংঘটিত পরিবর্তনে সাড়া দিয়ে চলে, সে কথা মোটামুটি সবাই জানেন। যেমন, তারা বাধাবিঘœ এড়িয়ে চলে, জলঘূর্ণি বা ঘূর্ণিস্রোতে নিজেদের শরীরকে মেলে দিয়ে তারা সাঁতারের চেষ্টা কমিয়ে ফেলে এবং দর্শনের সাহায্য ছাড়াই পানির প্রবাহে শিকারের রেখে খাওয়া পরিবর্তনগুলোর সন্ধান করে। এসব কিছুই তারা করে তাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রীয়ের সহায়তায়।

এই ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় কিভাবে মাছেদের পানির প্রবাহ নির্ণয়ের সুযোগ করে দেয়, একদল বিজ্ঞানী তা শনাক্ত করেছেন। এর ফলে এসব জলজপ্রাণী কিভাবে পরিবেশের পরিবর্তনে সাড়া দেয়, সে সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের রহস্যের একটা কিনারা হয়েছে। তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখানো হয়েছে, কিভাবে ভৌত নীতিমালা অনুযায়ী ইন্দ্রীয়গুলোর বিবর্তন ঘটে থাকে। গবেষণার এ ফলাফল থেকে কিভাবে ইন্দ্রীয়গত নেটওয়ার্কগুলো বিন্যস্ত, তা অনুধাবনের একটা কাঠামোও পাওয়া যায়।

গবেষক দলের অন্যতম মার্কিন বিজ্ঞানী লিফ রিসট্রোফ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা মাছের শরীরে প্রবাহ সেন্সরের এক অদ্ভুত লে আউট চিহ্নিত করেছি। এসব সেন্সরের নেটওয়ার্কটি ‘হাইড্রোডায়নামিক এন্টেনা’র মতো। যে কারণে মাছেদের পক্ষে পানির প্রবাহ সম্পর্কিত সিগনালগুলো পুনরুদ্ধার করা এবং বিভিন্ন আচরণের ক্ষেত্রে এই সংক্রান্ত তথ্য কাজে লাগানোর সুযোগ ঘটে।

প্রবাহ সম্পর্কিত তথ্য মাছেরা কিভাবে কাজে লাগায়, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষক দল মাছেদের ল্যাটারাল লাইন বা পার্শ্বীয় রেখার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। এ হলো একটি সংজ্ঞাবহ ইন্দ্রীয়তন্ত্র, যার কাজ হচ্ছে চারপাশের জলরাশির আলোড়ন ও কম্পন, দুটোই নির্ণয় করা। এই নালীগুলো শরীরের ঠিক কোন কোন জায়গায় অবস্থিত তার ওপর তারা বিশেষ নজর দেন এবং লক্ষ্য করেন যে, ওগুলোর অবস্থান থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে, কিভাবে মাছের ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় কাজ করে, দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা যায় যে, কেভফিশ বা গুহামাছ হলো একটা দৃষ্টিহীন মাছ। এই মাছের মাথায় থাকে ইন্দ্রীয় আকীর্ণ নালীগুলো এবং এই মাথায় থাকার কারণেই ওগুলো বাধা বা প্রতিবন্ধকগুলো নির্ণয় করতে পারে।

গবেষক দল তাদের ব্যাখ্যাটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য রেইনবো ট্রাউট মাছের একটি প্লাস্টিকের মডেল তৈরি করেন। এতে মাছটির ইন্দ্রীয় নালীগুলোর অবস্থানের হুবহু প্রতিরূপ সৃষ্টি করা হয় এবং চারপাশের পানির গতি নির্ণয়ে উজ্জ্বল মার্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়। গবেষক দল বাস্তব জীবনের অনুকরণকৃত জলজ পরিবেশে ঐ মডেল মাছটিকে নিয়ে বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। সেই পরিবেশে পানির প্রবাহগত পরিবর্তনে পানির চাপ পরিবর্তিত হয়েছিল এবং শিকারের উপস্থিতির অবস্থানটি অনুকরণ করা হয়েছিল। গবেষকরা পানির চাপের ক্ষেত্রে প্রবলতম পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত রেখে ইন্দ্রীয় নালীগুলোর অবস্থান কোথায়, তা পরীক্ষা করে দেখেন। তারা দেখতে পান যে, পূর্বাহ্নে যেমনটি অনুমান করেছিলেন, তদনুযায়ী ইন্দ্রীয় নালীগুলো শরীরের সেইসব জায়গায় কেন্দ্রীভূত, যেখানে পানির চাপের ক্ষেত্রে সর্বাধিক তারতম্য সংঘটিত হয়। টিভি বা রেডিও এন্টেনার আকার এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনাল ধরা খায়। মডেল মাছের ইন্দ্রীয় নালীর ব্যাপারটাও অনুরূপ। এটা একটা এন্টনার মতো, যা শরীরের গায়ে থাকে এবং এমনভাবে তৈরি যে, তা পানির চাপের ক্ষেত্রে যে কোন পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল। এভাবে ট্রাউট মাছটির ইন্দ্রীয় নালীর অবস্থান ও ভূমিকা নির্ণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র : এ্যানিমেল সায়েন্স

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: