মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলার পর বন্দুকযুদ্ধে যুবক নিহত

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নাশকতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান ও জনতার রুদ্ররোষ অব্যাহত আছে। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকায় পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা করে পালানোর সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে এক বোমাবাজ। সারাদেশে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে দুই শতাধিক নাশকতাকারী। গত ৫ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী বিএনপির ডাকা অবরোধে সারাদেশে ধারবাহিকভাবে পেট্রোলবোমা আর ককটেল দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে অবরোধকারী ও তাদের সমর্থকরা। তারই ধারাবাহিকতায় এ নিয়ে গত একমাসে দেশব্যাপী টানা অবরোধ-হরতালে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হলো। দগ্ধ হয়েছে অন্তত কয়েক শ’ মানুষ। আর আহত হয়েছে একহাজারেরও বেশি। চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে কয়েক শ’ জনকে। ধারাবাহিক নাশকতায় গত মঙ্গলবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় মৃত্যু হয় আটজনের। আর গত ১৪ জানুয়ারি রংপুরে পেট্রোলবোমা হামলায় জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় পাঁচজনের। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। তারপরও থেমে নেই অবরোধ-হরতাল আহ্বানকারী ও তাদের দোসরদের তা-ব। প্রতিদিনই পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হচ্ছেন কেউ না কেউ। হামলার শিকার হচ্ছে যানবাহন, পুলিশের গাড়ি, যাত্রাবাহী বাস।

এদিকে কুমিল্লার লাঙ্গলকোটের তোঘরিয়ায় কুমিল্লা- নোয়াখালী মহাসড়কে বুধবার রাতে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলার সময় জনতার গণধোলাইয়ের শিকার হয় দুই বোমাবাজ জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলাম (৩৪) ও বিএনপি কর্মী নজরুল ইসলাম ফয়েজ (৩১)। তারা মোটরসাইকেলে পেট্রোলবোমা হামলার চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়ে।

এদিকে বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজধানীর মিরপুরের পূর্বমনিপুরীপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়িটি রাতে টহল দিচ্ছিল। এ সময় মনিপুরীপাড়ার গলি থেকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ হামলাকারীদের ধরতে গলিতে ঢুকে পিছু নেয়। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। আহত যুবককে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের পরিচয় মেলেনি। তবে নিহত যুবক বোমাবাজ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর দুটোর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানো সময় গণধোলাইয়ের শিকার হয় দুই বোমাবাজ। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাজারীবাগ থানাধানী বেড়িবাঁধ এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে বোমা হামলাকালে গণধোলাই দিয়ে জনতা পুলিশে সোপর্দ করে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ফিরোজ ও হাজারীবাগের টালী ইউনিট যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ উজ্জ্বলকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি শক্তিশালী বোমা। বুধবার দুপুরে বোমা হামলা করে পালানোর সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহাদাৎ হোসেন ও গোলাম কিবরিয়ার গণধোলাইয়ের শিকার হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পেট্রোলবোমা। গণধোলাইয়ের শিকার হওয়া নাশকতাকারীদের মধ্যে বুয়েট ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কাঠেরপুল এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই বোমাবাজের পরিচয় মিলেছে। এদের একজন মুজাহিদুল ইসলাম (৩৩)। অপরজন সাখাওয়াত হোসেন রাহাত (১৯)।

মুজাহিদুল ইসলাম লক্ষীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আবুল খায়ের ভূঁইয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার সকালে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোহাম্মদ সোহাগ তার ভাই মুজাহিদুল ইসলামের লাশ শনাক্ত করেন। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে খালাত ভাই রিপন রাহাতের লাশ শনাক্ত করেন। রাহাত লক্ষীপুর জেলার রায়পুর থানার লদুয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। বুধবার রাজধানীর ভাষানটেক থেকে উদ্ধারকৃত গুলিবিদ্ধ যুবক আল আমিন বলে জানা গেছে। নিহত আল আমিন টাঙ্গাইল জেলা সদরের টিলাবাড়ী এলাকার মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। নিহতের মামাত ভাই বিল্লাল হোসেন আল আমিনকে শনাক্ত করেন।

এদিকে নাশকতাকারীদের গ্রেফতারে সারাদেশে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। অভিযানে রাজধানী ঢাকা থেকে ৭৬ জনসহ সারাদেশ থেকে অন্তত দুই শতাধিক গ্রেফতার হয়েছে।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: