কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর মিছিলে এবার পুলিশ শামীম

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ বিএনপি-জামায়াতের টানা হরতালে অবরোধকারীদের পেট্রোলবোমা দগ্ধ হয়ে মৃত্যু মিছিলে এবার পুলিশ সদস্যের নাম যোগ হয়েছে। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম শামীম মিয়া (২৫)। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে দশটার দিকে ১৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে জীবনযুদ্ধে হেরে যান তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। শামীম মিয়া মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এতে বাড়ছে লাশের মিছিল ভারি হচ্ছে। দগ্ধদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘদিন হচ্ছে। এক মাসে বিএনপি টানা সহিংসতায় প্রায় অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইং উপ-কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শামীমের মাথায় স্পিøন্টার লেগেছিল।

মিডিয়ার উইং মাসুদুর রহমান জানান, গত ১৭ জানুয়ারি অবরোধের সমর্থনে রাতে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশভ্যানে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন ১৪ পুলিশ সদস্য। দগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুত্বর দগ্ধ কনস্টেবল শামীমকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেখতে গিয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার নির্দেশ দেন। শামীম মিয়ার উন্নত চিকিৎসা চলতে থাকে। কিন্তু শত চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো গেল না শামীম মিয়াকে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে দশটার দিকে ১৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে জীবনযুদ্ধে হেরে যান শামীম। তাঁর পিতার নাম লাল মিয়া। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশপুর থানাধীন কুমিতপুর গ্রামে। তিনি পুলিশের স্পেশাল আর্মড ফোর্সের (এসএএফ) সদস্য ছিলেন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শামীম তৃতীয় ছিলেন। বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজারবাগ পুলিশ লাইন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শামীমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার লাশ পুলিশের গাড়িতে করে তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। পুলিশের তরফ থেকে শামীম মিয়ার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলবাহিনীর সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াতের টানা দুই মাসের অবরোধের আগুনে এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ভোরে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারে ঢাকাগামী একটি বাসে পেট্রোলবোমা ছোড়া হলে আটজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি রংপুরে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে মারা যান পাঁচ বাসযাত্রী। এ নিয়ে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে ইতোমধ্যে মামলাও করেছে পুলিশ।

এদিকে বার্ন ইউনিটে এখন অবরোধকারী পেট্রোলবোমায় দগ্ধ সারি ভারি হচ্ছে। রীতিমতো বার্ন ইউনিটে এখন পোড়া মানুষের কষ্ট ও বেদনার আর্তনাদ আর স্বজনের কান্না ভারি হয়ে উঠেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রফেসর ডাঃ সামন্তলাল সেন জনকণ্ঠকে জানান, অবরোধকারীদের পেট্রোলবোমায় দগ্ধ ৬৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: