আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিল্পকলায় ‘লাল জমিন’ নাটকের ৭৫তম মঞ্চায়ন

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
শিল্পকলায় ‘লাল জমিন’ নাটকের ৭৫তম মঞ্চায়ন
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তের ডিঙ্গিয়ে চৌদ্দ বছর ছুঁই ছুঁই এক কিশোরী। তার দুচোখ জুড়ে মানিক বিলের আটক লাল পদ্মের জন্য প্রেম। কৈশোরেই শোনে বাবা মায়ের মধ্যরাতের গুঞ্জন। শুধু দুটি শব্দ কিশোরীর মস্তকে আর মনে জেগে রয়, মুক্তি-স্বাধীনতা। এ বয়সেই এক ছায়ার কাছ থেকে পায় প্রেম, সাড়া দেয় কি সে! বোঝে না কিশোরী। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্যরূপ ‘লাল জমিন’। শূন্যন রেপার্টরী থিয়েটার প্রযোজিত এবং মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ নাটকের ৭৫তম মঞ্চায়ন হয় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। নাটকে দেখা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে নানা বয়সের মানুষ নানাভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কেউ শহীদ হয়েছেন যুদ্ধের মাঠে, আবার কেউ বা পরবর্তীতে স্বাধীনতা বিরোধীদের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন। আর যারা আজও সেই গৌরব নিয়ে বেঁচে আছেন, তাঁরা কেমন আছেন? প্রাণচঞ্চলা কিশোরী নানা কৌশলে যুদ্ধে যাবার আয়োজন করে, সশস্ত্র যুদ্ধ। বয়স তাকে অনুমোদন দেয় না। এবার কিশোরীর সেই ছায়া প্রেম সম্মুখে দাঁড়ায়, কিশোরী তার সেনাপতিকে চিনতে পারে। তারপর করে যুদ্ধযাত্রা। লক্ষ্যে পৌঁছবার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা কেউ শহীদ হন, কেউ নদীর জলে হারিয়ে যান। পাঁচ যুবতীসহ যুদ্ধযাত্রী এই কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা অভিজ্ঞতা। চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদা জমিন নয় মাসে রক্তরাঙ্গা লাল হয়ে ওঠে। কিশোরীর রক্তরাঙ্গা অভিজ্ঞতায় পথ পরিক্রমায় প্রশ্নমুখর অভিব্যক্তিতে পরিণত হয়, কিশোরী পরিণত হন সংগ্রামী নারীতে। মান্নান হীরা রচিত এ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন-সুদীপ চক্রবর্তী। দর্শক নিবিষ্টচিত্তে উপভোগ করে মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনয়। মঞ্চায়নের নেপথ্য কারিগররা হলেনÑ ওয়াহীদা মল্লিক, জুলফিকার চঞ্চল, রামিজ রাজু, নীলা সাহা, আতিকুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, মীর্জা শাকিব, মোসাম্মৎ মমতাজ, জুয়েল মিজি, তানভীর সানি ও নিথর মাহবুব। নাটকটির ৭৬তম প্রদর্শনী হবে গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

শেষ হলো আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ছবি মেলা ৮ ॥ দেশী-বিদেশী আলোকচিত্রী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ছবি মেলা শেষ হলো বৃহস্পতিবার। এবার ছিল দৃক পিকচার লাইব্রেরি লিমিটেড ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ছবি মেলার অষ্টম আয়োজন। ছবি মেলার বিষয় ছিল ‘অন্তরঙ্গ’ এবং প্রায় ২২টি দেশ থেকে ৩০’র অধিক শিল্পীর কাজ এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। উৎসবে দেশী-বিদেশী আলোকচিত্রীদের মধ্যে ছিলেনÑ আবদোল্লাহ হ্যায়দারি, আলেকজান্দ্রা সেরানো, আন্দ্রে ডিফেনবাখ, আন্তোয়ান বরুই, আনোয়ার হোসেন, আর্থার বন্ডার, ক্রিস্টিনা নুনেজ, ডেনিস ডেইলাং, দিনেশ অবিরাম, হাদী উদ্দিন, যানা রোমানোভা, জান্নাতুল মাওয়া, কেভিন বুব্রিস্কি, ল্যারি টাওয়েল, লরা এল-তানতাউই, লুইস গনজালেয পালমা, মহেশ শান্তরাম, ম্যালকম হাচেসন, মারিয়া কাপায়েভা, ম্যাং পিনকারস, মিশেল লে বেলহোম, নেপাল পিকচার লাইব্রেরি (আর্কাইভ), পাওলো পাত্রিজি, ফিলিপ ব্লেনকিনসপ, রতিমি ফ্যানি-কায়োদে, শন লি, শিরিন নিশাত, সাইমন নরফোক, তাপশ পাল, তুশিকুর রহমান ও ইউসুফ সেভিনক্লি। অংশগ্রহণকারী এবং দর্শকদের মতে লেকচার, প্যানেল ডিসকাশন, আর্টিস্ট টক, গ্যালারি ওয়াক, কর্মশালা, পোর্টফোলিও রিভিউয়ের মতো আয়োজনগুলো এবারের ছবি মেলাকে আর বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। এবারের উৎসবে ছিল ৩২টি প্রিন্ট প্রদর্শনী, একটি ভিডিও প্রজেকশন এবং কিছু ইন্সটলেশন। এবারের প্রদর্শনীগুলো হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, দৃক গ্যালারি, পাঠশালা, আলিয়ঁস ফ্রসেঁজ, ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কট, জাতীয় জাদুঘর, বকুলতলা, বৃত্ত আর্টস ট্রাস্ট, বিউটি বোর্ডিং, নর্থব্রুক হল এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে। আর রিক্সাভ্যানে করে প্রদর্শনীর ছোটো ভার্সনগুলো তো বরাবরের মতো শহরময় ঘুরেছেই, গ্যালারি থেকে প্রদর্শনীকে ঘুরিয়ে বেরিয়েছে পথে পথে, সর্বস্তরের মানুষের কাছে। গত ২৩ জানুয়ারি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা হলে ছবি মেলা ৮-এর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এদিন তিনি ছবি মেলা-৮’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আলোকচিত্র জগতে অসামান্য অবদানের জন্য কিংবদন্তি আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের হাতে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন। ছবি মেলা ৮’র সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, এ্যাম্বাসি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ঢাকা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও গ্যাটে ইনস্টিটিউট।

আঁলিয়সে স্টান্ড-আপ কমেডি শো অনুষ্ঠিত ॥ বিনোদনের অন্যতম এক মাধ্যম কৌতুক। সে কৌতুক যদি হয়ে ওঠে হৃদয়গ্রাহী, শিল্পসম্মত এবং সপরিবারে উপভোগ করার মতো, তাহলে এমন সুযোগ হরাতে চাইবে না রসবোধ সম্পন্ন শ্রোতা। এমনই এক কৌতুকের আসর বসে আঁলিয়স ফ্রসেঁজ দ্য ঢাকার মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। উৎসুক শ্রোতাদের ভীড়ে মিলনায়তন কানায় কানায় ভর্তি। আঁলিয়স ফ্রসেঁজের আয়োজনে স্ট্যান্ড-আপ শিরোনামের এ কমেডি শোতে কৌতুক পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রথম সারির দুজন কমেডিয়ান নাভীদ মাহবুব ও ইয়ামিন খান। তারা সকল বয়সের দর্শকদের উপযোগী ও উপভোগ্য এ কমেডি অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করেন বাংলায়। নাভীদ মাহবুব ২০০৭ সালে আমেরিকার অরিজিনাল লাস ভেগাস কমেডি ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ পুরুষ কমেডিয়ান খেতাব অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ভারত, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ায় কমেডি শো করেছেন। এনটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্যা নাভীদ মাহবুব শো’র উপস্থাপক নাভীদ বাংলাদেশের সর্বপ্রথম কমেডি ক্লাব নাভীদ’স কমেডি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ামিন খান বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় কমেডিয়ান। তিনি যুক্তরাজ্যে কমেডি করতেন এবং পরে তার এ দক্ষতা বাংলাদেশে এনে তার হাস্যরসের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত নাভীদ’স কমেডি ক্লাবে এবং বিভিন্ন টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলে কমেডি পরিবেশন করে থাকেন।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: