কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাঁশি ফুঁ, গাড়ি থামিয়ে হর্ন বাজিয়ে জ্বালাও পোড়াওয়ের প্রতিবাদ

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আমাদের ওপর বোমা মেরো না- কোমলমতি শিশুরাও রাজপথে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বাঁশি ফুঁ দিয়ে ও গাড়ি থামিয়ে হর্ন বাজিয়ে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ জানালেন সর্বস্তরের মানুষ। শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচী পালিত হয়। এদিকে ‘সহিংসতা থামাও-পড়াশোনা করতে দাও/আমাদের ওপর বোমা মেরো না’ এই সেøøাগান নিয়ে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে হাজারো কোমলমতি শিশু। বৃহস্পতিবার রাজধানীজুড়েই ছিল সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচী ও মানুষ হত্যার প্রতিবাদে নানা আয়োজন। এসব কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ চলমান সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও ডাক দেন তারা। হর্ন বাজিয়ে ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

সচিবালয়ের সামনে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের পাশঘেঁষে আব্দুল গনি রোডে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা অনেক গাড়ি। দুপুর একটার কিছু আগে সচিবালয়ের সামনে বের হয়ে এলেন পাঁচজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। দুপুর একটার দিকে মন্ত্রীদের মুখে বেজে উঠল বাঁশি। বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই এক যোগে হর্ন বাজানো শুরু করল সারিবদ্ধ গাড়িগুলো। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও জোরে জোরে বাঁশি ফুঁকতে থাকলেন। পুরো একমিনিট ধরে চলল। অভিনব এই কর্মসূচী এখানেই শেষ নয়। বাঁশি আর গাড়ির হর্ন বাজানো শেষ হলো, এরপর সবাই নীরব। এই নীরবতায় কেটে গেল ১৫ মিনিট।

অবরোধ-হরতালের নামে সহিংসতা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে রেল, সড়ক ও নৌ-পথে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনে এক মিনিট হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচী দেশের অন্যান্য অংশের মতো এভাবেই পালিত হলো সচিবালয়ের সামনে। শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ডাকে দেশব্যাপী এ প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ ও সংহতি জানাতে দুপুর একটার কয়েক মিনিট আগে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সচিবালয় থেকে বের হয়ে ওসমানী মিলনায়তনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। সঙ্গে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ। এ সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা চলমান সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। জনগণের অংশগ্রহণে বিএনপি- জামায়াতের নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তাঁরা।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালনের আহ্বান কৃষি শ্রমিক অধিকার মঞ্চের

‘কৃষি শ্রমিক অধিকার মঞ্চ’ বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির মিলনায়তনে ‘বর্তমান সহিংসতা : কৃষি শ্রমিক, ক্ষদ্র কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের উপর অভিঘাত’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে। আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, টানা হরতাল আর অবরোধে কৃষক, কৃষি শ্রমিকসহ সর্বস্তরের শ্রমজীবী মানুষ নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে দুর্বিষহ ও যন্ত্রণাময়। চলমান হরতাল ও অবরোধের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় দেশের বৃহত্তম হাট, বাজার, মোকাম ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। ধান, আলু, শীতকালীন সবজি, দুধ, ফুল, ফলের দাম পাচ্ছেন না চাষীরা। চলমান সংকটে কৃষকদের দ্বারপ্রান্তে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা দিতে হবে। বক্তারা শ্রমজীবী মানুষদের রাজনীতির সঙ্গে না মিলিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা প্রদানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। কৃষি শ্রমিক অধিকার মঞ্চের সভাপতি অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, সহকারী নির্বাহী পরিচালক, রোকেয়া রফিক, মহসিন আলী, নীলুফার বানু, উম্মে হাসান ঝলমল, জাহিদ ইকবাল খান, মাহবুবা বেগম প্রমুখ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিবাদ

হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস বন্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে দেশে শান্তি ও সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হরতাল-অবরোধ আহ্বানকারী দল ও জোটের প্রতি ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমদের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ তাহের হোসেন, আব্দুল হাই মোল্যা, মুফতি সারোয়ার, আব্দুল মুবিন, সুলতানা পারসিয়া লুসি প্রমুখ।

‘সাধারণ মানুষের গায়ে বোমা মারবেন না’- ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ

সংঘাত পরিহার করে সমোঝতার ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে সভারের আমিনবাজার থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটারব্যাপী মানববন্ধন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীরসাহেব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে ‘জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট ও সহিংসতা নিরসনে অবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি’ শীর্ষক মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সবাই সাদা পতাকা হাতে শান্তির আহ্বান জানান। মানববন্ধনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে দুই দলের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আজ দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে তার জন্য সরকারকেই প্রধান ভূমিক পালন করতে হবে। সংগঠনের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম হেমায়েত উদ্দীন বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের মানুষ একাধিকবার দেখেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, তাই আমরা এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান চাই। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের গায়ে বোমা না মেরে গণভবনে মারুন। পারলে দু’পক্ষ মিলে যুদ্ধে নেমে যান। সাধারণ মানুষকে সহিংসতা থেকে মুক্তি দিন।

‘আমাদের বাঁচতে দাও’- শিশুরাও রাজপথে ॥ এবার রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলো কোমলমতি শিশুরাও। চলমান হত্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় তারা। পাশাপাশি নৈরাজ্য বন্ধ করাসহ শিক্ষিার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানায় তারা। তাদের সমস্বরে উচ্চারণ ছিল-‘আমাদের ভবিষ্যত নষ্ট করে দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। তাই আমাদের ধ্বংস করো না। এগিয়ে যেতে দাও...।’ বৃহস্পতিবার হাজারো শিক্ষার্থী বাড্ডা লিংক রোড থেকে মালিবাগ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে। বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষা হরতাল-অবরোধমুক্ত রাখার দাবি জানায়। শিক্ষক-অভিভাবকরাও তাদের সঙ্গে একত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। শিশুরা বলেন, আমরা শিশু, গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে আমাদেরও পুড়িয়ে মারছেন কেন?, আমাদের অপরাধ?- গলায় এমন প্রতিবাদী ব্যানার ঝুলিয়ে একটি শিশুকে এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। কোয়ালিটি লারনার্স হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ওই শিশু বলেছে, আমার মতো শিশুকে পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আমরাতো কোন অপরাধ করিনি। আমরাতো কারও সঙ্গে ঝগড়া করিনি। আমরাতো কাউকে বকা দেইনি। তাহলে আমাদের মারা হচ্ছে কেন?

খালেদাকে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান ইনুর

দেশব্যাপী নাশকতা সৃষ্টির জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দায়ী করে তাকে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বৃহস্পতিবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। খালেদাকে সন্ত্রাসের রানী ও বর্বর নেত্রী উল্লেখ করে ইনু বলেন, খালেদা জিয়া কষ্ট দিয়ে হত্যার রাজনীতি করেন। জনগণের রাজনীতি করেন না। জঙ্গীবাদের রাজনীতি করেন। বিএনপি জামায়াতের মদদপুষ্ট পেট্রোলবোমাবাজদের আগুনে যশোরে নিহত জাসদ নেতা নুরুজ্জামান পপলু ও তার কন্যা মাইশা এবং সিরাজগঞ্জের শ্রী গণেশসহ অসংখ্য মানুষ হতাহতের প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে দলটি। ইনু অভিযোগ করেন, ৭১’র হানাদারদের মতো খালেদা জিয়া মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছেন। তাকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করতে হবে। মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, শওকত রায়হান, রেজাউল করিম তানসেন প্রমুখ।

শনিবার মতিঝিলে কাদের সিদ্দিকীর সমাবেশ

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মতিঝিলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী জানান, ‘সহিংস অবরোধ প্রত্যাহার এবং আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান চলছে। তিনি জানান, সভায় ২ ঘণ্টার জন্য মাইক ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে গতকাল (বুধবার) ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

কূটনীতিকদের কাছে অবস্থান পরিষ্কার করবে বিরোধী দল

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলবেন রওশন এরশাদ। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে শনিবার সন্ধ্যার পর কূটনীতিকদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এ খবর নিশ্চিত করেছেন। বিরোধী দলের নেতার পক্ষ থেকে সন্ধ্যার মধ্যে জাতীয় পার্টির সকল সংসদ সদস্যকে হোটেল ওয়েস্টিনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংসদে সংরক্ষিত আসনসহ জাতীয় পার্টির ৪০ জন সদস্য রয়েছে। বাবলু বলেন, বিরোধী দলের নেতা কূটনীতিকদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। সেখানে আমরা সবাই থাকব।

সাংস্কৃতিক জোটের গণপদযাত্রা ॥

জ্বালাও পোড়াওসহ সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে গণপদযাত্রা কর্মসূচী পালন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি শাহবাগের প্রজন্ম চত্ব¡রে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের টিএসসির সামনে এসে শেষ হয়। নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান, মৃনাল কান্তি দে, এম এ পলাশসহ অনেক সাংস্কৃতিককর্মী এ পদযাত্রায় অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতালের নামে দেশব্যাপী পেট্রোল বোমা হামলা করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শত শত সাধারণ মানুষ বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এসব জ্বালাও-পোড়াওয়ের হরতাল-অবরোধ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

অংশ নেয় প্রতিবন্ধীও ॥ ঘড়ির কাঁটায় যখন দুপুর ১টা। হঠাৎ রেল ইঞ্জিনের টানা হুইসেল বাজছিল। তখন রেল অঙ্গনে অনেকেই ভাবছিল দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় পর জেনারেল ইলেকট্রিক রিপেয়ার (জিইআর) শপের সাইরেনটি মনে হয় ঠিক হয়েছে। মূলত সারাদেশে একযোগে মানববন্ধনের একটি অংশ ছিল পাহাড়তলীর লোকোশেড থেকে রেলের পূর্বাঞ্চলে টানা এক মিনিট সাইরেন বাজানোর নির্দেশনা ছিল জেনারেল ম্যানেজার (পূর্ব)-এর। এর আগে দুপুর পৌনে ১টা থেকে ১টা পর্যন্ত রাজনীতির কালো অধ্যায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্ব স্ব দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে ১৫ মিনিট মানববন্ধন করেন। সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি)-এর ডেপুটি ডাইরেক্টর অব পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা জোবেদা আক্তার জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলীয় জিএম মোজাম্মেল হক এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশব্যাপী বিরাজমান সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। পাহাড়তলীর লোকোশেড থেকে টানা এক মিনিট সাইরেন বাজানো এবং প্রতিটি ট্রেন যেখানে যে অবস্থায় চলমান ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট হুইসেল বাজানোর নির্দেশনা। এছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় রেল অঙ্গনে থাকা কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের সকলকে পনের মিনিট মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানানো।

পাহাড়তলীর চীফ কন্ট্রোলার অফিস স্টোরস দফতরের সামনে দেখা গেছে, এক প্রতিবন্ধীও মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। যার দুটি পা নেই। প্রতিবন্ধী কোটায় তার চাকরি হয়েছে কিছুদিন আগে। অফিস কর্মকর্তা কর্মচারীদের সকলেই হাতে হাত ধরে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন বাদ ছিল না ওই দফতরের কেউ।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: