মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

একটা মন্দ সময় বলতে হবে। এখন মানুষের ভোটের অধিকারের নাম করে বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে নির্দোষ-নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন মানুষ পুড়ে মরছে। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হচ্ছে। এরপরও থামছে না সর্বনাশা হরতাল-অবরোধ। রাজধানী ঢাকার মানুষ অবশ্য প্রথম থেকেই ধ্বংসাত্মক এসব কর্মসূচীর বিরুদ্ধে। সকাল হতেই যে যার কাজে যোগ দিচ্ছেন। অফিস- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারী-বেসরকারী অফিস দফতরে চলছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। টানা অবরোধের মাঝে রবিবার থেকে অব্যাহত আছে হরতালের কর্মসূচীও। এরপরও ঢাকার জীবনযাপনে খুব বেশি পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। বৃহস্পতিবার সারাদিন রাজধানী ছিল যানজটের শহর। ফার্মগেট, শাহবাগ, মিরপুর, মতিঝিল এলাকা ঘুরে গণপরিবহনের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে প্রাইভেটকার চলতে দেখা যায়।

অবশ্য এই হরতাল-অবরোধের অনেক ক্ষতি খালি চোখে ধরা পড়ে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশের ফুটপাথে বিছানার চাদর বিক্রি করেন হকার আমিন। ক্রেতা ধরতে নিজস্ব ভঙ্গিতে হাঁকডাক দিচ্ছিলেন তিনি। বেশ কিছু সময় তাঁকে অনুসরণ করে দেখা গেলো, বিক্রির সত্যি দুরবস্থা। ক্রেতা নেই। অবস্থা বর্ণনা করে তিনি বললেন, কত টাকা ধার-দেনা করে এই ব্যবসাটা করি। কিন্তু হরতাল-অবরোধে পড়ে একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছি। মাঝবয়সী হকার দুঃখ করে বলেন, কেউ আমাদের কথা ভাবে না। এরপর নিজেই নিজেকে যেন সান্ত¡না দেন। বলেন, তবুও তো পুড়ে মরিনি। গায়ে এখনও পেট্রোলবোমা পড়েনি। এ-ও বা কম কী!

এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার কথা। হ্যাঁ, ভারি সুন্দর একটি মেলা। রাজধানীর আর সব দুঃখ-কষ্টকে ভুলিয়ে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। মেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান এখন সরগরম। আজ শুক্রবার মেলা বিশেষ জমে উঠবে বলে আশা করছেন প্রকাশকরা। এছাড়া মেলায় আজ অনুষ্ঠিত হবে শিশু প্রহর। শিশু প্রহর উপলক্ষে বাচ্চাদের আগমন ঘটবে মেলায়। সুন্দর এ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় এখন বাংলা একাডেমি।

অদ্ভুত এক বিস্ফোরণের নাম শাহবাগ। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এখানে দুর্লভ এক আন্দোলনের সূচনা করেছিল তরুণ প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষ এতে যোগ দেন। দেখতে দেখতে জনসমুদ্রে রূপ নেয় শাহবাগ। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসির দাবিতে শুরু। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রাসঙ্গিক আরও কিছু দাবি। অভূতপূর্ব এ আন্দোলন বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকার ইতিহাসে যোগ করে নতুন অধ্যায়। আন্দোলন সূচনার দিন বৃহস্পতিবার তাই বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চের নাম। ঐতিহাসিক জাগরণের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত মানুষ সকাল থেকেই সমবেত হয়েছিলেন শাহবাগে। তবে, দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের! এখন জন্মদিনের কেকের মতোই কাটা শাহবাগ। আন্দোলনটি যাঁরা গড়েছেন, পরিচর্যা করেছেন তাঁদের অধিকাংশ মানুষই ছিলেন অনুপস্থিত। ফলে গৌরবের দিনে বেদনাও কম ছিল না প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: