কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সাঈদ সুমন এক স্বপ্নবাজ শিল্পীর নাম

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
সাঈদ সুমন এক স্বপ্নবাজ শিল্পীর নাম
  • অঞ্জন আচার্য

রেডিও-২০০৮ চালু করলেই ভেসে আসে একটি নাম- সাঈদ সুমন। এক উচ্ছল তরুণ অভিনেতার নাম। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই প্রাণবন্ত মানুষটি ক্রমাগত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলছেন অভিনয় জগতে। মূলত থিয়েটারের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও একযোগে কাজ করছেন টেলিভিশন, বেতারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। আজকের এই স্বপ্নবাজ সুমনের স্বপ্নের বুনন খুব ছোটবেলা থেকেই। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানীর মিরপুরের সরকারী কলোনিতে তখন আয়োজন করা হতো মঞ্চনাটক। সেই নাটক লেখা, পরিচালনা ও অভিনয় করার দায়িত্ব পড়ত ছোট্ট সুমনের ওপরই। নিজের আগ্রহেই দিন-রাত খেটে পাড়া-প্রতিবেশীকে আনন্দ দিতেন সদলবলে সুমন। বাবা একে মোশাররফ হোসেন ও বড় বোন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের অনুপ্রেরণায় অভিনয় ও লেখালেখির জগতে প্রবেশ তাঁর।

২০০৪ সালের কথা। নাট্যকার মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ‘আরণ্যক নাট্যদল’ আয়োজন করে এক কর্মশালার। সেখান থেকেই অভিনয়ের খুঁটিনাটি, চিত্রনাট্য লেখা, সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ নানা বিষয় শিখে নেন সুমন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ওই আরণ্যক নাট্যদলে কাজ করছেন একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে। আরণ্যকে কাজ শুরু করার পর প্রথম অভিনয়ে সুযোগ মেলে তাঁর নাট্যকার মান্নান হীরা রচিত ও নির্দেশিত ‘খেঁকশিয়াল’ পথনাটকে। প্রথম অভিনয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাঈদ সুমন বলেনÑ ‘নাটকটিতে যখন অভিনয় করার সুযোগ মেলে তখন একটু ভয়েই ছিলাম। অজান্তেই মনের জানালায় উঠে আসে এতবড় একটা দলের নাটকে কাজ করতে যাচ্ছি, অভিনয় ঠিকঠাক হবে তো? আমার সেই ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সেদিন। কারণ সকলেই সেদিন আমাকে বেশ সহযোগিতা করেছিল।’ এরপর আরণ্যকের হয়ে তিনি মঞ্চে অভিনয় করেছেনÑ ‘রাঢ়াঙ’, ‘এবং বিদ্যাসাগর’, ‘শত্রুগণ’, ‘স্বপ্নপথিক’, ‘কবর’, ‘ভঙ্গবঙ্গ’সহ অনেক নাটকে। ‘আগুনের ডালপালা’, ‘ঘুমের মানুষ’ পথনাটক করেছেন অভিনয়। এছাড়া শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটক অবলম্বনে করা দলের নিরীক্ষাধর্মী প্রযোজনা ‘টু বি অর নট টু বি’ নাটকেও অভিনয় করেন। সুযোগ আসে সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। মান্নান হীরা’র রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘গরম ভাতের গল্প’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকে তাঁর মিডিয়া জগতে কাজের পরিধি। টেলিভিশনের পর্দায় সুমনের পদর্পণ অনেক দিন ধরেই। ২০০৫ সালের দিকের কথা। বেসরকারী টেলিভিশন চ্যালেন ‘একুশে টিভি’-তে তানভীর হোসেন প্রবাল পরিচালিত স্যাটায়ার ম্যাগাজিন ‘ত্রিমূর্তি’-তে উপস্থাপনা করে দারুণ সাড়া ফেলেন তিনি। এরপর পরিচালক প্রবালের পরিচালনায় কাজ করেন টেলিফিল্ম ‘ডে জা ভু’, ‘সূর্য্য না তুই’, ‘বিউটি এ্যান্ড দ্য বিস্ট’ এবং বাংলাভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘অ-এর গল্প’-এর ৩০ থেকে ৩৫টি পর্বে দেখা তাঁকে বড় বড় ভূমিকায়। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ‘প্রাণ সরিষার তেল’, ‘প্রাণ রান্নার মশলা’, ‘রুখে দাও সহিংসতা’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’সহ বেশকিছু বিজ্ঞাপনে দেখা যায় সুমনকে। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত এ শিল্পী লিখেছেন বেশ কয়েকটি চিত্রনাট্য। কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে বিটিভির বিশেষ নাটক ‘ভালোবাসার পতাকা’ ও ‘দুঃখ’ নাটকের চিত্রনাট্য লেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ যাত্রা। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের গল্প ‘ফেরা’ অবলম্বনে বিটিভির মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ নাটকের চিত্রনাট্য তাঁরই করা। এছাড়া সেলিনা হোসেনের ‘পূর্ণ ছবির মগ্নতা’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘রতন’ নাটকের নাট্যরূপ করেন তিনি। সম্প্রতি সেলিনা হোসেনের ‘অপেক্ষা’ উপন্যাস অবলম্বনে ৪৬ পর্বের ধারাবাহিক নাটকের চিত্রনাট্য শেষ করেন সুমন। চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি লিখেন ছোটগল্প। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড হেল্থ অরগানাইজেশন’ এবং বিবিসির শিশু বিভাগের হয়ে বানিয়েছেন প্রামাণ্যচিত্র। সৃজনশীলতার তাড়নায় এক সময় যুক্ত হন প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ক্রিয়েটিভ বিভাগে। সেই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রের। কিন্তু ছন্নছাড়া এই শিল্পী মানুষটিকে বেঁধে রাখতে পারেনি নয়টা-পাঁচটা কর্মঘণ্টা। তাই নিশ্চিত মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে আবার নিজেকে মিলিয়ে দেন সৃষ্টিশীলতার অন্তহীন সাগরে। আবারও ফিরে আসেন অভিনয়, নির্দেশনা, লেখালেখি, বইপড়া, চলচ্চিত্র দেখা ও বন্ধুদের সঙ্গে অনাবিল আড্ডায়। সেই তাগিদেই তিনি গড়ে তুলেছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ড্রিম মেকার্স’ নামের এক স্বপ্নের কারখানা। পরিশ্রমী, উদ্যোমী এই স্বপ্নবাজ সুমনের স্বপ্ন রুচিশীল ও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় ও চিত্রনাট্য করার। মৃদু হেসে বললেনÑ ‘শিল্পের মাঝেই আমি সুখে ফিরি। তাই যে কোন শিল্পমানের কাজ পেলেই তা সহজেই গ্রহণ করি।’

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: