কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পদ্মা সেতুর প্রত্যাশিত ট্রায়াল পাইল ও হ্যামার আসছে আজ

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • পদ্মা সেতু
  • হরতাল-অবরোধের ছোঁয়া নেই ॥ মাওয়ায় বিশাল কর্মযজ্ঞ

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ পদ্মা সেতুর বহু প্রত্যাশিত ট্রায়াল (পরীক্ষামূলক) পাইল ও হ্যামার আসছে আজ বৃহস্পতিবার। পদ্মা সেতুর বিশাল এই চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে। এর পরে নৌ পথে আনা হবে মাওয়ায়। গত ২৩ জানুয়ারি চীন থেকে এ পাইল জাহাজে করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ২৯ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর হতে বিশাল ওজনের হ্যামারটি তুলে নেয়া হয় জাহাজে। এই চালানে রয়েছে ১০ পাইলের ৫০ টুকরো ও ১শ’ ৪৭ টন ওজনের হ্যামার। হ্যামারটি ৫ খ- বিশিষ্ট। এর মধ্যে বড় খ-টির ওজন ৫৭ টন। এই ওজন সড়ক পথে পরিবহন সহনীয় না হওয়ায় নদী পথে আনা হবে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে। পরীক্ষামূলক এ ১০ পাইল দিয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের দুই নম্বর পিলারের কাজ শুরু করা হবে। আগামী মাসের ২০ তারিখ এই ট্রায়াল পাইলের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেতু সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বুধবার সেতুস্থল পরির্দশন করেছেন। শুক্রবার বিশেষজ্ঞ দল সেতুস্থল পরিদর্শন করবেন। সাত সদস্যবিশিষ্ট দলটির নেতৃত্ব দেবেন দলের প্রধান প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

এসব পাইল বসাতে ইতোমধ্যে মাওয়ায় তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। এ মঞ্চ ব্যবহার করে ও নদীর ওপর ভাসমান ক্রেন হতে এসব পাইল বসানো হবে পদ্মার বুকে মাটির নিচে। এছাড়া ১২টি টেস্টিং পাইলের মধ্যে বাকি দুটি কনস্ট্রাকশন পাইল তৈরি করা হবে সেতুস্থলের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। চীনের এ পাইল কারখানাটি লৌহজংয়ের কুমারভোগে পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তীতে এখানেই তৈরি হবে সেতুর সকল মূল পাইল। অবরোধ হরতাল সত্ত্বেও মাওয়ায় দেশী-বিদেশী প্রায় ৬ হাজার সামরিক বেসামরিক লোক কাজ করছে। মাওয়ার বিশাল এই কর্মযজ্ঞ দেখে মনেই হবে না কোন অবরোধ-হরতাল হচ্ছে। স্বপ্নের এই সেতুর কাজ ক্রমেই এগিয়ে চলেছে। আড়াই কিলোমিটারের মাঝের চরের প্রায় ৬শ’ মিটার কাটা হয়ে গেছে।

প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২টি পিলারের ওপর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সর্ববৃহৎ এই সেতুটি নির্মিত হবে। ১৫০ মিটার পর পর এই পিলার। এছাড়া দেড় কিলোমিটার করে উভয় পারে তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতুর জন্য আরও ৩৪টি পিলার করা হবে। মূল সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ডিজাইন করার সময় ১৩টি পয়েন্টে মাটি পরীক্ষা হয়েছে। তাই মূল সেতুর বাকি ২৯ পয়েন্টে এখন মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি পয়েন্টের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আরও ২টি পয়েন্টের কাজ এগিয়ে চলছে।

পদ্মা এখন অনেকটা শান্ত, তাই নদীতে ভাসমান বড় বড় ক্রেন কাজ করে চলছে নির্বিঘেœ। বড় আকারের ড্রেজারগুলোও তাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করছে। তাই মাওয়ার যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থাই দেখা যাবে। তাই আলোচিত স্বপ্নের এই সেতুর বাস্তবায়নের জোর গতি দেখে এই অঞ্চলের মানুষ বেশ খুশি।

পদ্মা সেতুর কাজের সুবিধার্থে মাওয়া ঘাটকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কুমারভোগের শিমুলিয়ায়। প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ঘাটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

পদ্মা সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রীজ-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রধান মি. রেম ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দেশী-বিদেশী লোকবল কাজ করবে। এদের মধ্যে ৫শ’ চীনা নাগরিক ও ৩ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক ও কর্মকর্তা বিশাল এই নির্মাণে কাজ করবে। দুই শতাধিক চীনা প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও শ্রমিক বাংলাদেশে পদ্মা সেতুর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর লোহার প্লেট বা এ্যাঙ্গেল ভারত ও চীন থেকে কেনার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ইট, সিমেন্ট, পাথর, বালুসহ অন্যান্য সামগ্রী বাংলাদেশের ভেতর থেকেই কেনা হবে। তবে পদ্মা সেতুর একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, মালামাল যেখান থেকেই আনা হোক না কেন, মানসম্মত মালামাল না হলে তা কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করবে না। এসব মালামালের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে হবে। এছাড়া সেনাবাহিনীসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কর্মী এই সেতুর জন্য নিয়োজিত রয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগ্রেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ্ নূর জিলানী (পিএসসি) জানান, পদ্মা সেতু এলাকার মাওয়ায় ব্যাপক ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরী আপদকালীন প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ গত মে মাসে শেষ হয়েছে। তীর হতে নদীর দিকে প্রায় ১শ’ ৩০ মিটার পর্যন্ত স্তরে স্তরে বালুর বস্তা ফেলে নদীর তলদেশ সমান করে ভাঙ্গন রক্ষায় বাঁধ দেয়া হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর নদীর তলদেশে আধুনিক যন্ত্র দিয়ে জরিপ করে দেখা গেছে গেলো বর্ষায় এ কাজের কোন ক্ষতিই হয়নি। ফলে আপদকালীন বাঁধটি এ অঞ্চলের জন্য আপাতত নিরাপদই বলা যায়। প্রায় ১শ’ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নক্সা অনুযায়ী ১৩শ’ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনী বালুর মান পরীক্ষার জন্যও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। ১৪ লাখ জিও ব্যাগ ভর্তি বালু নদীতে ফেলা হয়। প্রাথমিক ও জরুরী ভিত্তিতে এ তীর রক্ষা বাঁধ দিয়ে পদ্মা সেতুর এ এলাকাকে নদী ভাঙানের হাত হতে রক্ষা করা হচ্ছে। মূলত সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগ্রেড ২০ বেঙ্গল ব্যাটালিয়ান পদ্মা সেতুর সকল ধরনের নিরাপত্তার কাজ করছে। আর ২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ানের কর্নেল সারোয়ারের নের্তৃত্বে পদ্মা সেতুর এ প্রান্তে প্রায় ২ কি.মি. এপ্রোজ সড়কের কাজ চলছে। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি এসব কাজ সেতু কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: