মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

খালেদার অফিসের সামনে ফের বিক্ষোভ, মানববন্ধন

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
খালেদার অফিসের সামনে ফের বিক্ষোভ, মানববন্ধন
  • অংশ নিলেন পরীক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবকরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে উপেক্ষা করে বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। পরীক্ষার মাঝে হরতাল-অবরোধ-নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে আবারও বিক্ষোভ-মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। কার্যালয় ঘেরায়ের পরও বিএনপি-জামায়াত নাশকতার পথ পরিহার না করায় বুধবার পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা নাশকতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা নির্ধারিত সময়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে না পারার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দায়ী করে অবিলম্বে নাশকতা বন্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। এদিকে আজ সকাল ১০টায় খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে দেশের কারিগরি শিক্ষা সেক্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এর আগে গত শনিবার নতুন প্রজন্মের স্বার্থবিরোধী এ কর্মসূচী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করেছিল বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। কিন্তু তাতেও বিএনপি তার অবস্থার পরিবর্তন করেনি। হরতাল ও অবরোধে পিছিয়ে যাচ্ছে একের পর এক পরীক্ষা। এমন অবস্থার মধ্যেই বুধবার হরতাল-নৈরাজ্য বন্ধ করার দাবিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে রাজধানীর ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫শতাধিক ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক। তারা নির্ধারিত সময়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে না পারার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দায়ী করেছেন। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন সেøাগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড বহন করে তারা সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ডে লেখা ছিলÑ ‘এসএসসি পরীক্ষা বন্ধ কেন, খালেদা জিয়া জবাব চাই’, ‘খালেদা জিয়া আমাদের পেট্রোলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারবেন না’, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদ-’, ‘খালেদা জিয়া বাঁচতে চাই, শান্তি চাই’,‘আসুন হরতাল-অবরোধ বর্জন করি’, ‘খালেদা জিয়া আমাদের কী দোষ জবাব দিন’, ‘স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ চাই’, ‘পরীক্ষার সময় আর হরতাল দেখতে চাই না’।

মানববন্ধন করার কারণ জানতে চাইলে গুলশান মডেল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী সোহাগ ও অনিক সমস্বরে বলেন, আমরা পরীক্ষা দিতে চাই। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হরতাল ডেকে আমাদের পরীক্ষা দিতে দিচ্ছে না। আমরা কি দোষ করেছি। আমরা তো রাজনীতি করি না। ক্যামব্রিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজের ছাত্র সাজ্জান হোসেন রনি বলেন, খালেদা জিয়া হরতাল দিয়ে আমাদের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে তাই তার কাছে দাবি জানাতে এসেছি আমরা যেন এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারি এবং পরীক্ষার সময় যেন আর হরতাল দেয়া না হয়। একই স্কুলের আরেক ছাত্র শিমুল বলেন, আমরা এমন রাজনীতি চাই, যে রাজনীতি আমাদের পরীক্ষা ও শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলবে না। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুলশান মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এম মোস্তফা জামান বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। অথচ সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে এ মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা দিতে দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। তাই বিবেকের তাড়নায় মানববন্ধনে যোগ দিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা সহিংসতা চাই না। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শিক্ষাকে রাজনীতির উর্ধে রাখা হোক। আর রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করা হোক, পরীক্ষা বন্ধ করে নয়। পরীক্ষা দিতে গিয়ে যেন কোন মায়ের কোল খালি না হয় সে দাবি জানাতে আমরা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে এসছি। গুলশান মডেল স্কুল ও কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার স্বার্থেই যথাসময়ে পরীক্ষা হতে হবে। আর ছাত্ররা যাতে নির্বিঘেœ পরীক্ষা দিতে পারে সে দাবি জানাতে এখানে এসেছি।

মানববন্ধন শুরুর আগে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার (ঢাকা ১৭ আসন) সংসদ সদস্য ও বিএনএফ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, হরতাল, অবরোধ ও নৈরাজ্য প্রত্যাহার করুন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে হরতাল-অবরোধ বন্ধ করা হোক। তারা যেন নির্বিঘেœ পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পরীক্ষা শেষ হলে হরতাল দিন এতে আমাদের আপত্তি থাকবে না। এ সময় আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে ছিলেন গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিলউদ্দিন আহমেদসহ কয়েক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। মানববন্ধনে ছিল গুলশান মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ক্যামব্রিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজ, কালাচাদপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ, বনানী বিদ্যা নিকেতন, বনানী মডেল স্কুল, উত্তরা হাইস্কুল ও নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল এ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

এদিকে পরীক্ষার সময়সূচীর মধ্যে ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরীক্ষার মাঝে হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘দুই নাতনিকে পরীক্ষা দিতে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া। অথচ হরতাল-অবরোধের নামে সহিংসতা করে দেশের ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আপনি দেশের পরীক্ষার্থীদের কথা ভাবলেন না, ভাবলেন শুধু নাতনিদের কথা। বাংলাদেশ গণতন্ত্র রক্ষা পরিষদ, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ফ্রন্ট কর্মসূচীর আয়োজন করে। ঢাকার বাইরেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। পরীক্ষা চলাকালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতাল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন। বুধবার সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধনে কর্মসূচী পালন করা হয়। পরীক্ষার মাঝে সহিংসতা বন্ধের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) প্রতিবাদ র‌্যালি, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়েট ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় র‌্যালিটি। পরে ফুলবাড়ী গেটে মানববন্ধন ও ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। ‘আমরা কুয়েট পরিবার’ এর আয়োজনে কর্মসূচীর উদ্বোধন ও র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, প্রকৌশলী হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র সাইমুন ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের শওরীন বড়ুয়া প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: