আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আফগান সরকার চলছে না

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
আফগান সরকার চলছে না
  • এনামুল হক

আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশের আধুনিকায়ন এবং দুর্নীতির মূল্যেৎপাটনে আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেও তাঁর সরকার ক্রমশ নিষ্ক্রিয় ও অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ১৩ বছর ধরে যে নতুন আফগান রাষ্ট্র নির্মিত হয়েছে সেটাকে এই সরকার কতখানি শক্তিশালী করতে ও টিকিয়ে রাখতে পারবে সেটাই এখন সবার প্রশ্ন।

ব্যক্তিগতভাবে আশরাফ ঘানি একজন উদ্যমী পুরুষ। প্রচুর পরিশ্রম করতে জানেন। গত তিন মাসে ঠিকমতো ঘুমিয়েছেন কি-না সন্দেহ। মাইক্রো ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসী এই মানুষটির বড় বড় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা আছে। তালেবানদের পুনরুত্থান রোধের চেষ্টাও করছেন তিনি। তারপরও তাঁর সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা তো দূরের কথা বরং ব্যর্থতারই পরিচয় দিয়ে চলেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো নয়া প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাস পরও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজেই এ ব্যাপারে পেশ করার ডেডলাইন দিয়েছিলেন। কোনবারই তা রক্ষা করতে পারেননি। ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের বেশিরভাগ সিনিয়র পদ অপূর্ণ থাকায় মন্ত্রণালয়গুলোতে ফোন আসলেও সে ফোনের জবাব দেয়ার কেউ থাকছে না। শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছে না। আফগানরা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে ইতোমধ্যে অচল হয়ে পড়া সরকারের যেটুকু দিকনির্দেশনা ছিল সেটুকুও তারা হারিয়ে ফেলেছে।

সরকারের এই নাজুক অবস্থার জন্য ঘানিকে সবটুকু দোষ দেয়া চলে না। বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ঘানি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে নিয়ে এডহক কোয়ালিশন সরকার গঠন করলেও মন্ত্রিসভায় কাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে সে প্রশ্নে একমত হতে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। শোনা যায় যে আবদুল্লাহ অর্ধেকসংখ্যক পদ তার দলীয় লোকজনের জন্য চান। তার দল হলো তাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক। অন্যদিকে গনি হলেন পশতু সম্প্রদায়ের। কাজেই এ দুজনের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।

একটা বিশেষ সমস্যা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিয়ে। আফগানিস্তানে পুলিশের সংখ্যা হলো দেড় লাখ। পুলিশ বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। পুলিশ বাহিনীর হাতে যেমন অস্ত্রের ছড়াছড়ি আছে তেমনি এই বাহিনী ঘুষ দুর্নীতিতেও জর্জরিত। আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তাঁর অনুগত কাউকে বসাতে চান। তার সেই চেষ্টায় বাদ সেধেছেন ঘানি। তিনি দাবি করেছেন যে আফগান পুলিশের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের যে ব্যবস্থা আছে তার ওপর জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। লক্ষ্যটা ভাল সন্দেহ নেই। তবে গনি এজন্য যে ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সেই সময়সীমার মধ্যে ঐ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

দেশের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের ক্ষমতা বাড়ানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো তালেবানদের বিপজ্জনক শক্তিবৃদ্ধি থামিয়ে দেয়া। ইতোমধ্যে তালেবানরা ২০০৯ সালের পর মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর দখল করা ভূখ- পুনদর্খল করে নিয়েছে। নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকলে স্থিতিশীলতা রক্ষা ও তালেবানদের রাশ টেনে ধরা কোনটাই সম্ভব নয়। কোয়ালিশন সরকারের সামর্থ্যরে ওপর আফগানরা আস্থা হারিয়ে ফেললে তো আরও নয়। গত বছর আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ছিল ভয়ঙ্করতম বছর। ঐ এক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়। ২০০১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আফগানিস্তানে মোট যত মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে এই সংখ্যা তার দ্বিগুণেরও বেশি।

সুতরাং স্বদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও সরকারের শক্তিসামর্থ্য বৃদ্ধি- দুটোই আজকের আফগান সরকারের জন্য একান্তই প্রয়োজন। গনি-আবদুল্লাহ সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সাম্প্রতিককালে সে সব সাফল্য অনেক কষ্ট করে অর্জিত হয়েছে, সেগুলো হেলায় হারিয়ে যাবে এবং আফগানিস্তানের অবস্থা আজকের ইরাকের মতো হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: