কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অসিদেরই দারুণ সুযোগ

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

স্বাগতিকদের ঘিরে সবসময়ই থাকে বাড়তি আকর্ষণ। মাঠের পারফর্মেন্সে এবার সেই আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া! সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ড, তবে ১১তম ক্রিকেট বিশ্বকাপের সব আবর্তিত হবে কুলীন অসিদের ঘিরে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও প্রবল প্রতিপক্ষ ইংলিশদের পেছনে ফেলে কার্লটন মিড ত্রিদেশীয় ওয়ানডের শিরোপা জিতে তলোয়ার ভালমতোই শাণিয়ে নিয়েছে স্টিভেন স্মিথ, জর্জ বেইলি, মাইকেল ক্লার্কের দল। অসি স্কোয়াডে তৈরি হয়েছে অসাধারণ সমন্বয়। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের কথাই ধরুন। দলীয় ৬০ রানে চতুর্থ ও ২১৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও পৌনে তিন শ’ ছাড়ানো স্কোরের রূপকার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল মার্শ ও জেমস ফাকনার। ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ তিন বড় তারকা ডেভিড ওয়ার্নার, অধিনায়ক বেইল আর ওপেনার এ্যারন ফিঞ্চ, ‘অনসাং’ তিন হিরোর ব্যাট অসিদের তা টেরই পেতে দেননি!

২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বিশ্বকাপ রিহার্সেলের চূড়ান্ত ম্যাচটি তারা জিতে নিয়েছে ১১২ রানের বিশাল ব্যবধানে। প্রথমে ব্যাট হাতে ৯৫ রান করে ও পরে চমৎকার বোলিংয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ফাইনালের নায়ক গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আয়োজন জুড়ে দুর্বার বোলিংয়ে সিরিজসেরা অসি পেসার মিচেল স্টার্ক। র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত ও কুলীন ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজটিকে দেখা হচ্ছিল বিশ্বকাপের রিহার্সেল হিসেবেই, তাতে দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের আগাম ইঙ্গিত দিয়ে রাখল অসিরা। গত বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর মাঝের চার বছরে এই অস্ট্রেলিয়া যে কতটা ‘টিম অস্ট্রেলিয়া’ হয়ে উঠেছে তা আর একবার দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। ‘ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের জয়ই বড়। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এ সাফল্য বিশ্বকাপেও বয়ে নিতে চাই।’ বলেন ফাইনালে নায়ক ম্যাক্সওয়েল।

প্রায় একই সুর অধিনায়ক বেইলর কণ্ঠে, ‘ম্যাক্স-মার্শ অসাধারণ খেলেছে। বল হাতে জনসনও ছিল অসাধারণ। সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমরা এ ফর্ম বিশ্বকাপে বয়ে নিতে চাই।’ ৫ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার বগলদাবা করা মিচেল স্টার্কেরও প্রশংসা করেন তিনি। এক কথায় অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে অসিরা। চার টেস্টের সিরিজে ভারতকে ২-০তে গুঁড়িয়ে দেয়ার পর ওয়ানডেতেও ছুটছে স্বাগতিকদের বিজয় রথ। উদ্বোধনী ম্যাচেই ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে, পরের ম্যাচে ভারতকেও ৪ উইকেটে এবং দ্বিতীয় মোকাবিলায় ইংল্যান্ডকে ফের ৩ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক, র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ও সবচেয়ে বেশি ৪ বারের শিরোপাধারী (১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭) হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার দিকে থাকছে বাড়তি দৃষ্টি। ১৯৭৫ ও ১৯৯৬ সালের রানার্সআপ কুলীন অসিরা এ পর্যন্ত দশ বিশ্বকাপের ছয়টিতেই ফাইনালে ওঠে! অবশ্য গতবার উপমহাদেশের কন্ডিশনে মোটেই ভাল করতে পারেনি তারা। এবার ঘরের মাটিতে, পরিচিত বাউন্সি কন্ডিশনে খেলা। তার ওপর মাঝের এই সময়ে নিজেদের বেশ গুছিয়ে নিয়েছে তারা। যার প্রমাণ র‌্যাঙ্কিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে অসাধারণ ক্রিকেট খেলছেন মিচেল জনসন, স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, রায়ান হ্যারিসরা। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে চিরশত্রু ইংল্যান্ড ও চ্যাম্পিয়ন ভারতকে নাস্তানাবুদ করে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠে তারা। যদিও ইনজুরির জন্য নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে নিয়ে রয়েছে ঘোরতর অনিশ্চয়তা। কিন্তু দুর্দান্ত দলীয় নৈপুণ্যে যে ব্যক্তিগত দুর্বলতা জয় করা যায়, অস্ট্রেলিয়ার এই দলটি তারই উদাহরণ। শিরোপা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নৈপুণ্যেও আলো ছড়াতে চায় অসিরা। অস্ট্রেলিয়ার তুরুপের তাস হয়ে হাজির হতে পারেন মিচেল জনসন। সতীর্থরা ডাকেন ‘মিসাইল’ জনসন। এমনিতে নয়, বল হাতে মিসাইলের মতোই ভয়ঙ্কর তার ডেলিভারি। কুপোকাত বিশ্বের রাঘববোয়াল উইলোবাজ। গত কয়েক বছর বিশ্ব ক্রিকেটে ত্রাস সব বোলারদের কাতারে জনসনের নাম থাকবে সবার ওপরে। সর্বশেষ আইসিসির বর্ষসেরার স্বীকৃতিই প্রমাণ করে আবেগ নয়, সাফল্যেও দুর্বার এই অসি পেসার। ঘরের মাটিতে, পরিচিত দর্শক-কন্ডিশনের সামনে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য সত্যিকারের যমদূত হয়ে হাজির হতে পারেন ৩৩ বছর বয়সি গতি তারকা। আসর শেষে হয়ে উঠতে পারেন তারকাদের তারকা, ট্রফিজয়ের নায়ক! এত কিছুর মাঝেও অসিদের মনে সামান্য খটমটে ভাব ক্লার্ককে নিয়ে। মানবিক কারণে মাইকেল ক্লার্ককে বিশ্বকাপ দলে রেখে শেষ পর্যন্ত কি বিপদেই না পড়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড (সিএ)! গত এক বছর ধরে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি ও পিঠের ব্যথায় বিধ্বস্ত নিয়মিত অধিনায়ক। খেলতে পারেননি বেশ কিছু ম্যাচে। তারপরও অধিনায়ক হিসেবেই আছেন বিশ্বাকপের চূড়ান্ত দলে। এ নিয়ে এখন নাকি দলের ভেতরে ঝামেলা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় মিডিয়ার দাবি, খোদ সতীর্থরাই ইনজুরিগ্রস্ত ক্লার্ককে চাইছেন না! অনেকে চাইছেন, দুদিন আগে তিন বিভাগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতে নেয়া স্টিভেন স্মিথকে সব ফরমেটে অধিনায়ক করা হোক। শেষ পর্যন্ত ক্লার্ককে বাদ দেয়া হবে কী না সময়েই উত্তর মিলবে। তবে প্রধাণ নির্বাচক, প্রধান কোচ সবাই জোর দিয়ে বলেছেন, সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি থাকবেন এবং নেতৃত্বও দেবেন। ডাক্তার বলেছেন, পুরোপুরি সেরে উঠলে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচই হবে হবে ক্লার্কের চূড়ান্ত ফিটনেস টেস্ট। যদিও এর আগেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে যাবে স্বাগতিকদের বিশ্বকাপ মিশন। সব মিলিয়ে ক্লার্ককে নিয়ে মোটেই স্বস্তিতে নেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যদিও তার অনুপস্থিতিতে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন জর্জ বেইলি। বেইলির অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন স্মিথও। তবে অসি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর। প্রায় সেরে ওঠা ক্লার্ক দুদিন আগে স্থানীয় ম্যাচে নেমে খেলেছেন হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: