কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্টেফিকে ছোঁয়ার স্বপ্ন সেরেনার

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
স্টেফিকে ছোঁয়ার স্বপ্ন সেরেনার
  • মাহমুদা সুবর্ণা

বয়স-প্রতিপক্ষ কোন কিছুই যেন বাধা নয় তাঁর। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে তা আরেকবার প্রমাণ করলেন সেরেনা উইলিয়ামস। শনিবার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারের ১৯তম গ্র্যান্ডসøাম জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। এখন তাঁর চোখে শুধুই টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ ২২টি গ্র্যান্ডসøামজয়ী স্টেফি গ্রাফকে ছুঁয়ার স্বপ্ন।

বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও মারিয়া শারাপোভা। এই দুই তারকাকেই পেয়েছিল মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আর সেই লড়াইয়ে সেরেনা উইলিয়ামস ৬-৩ এবং ৭-৬ (৭/৫) গেমে পরাজিত করেন শারাপোভাকে। এর ফলে ২০১০ সালের পর আবারও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা নিজের শোকেসে তুললেন আমেরিকান টেনিস তারকা। আর এই শিরোপা জয়ের পর উল্লাসও করলেন দারুণভাবে। টেনিস কোর্টের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শারাপোভাকে হারিয়ে সেরেনা উইলিয়ামস উচ্ছ্বাস করলেন লাফিয়ে শূন্যে ভেসে। চিরচেনা ভঙ্গিতে। যার রেশ এখনও কাটেনি। নতুন বছরের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন সংবাদ সম্মেলনেও, ‘একটি বল এবং একটি র‌্যাকেট নিয়ে কোর্টে নেমেছিলাম আমি। আর এখানে দাঁড়িয়ে আছি ১৯টি গ্র্যান্ডসøাম নিয়ে। যা কখনই ভাবিনি আমি। এই শিরোপা জিতে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত।’

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের আগে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা এবং ক্রিস এভার্টের সঙ্গে ১৮টি গ্র্যান্ডসøাম জিতে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় ছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। ফাইনাল জিতে কিংবদন্তি নাভ্রাতিলোভা এবং ক্রিস এভার্টকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয়স্থানটি দখল করে নিলেন টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই। এখন তাঁর সামনে কেবল স্টেফি গ্রাফের অবস্থান। ১১টি গ্র্যান্ডসøাম জিতে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্ট। ৯টি জিতে পঞ্চম স্থানে আছেন আমেরিকার মনিকা সেলেস। উন্মুক্ত যুগে ২২টি গ্র্যান্ডসøাম জিতে সবার উপরে অবস্থান করছেন যিনি। স্টেফি গ্রাফকে ছুতে হলে আরও তিনটি মেজর শিরোপা জিততে হবে সেরেনা উইলিয়ামসের। তেত্রিশ বছর বয়সেও আমেরিকান তারকা যেভাবে ছুটছেন স্টেফি গ্রাফকেও ছাড়িয়ে যাওয়া এখন তাঁর কেবল সময়ের ব্যাপার।

১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ডসøাম জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। আর ১৯তম গ্র্যান্ডসøাম জিততে তাঁর লেগেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়। এই সময়ে অনেক-ঝড়-ঝঞ্ঝা, বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কখনই হতাশ হননি সেরেনা উইলিয়ামস। আর এ কারণেই আজ নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তির তালিকায়। ২০১১ সালে তো চোটের কবলে পড়ে হুমকিতেই ছিল সেরেনার ক্যারিয়ার। যে কারণে দীর্ঘ ১২ মাস কোর্টের বাইরে ছিটকে পড়তে হয় তাঁকে। তারপরও ধৈর্য ধরেছেন সেরেনা। আর তারই ফসল এই ১৯তম গ্র্যান্ডসøাম জয়ের মাইলফলক। নতুন বছর দারুণভাবে শুরু করতে পারায় তাঁর স্বপ্নটাও বেড়ে গেছে আরও। বিশেষ করে স্টেফিকে ছুঁয়ার স্বপ্নে বিভোর এখন এই আমেরিকান তারকা। মারিয়া শারাপোভাকে হারানোর পরই সেই ইচ্ছের কথা জানান সেরেনা উইলিয়ামস। এ বিষয়ে ১৯টি গ্র্যান্ডসøামজয়ী আমেরিকান এই টেনিস তারকা বলেন, ‘২২টি গ্র্যান্ডসøাম জিততে পারলে আমারই ভাল লাগবে...১৯টি গ্র্যান্ডসøাম জিততেই অনেক কষ্ট হয়েছে। এখানে আসতে আমার তেত্রিশ বছর সময় লেগেছে। তাই ২২টি গ্র্যান্ডসøাম জিতলে ভালই লাগবে। কিন্তু আগে তো আমাকে ২০টি গ্র্যান্ডসøাম জিততে হবে। এরপর ২১। তবে এখন অনেক তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক। তাই এই কাজটা হবে অনেক কঠিন।’

তবে দুভার্গ্য মারিয়া শারাপোভার। ২০০৪ সালে শেষবারের মতো সেরেনা উইলিয়ামসের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছিলেন মারিয়া শারাপোভা। এরপর আর কখনই জয় পাননি রুশ সুন্দরী। তবে শনিবার সেরেনার বিপক্ষে এক দশকের জয়-খরা ঘুচাতে আশাবাদী ছিলেন শারাপোভার ভক্তÑঅনুরাগীরা। কিন্তু প্রথম সেটে শারাপোভাকে যেন উড়িয়েই দিলেন সেরেনা। প্রথম সেট একপেশে জিতলেও দ্বিতীয় সেটে ঠিকই লড়াইয়ে ফিরেন শারাপোভা। কিন্তু লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় বাছাই মাশা। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। এর পরের বছরগুলোতে হতাশায় কেটেছে তাঁর। এবার সেই সুযোগ এলেও তা কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা নিঃসন্দেহে শারাপোভাকে আঘাত করবে ক্যারিয়ারের বাকিটা জীবন। তবে হারলেও সেরেনা উইলিয়ামসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শারাপোভা। এ বিষয়ে ২৭ বছর বয়সী এই রাশিয়ান গ্ল্যামারগার্ল বলেন, ‘ইতিহাস গড়ার জন্য সেরেনা উইলিয়ামসকে অভিনন্দন জানাই আমি। প্রকৃতপক্ষে অসাধারণ খেলেছে সে। আমি তাকে দীর্ঘ সময় ধরেই হারাতে পারছি না ঠিকই। কিন্তু তার বিপক্ষে টেনিস কোর্টে খেলতে আমার খুবই ভাল লাগে। সে এমন একজন খেলোয়াড় আসলেই যাকে কোর্টে হারানোটা খুব কঠিন ব্যাপার।’ মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সী মহিলা হিসেবে শিরোপা জয়ের রেকর্ডও গড়লেন সেরেনা। এর ফলে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটা নিজের করে রাখার সুযোগ পেলেন তিনি। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৯টি গ্র্যান্ডসøাম, দীর্ঘ সময় র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল ছাড়াও অসামান্য সব কীর্তি গড়েছেন সেরেনা। এসব কীর্তি গড়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন ইতিহাসের সোনালি পাতায়। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেছিলেন জোকোভিচ। এটাই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জয়। এর পরের দুটি মৌসুমে ব্যর্থ হন তিনি। তবে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেন জোকোভিচ। গত মৌসুমে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। চতুর্থ পর্বে সুইজারল্যান্ডের তরুণ প্রতিভাবান তারকা স্টানিসøাস ওয়ারিঙ্কার কাছে পরাজয় মানেন এই সার্বিয়ান। তবে এবার আর শিরোপা হাতছাড়া করেননি জোকোভিচ। ফাইনালে দারুণ লড়াইয়ে এ্যান্ডি মারেকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেন ২৭ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: